সরকারের ১২ দফা বাস্তবায়নে সমন্বিত শিক্ষা আইন অপরিহার্য: রাশেদা কে চৌধুরী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

রাশেদা কে চৌধুরী। সংগৃহীত ছবি
রাশেদা কে চৌধুরী। সংগৃহীত ছবি

সরকার ঘোষিত শিক্ষা সংস্কারের ১২ দফা বাস্তবায়নে দেশে একটি সমন্বিত শিক্ষা আইন প্রণয়ন অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী। একই সঙ্গে কওমি মাদ্রাসা ও ইংরেজি মাধ্যমসহ সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলক নিবন্ধনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রাশেদা কে চৌধুরী। সরকার ঘোষিত উদ্যোগের সঙ্গে সমন্বয় করে গণসাক্ষরতা অভিযানের প্রস্তাবনা তুলে ধরতেই এই আয়োজন করা হয়।

প্রসঙ্গত, নতুন সরকার শিক্ষা খাতে কাঠামোগত সংস্কারের লক্ষ্যে ১২ দফা প্রস্তাবনা ঘোষণা করেছে। তবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে আইনি ভিত্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের প্রশ্নে শিক্ষাবিদদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।

শিক্ষাব্যবস্থার আইনি ভিত্তির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ‘বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তড়িঘড়ি করে যে শিক্ষা আইন করা হয়েছে, তা আমরা গ্রহণযোগ্য বলে মনে করি না। সাধারণ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষার বৈচিত্র্য বজায় রেখে ন্যূনতম শিখন মান এক করতে একটি সমন্বিত শিক্ষা আইন সময়ের দাবি। শুধু নীতিমালা দিয়ে কাজ হবে না।’

রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একটি সমন্বিত আইনি কাঠামোর আওতায় না এলে মাননিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা কঠিন হবে।

সরকারের ঘোষিত প্রস্তাবনার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমদ বলেন, ‘নতুন সরকার ঘোষিত ১২ দফায় আমাদের কথাও আছে, তবে তা পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা সংস্কার পরিকল্পনা নয়। এ জন্য বড় ধরনের পরিকল্পনা, টাস্কফোর্স গঠন এবং রাজনৈতিক অঙ্গীকার নিয়ে সরকার এগোবে বলে প্রত্যাশা করি। শিক্ষা যে অবহেলিত হয়েছে, তার অবসান ঘটবে বলে আশা করি।’

শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার দাবি জানিয়ে রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, এই বরাদ্দ কোথায় কীভাবে এবং কাদের জন্য ব্যয় হবে তা সুনির্দিষ্ট করা জরুরি। বিশেষ করে ঝরে পড়া শিক্ষার্থী, আদিবাসী জনগোষ্ঠী, চা-বাগানকর্মী পরিবার, প্রতিবন্ধী এবং হাওর-চরাঞ্চলের শিশুদের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা প্রয়োজন।

বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় উদ্ভাবনী অর্থায়নের প্রস্তাব দিয়ে তিনি ভারতের আদলে এডুকেশন সেস (সারচার্জ) চালুর সুপারিশ করেন। পাশাপাশি করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিলের ৩০ শতাংশ শিক্ষা খাতে ব্যবহারের প্রস্তাবও দেওয়া হয়।

নারী শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ উদ্যোগের আহ্বান জানিয়ে রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্কুলগুলোতে স্যানিটারি প্যাড-সংবলিত ভেন্ডিং মেশিন সরবরাহ করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে দেশীয় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশীদারত্ব নিশ্চিত করা যেতে পারে।

এ ছাড়া মিড-ডে মিল কর্মসূচিতে পণ্য সরবরাহে সিন্ডিকেট গড়ে ওঠা ঠেকাতে স্থানীয় কৃষক ও খামারিদের কাছ থেকে নিরাপদ খাদ্য সংগ্রহের প্রস্তাব দেওয়া হয়। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পুনঃভর্তি ফি আদায় বন্ধের বিষয়টিও পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন এডুকেশন ওয়াচের আহ্বায়ক ড. আহমদ মোশতাক রাজা চৌধুরী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শাহ শামীম আহমেদ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন গণসাক্ষরতা অভিযানের উপপরিচালক তপন কুমার দাশ।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত