leadT1ad

বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসে একজনের মৃত্যুর কথা জানাল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

নিপাহ ভাইরাস নিয়ে গবেষণা করতে একটি বাদুড় নিয়ে ল্যাবে দুই গবেষক। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলেছে, বাংলাদেশে বাদুড়বাহিত নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে সংস্থাটির ধারণা, এই মৃত্যুর পরও এই ভাইরাস আন্তর্জাতিকভাবে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এখনো কম।

আজ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই রোগী গত ২৮ জানুয়ারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। পরদিন তাঁর সোয়াব ও রক্ত পরীক্ষায় নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।

এক বিবৃতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ইন্টারন্যাশনাল হেল্থ রেগুলেশনস ন্যাশনাল ফোকাল পয়েন্ট (আইএইচআইর এনএফপি) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে রাজশাহী বিভাগে নিপাহ ভাইরাসে একজন সংক্রমণের বিষয়টি অবহিত করে।

সংস্থাটি আরও জানায়, নওগাঁ জেলার বাসিন্দা ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সী এক নারীর দেহে নিপাহ ভাইরাস শনাক্ত হয়। গত ২১ জানুয়ারি থেকে তার শরীরে জ্বর এবং স্নায়বিক উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করে। ওই নারীর সাম্প্রতিক সময়ে কোনো ভ্রমণের ইতিহাস ছিল না। তবে তিনি খেজুরের কাঁচা রস পান করেছিলেন।

আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা আরও ৩৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত নতুন করে আর কারো শরীরে ভাইরাসটির উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।

এদিকে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নিপাহ ভাইরাসে দুইজন সংক্রমণের প্রায় এক সপ্তাহ পর বাংলাদেশে এতে সংক্রমিত হয়ে একজনের মৃত্যুর ঘোষণা এলো। পশ্চিমবঙ্গ কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা সংক্রমণ যাতে না ছড়ায় সেই জন্য তারা কাজ করছে। এখনো ভাইরাসটি নিয়ন্ত্রণে আছে।

পশ্চিমবঙ্গে নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব চীন এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য স্ক্রিনিং বা পরীক্ষা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, বর্তমান তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তারা এখনই কোনো দেশ ভ্রমণ বা বাণিজ্যের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের সুপারিশ করছে না।

আন্তর্জাতিক সংস্থাটির মূল্যায়ন অনুযায়ী, জাতীয়, আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে নিপাহ ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি বর্তমানে বেশ কম। আন্তর্জাতিকভাবে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এখনো কম বলে মনে করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০০১ সাল থেকে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৪৮ জন নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের প্রায় অর্ধেকেরই খেজুরের কাঁচা রস পানের ইতিহাস রয়েছে।

ডব্লিউএইচও’র মতে, এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব সাধারণত ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত মৌসুমি ভিত্তিতে দেখা দেয়। খেজুরের রস সংগ্রহ এবং তা পানের সঙ্গেই এই সংক্রমণের সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে।

বর্তমানে এই সংক্রমণের সুনির্দিষ্ট কোনো অনুমোদিত ওষুধ বা টিকা নেই। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে মৃত্যুর হার অনেক বেশি—যা প্রায় ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ।

Ad 300x250

সম্পর্কিত