ধর্মের অপব্যাখ্যা করে দেশে কোনো ধরনের অরাজকতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, ধর্মীয় বিষয়ে কেবল হক্কানি আলেম-ওলামাদের ব্যাখ্যাই গ্রহণযোগ্য হবে; কোনো মনগড়া বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপব্যাখ্যা গ্রহণ করা হবে না। একইসঙ্গে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অজুহাতে কাউকে আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বরিশালের চরমোনাই বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, অতীতে যারা ধর্ম, আল্লাহ ও রাসুল (সা.)-কে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছে, সরকার তাদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় নিয়ে এসেছে। আগামীতেও যদি বাংলার মাটিতে কেউ আল্লাহ, রাসুল বা কোরআন নিয়ে কোনো কটূক্তি করার ধৃষ্টতা দেখায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তবে ধর্ম উপদেষ্টা সতর্ক করে বলেন, কোনো অবস্থাতেই জনগণ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারবে না। আইন হাতে তুলে নিলে তা কেবল সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলাই বাড়াবে। কেউ কোনো অন্যায় করলে বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিলে তার বিচারের জন্য প্রশাসন ও আদালত রয়েছে। তিনি সকলকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান।
দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, দীর্ঘ ৫৪ বছর পর জাতির সামনে একটি বড় সুযোগ এসেছে। এই সুযোগ বারবার আসে না। খোলাফায়ে রাশেদীনের আদলে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। একে অন্যের হাত ধরে দেশ গঠনে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি আসন্ন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনেরও আহ্বান জানান।
চরমোনাই মাহফিলের গুরুত্ব তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, আমি বহুবার এই ময়দানে এসেছি। এখানকার মানুষ দ্বীনের খোরাক জোগাতে আসেন। এখানে শিরক বা বেদাতের কোনো স্থান নেই, বরং সুন্নতের ওপর আমল করা হয়।
চরমোনাই দরবার শরীফের পীর মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে মাহফিলে আরও বক্তব্য রাখেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন বোর্ড অব গর্ভনর্সের সদস্য সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ মাদানী, ওলামা-মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুফতি রেজাউল করিম আবরারসহ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। এর আগে উপদেষ্টা চরমোনাই মাদরাসা সভাকক্ষে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।