স্ট্রিম প্রতিবেদক

ছয় বছর আগের এই দিনেই (৬ অক্টোবর ২০১৯) বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের (সম্প্রতি নিষিদ্ধ) নেতাকর্মীরা। তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক্স প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ছিলেন শেরে বাংলা হলের নিচতলার ১০১১ নম্বর কক্ষের ছাত্র। তাঁর মৃত্যুর পর বুয়েটসহ সারা দেশের শিক্ষাঙ্গন ফুঁসে ওঠে। বুয়েটে নিষিদ্ধ হয় ছাত্র রাজনীতি। হত্যার দায়ে আদালত ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
হত্যার মাত্র এক দিন আগে ৫ অক্টোবর বিকেল ৫টা ৩২ মিনিটে আবরার নিজের ফেসবুক পেজে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কিছু চুক্তি নিয়ে সমালোচনামূলক একটি পোস্ট লেখেন। সেখানে তিনি লিখেছিলেন—‘৪৭ সালে দেশভাগের পর পশ্চিমাংশের কোনো সমুদ্রবন্দর না থাকায় ভারতকে কলকাতা বন্দর ব্যবহারের অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তারা রাজি হয়নি। অথচ ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আজ ইন্ডিয়াকে মোংলা বন্দর ব্যবহারের জন্য হাত পাততে হচ্ছে।’
তিনি আরও লেখেন, ‘যে দেশে এক রাজ্য অন্য রাজ্যকে পানি দিতে চায় না, সেই দেশকে আমরা দিনে দেড় লাখ কিউবিক মিটার পানি দিব বিনিময় ছাড়া।’
তাছাড়া গ্যাস রপ্তানির বিরুদ্ধেও তিনি অবস্থান নেন। আবরার বলেন, ‘যেখানে গ্যাসের অভাবে নিজেদের কারখানা বন্ধ, সেখানে আমরা নিজের সম্পদ দিয়ে বন্ধুর বাতি জ্বালাব।’
সেই সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, ৬ অক্টোবর সন্ধ্যার পর আবরার হলে ফেরেন। রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা তাঁকে ডেকে নিয়ে যান শেরে বাংলা হলের দোতলার ২০১১ নম্বর কক্ষে। প্রথমে মোবাইল ফোন তল্লাশি, এরপর শুরু হয় নির্যাতন। স্ট্যাম্প দিয়ে পেটানো হয় তাঁকে। একপর্যায়ে স্ট্যাম্প ভেঙে গেলে আরেকটি আনা হয়। পরে চতুর্থ বর্ষের কয়েকজন সিনিয়র যোগ দিয়ে পুনরায় নির্যাতন চালায়।

রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মারধর চলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। রাত ৩টার দিকে জানা যায়, আবরারকে মেরে দোতলা ও একতলার মাঝের সিঁড়িতে ফেলে রাখা হয়েছে। ডাক্তার এসে নিশ্চিত করেন, তিনি আর নেই।
আবরার ফাহাদের মৃত্যুর বিষয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় নির্মিত ডকুমেন্টোরিতে আবরারের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ বলেন, ‘ভেবেছিলাম ভাইয়ার পায়ের দিকে ধরব, কিন্তু গ্রিপ করতে গিয়ে দেখি কিছু নেই—সব গলা। শুধু হাড়।’
সহপাঠী মুহতাদি আহনাফ আনসারী বলেন, ‘তাঁকে অমানুষিকভাবে মারা হয়। শরীরের এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে আঘাত করা হয়নি। সে বমি করলে তাকে ওয়াশ করে আবার রুমে এনে মারা হয়।’
মুহতাদি আরও বলেন, ‘যখন খুব খারাপ অবস্থা, তখন তাকে সিঁড়িতে নামিয়ে রাখা হয়। সে তখনও বলেছিল, টানাটানি না করতে, একটু পানি খেতে চায়। কিছুক্ষণ পরই তাঁর জ্ঞান হারায়।’
দায়িত্বরত চিকিৎসক জানান, ‘আমি পরীক্ষা করে দেখি, সে মৃত। শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন ছিল।’
হত্যার পরপরই আলোচনায় উঠে আসে—ভারতবিরোধী ফেসবুক পোস্টই তাঁর মৃত্যুর কারণ। অভিযুক্তরা আবরারকে ‘শিবির’ ট্যাগ দিয়েছিল। তৎকালীন কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন,
‘তদন্তে বেরিয়ে আসে, আবরার ফাহাদ হত্যার পেছনে কেবল ‘‘শিবির’’ সন্দেহই নয়, ছিল ক্ষমতা প্রদর্শনের প্রবল মনোভাবও। অভিযুক্তরা চেয়েছিল, তাদের প্রতি জুনিয়রদের অন্ধ আনুগত্য ও ভয় তৈরি হোক। আবরার তাদের ‘‘সমীহ করে সালাম’’ না দেওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ হয়। র্যাগিংয়ের আড়ালে সেই ক্ষোভই রূপ নেয় নির্মম সহিংসতায়।’
বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা ও শিক্ষার্থীরা মনে করেন, আবরারকে হত্যা করা হয় ভিন্নমত প্রকাশের কারণে। তাঁকে তারা ‘ভারতীয় আগ্রাসনের বিরোধিতাকারী’ ও ‘সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক’ হিসেবে অভিহিত করেন।
মৃত্যর আগে আবরার ফাহাদ ফেসবুকে যে পোস্ট দিয়েছিলেন, সেই পোস্টের কারণেই ছাত্রলীগ নেতারা তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে মনে করেন অনেকেই।
ওই সময়ে আবরার ফাহাদ ফেসবুকে লিখেছিলেন:
১. ৪৭ এ দেশভাগের পর দেশের পশ্চিমাংশে কোনো সমুদ্র বন্দর ছিল না। তৎকালীন সরকার ৬ মাসের জন্য কলকাতা বন্দর ব্যবহারের জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ করল। কিন্তু দাদারা নিজেদের রাস্তা নিজেদের মাপার পরামর্শ দিছিলো। বাধ্য হয়ে দুর্ভিক্ষ দমনে উদ্বোধনের আগেই মোংলা বন্দর খুলে দেওয়া হয়েছিল। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আজ ইন্ডিয়াকে সেই মোংলা বন্দর ব্যবহারের জন্য হাত পাততে হচ্ছে।
২. কাবেরি নদীর পানি ছাড়াছাড়ি নিয়ে কানাড়ি আর তামিলদের কামড়াকামড়ি কয়েকবছর আগে শিরোনাম হয়েছিল। যে দেশের এক রাজ্যই অন্যকে পানি দিতে চায় না সেখানে আমরা বিনিময় ছাড়া দিনে দেড় লাখ কিউবিক মিটার পানি দিব।
৩. কয়েকবছর আগে নিজেদের সম্পদ রক্ষার দোহাই দিয়ে উত্তরভারত কয়লা-পাথর রপ্তানি বন্ধ করেছে অথচ আমরা তাদের গ্যাস দিব। যেখানে গ্যাসের অভাবে নিজেদের কারখানা বন্ধ করা লাগে সেখানে নিজের সম্পদ দিয়ে বন্ধুর বাতি জ্বালাব। ...
আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ পরদিন চকবাজার থানায় মামলা করেন। মাত্র ৩৭ দিনে তদন্ত শেষ করে পুলিশ ১৩ নভেম্বর ২০১৯ চার্জশিট দাখিল করে।
২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান। চলতি বছর হাইকোর্টও ওই রায় বহাল রাখে।
রায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন— মেহেদী হাসান রাসেল, মো. অনিক সরকার, মেহেদী হাসান রবিন, ইফতি মোশাররফ সকাল, মো. মনিরুজ্জামান মনির, মো. মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, মো. মাজেদুর রহমান মাজেদ, মো. মুজাহিদুর রহমান, খন্দকার তাবাককারুল ইসলাম তানভীর, হোসাইন মোহাম্মদ তোহা, মো. শামীম বিল্লাহ, এ এস এম নাজমুস সাদাত, মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম, মুনতাসির আল জেমি, মো. শামসুল আরেফিন রাফাত, মো. মিজানুর রহমান, এস এম মাহমুদ সেতু, মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল জিসান, এহতেশামুল রাব্বি তানিম ও মুজতবা রাফিদ।
তাঁরা সবাই বুয়েট শিক্ষার্থী এবং নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন।
আসামীদের মধ্যে তিনজন এখনো পলাতক। তারা হলেন, মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল জিসান, এহতেশামুল রাব্বি তানিম ও মুজতবা রাফিদ।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচজন হলেন, মুহতাসিম ফুয়াদ হোসেন, মো. আকাশ হোসেন, মুয়াজ আবু হুরায়রা, অমিত সাহা ও ইশতিয়াক আহমেদ মুন্নার।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মুনতাসির আল জেমি গত বছরের ৬ আগস্ট গাজীপুরের হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের দেয়াল ভেঙে পালিয়ে যান বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি জানায় কারা কর্তৃপক্ষ।

ছয় বছর আগের এই দিনেই (৬ অক্টোবর ২০১৯) বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের (সম্প্রতি নিষিদ্ধ) নেতাকর্মীরা। তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক্স প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ছিলেন শেরে বাংলা হলের নিচতলার ১০১১ নম্বর কক্ষের ছাত্র। তাঁর মৃত্যুর পর বুয়েটসহ সারা দেশের শিক্ষাঙ্গন ফুঁসে ওঠে। বুয়েটে নিষিদ্ধ হয় ছাত্র রাজনীতি। হত্যার দায়ে আদালত ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
হত্যার মাত্র এক দিন আগে ৫ অক্টোবর বিকেল ৫টা ৩২ মিনিটে আবরার নিজের ফেসবুক পেজে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কিছু চুক্তি নিয়ে সমালোচনামূলক একটি পোস্ট লেখেন। সেখানে তিনি লিখেছিলেন—‘৪৭ সালে দেশভাগের পর পশ্চিমাংশের কোনো সমুদ্রবন্দর না থাকায় ভারতকে কলকাতা বন্দর ব্যবহারের অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তারা রাজি হয়নি। অথচ ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আজ ইন্ডিয়াকে মোংলা বন্দর ব্যবহারের জন্য হাত পাততে হচ্ছে।’
তিনি আরও লেখেন, ‘যে দেশে এক রাজ্য অন্য রাজ্যকে পানি দিতে চায় না, সেই দেশকে আমরা দিনে দেড় লাখ কিউবিক মিটার পানি দিব বিনিময় ছাড়া।’
তাছাড়া গ্যাস রপ্তানির বিরুদ্ধেও তিনি অবস্থান নেন। আবরার বলেন, ‘যেখানে গ্যাসের অভাবে নিজেদের কারখানা বন্ধ, সেখানে আমরা নিজের সম্পদ দিয়ে বন্ধুর বাতি জ্বালাব।’
সেই সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, ৬ অক্টোবর সন্ধ্যার পর আবরার হলে ফেরেন। রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা তাঁকে ডেকে নিয়ে যান শেরে বাংলা হলের দোতলার ২০১১ নম্বর কক্ষে। প্রথমে মোবাইল ফোন তল্লাশি, এরপর শুরু হয় নির্যাতন। স্ট্যাম্প দিয়ে পেটানো হয় তাঁকে। একপর্যায়ে স্ট্যাম্প ভেঙে গেলে আরেকটি আনা হয়। পরে চতুর্থ বর্ষের কয়েকজন সিনিয়র যোগ দিয়ে পুনরায় নির্যাতন চালায়।

রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মারধর চলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। রাত ৩টার দিকে জানা যায়, আবরারকে মেরে দোতলা ও একতলার মাঝের সিঁড়িতে ফেলে রাখা হয়েছে। ডাক্তার এসে নিশ্চিত করেন, তিনি আর নেই।
আবরার ফাহাদের মৃত্যুর বিষয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় নির্মিত ডকুমেন্টোরিতে আবরারের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ বলেন, ‘ভেবেছিলাম ভাইয়ার পায়ের দিকে ধরব, কিন্তু গ্রিপ করতে গিয়ে দেখি কিছু নেই—সব গলা। শুধু হাড়।’
সহপাঠী মুহতাদি আহনাফ আনসারী বলেন, ‘তাঁকে অমানুষিকভাবে মারা হয়। শরীরের এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে আঘাত করা হয়নি। সে বমি করলে তাকে ওয়াশ করে আবার রুমে এনে মারা হয়।’
মুহতাদি আরও বলেন, ‘যখন খুব খারাপ অবস্থা, তখন তাকে সিঁড়িতে নামিয়ে রাখা হয়। সে তখনও বলেছিল, টানাটানি না করতে, একটু পানি খেতে চায়। কিছুক্ষণ পরই তাঁর জ্ঞান হারায়।’
দায়িত্বরত চিকিৎসক জানান, ‘আমি পরীক্ষা করে দেখি, সে মৃত। শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন ছিল।’
হত্যার পরপরই আলোচনায় উঠে আসে—ভারতবিরোধী ফেসবুক পোস্টই তাঁর মৃত্যুর কারণ। অভিযুক্তরা আবরারকে ‘শিবির’ ট্যাগ দিয়েছিল। তৎকালীন কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন,
‘তদন্তে বেরিয়ে আসে, আবরার ফাহাদ হত্যার পেছনে কেবল ‘‘শিবির’’ সন্দেহই নয়, ছিল ক্ষমতা প্রদর্শনের প্রবল মনোভাবও। অভিযুক্তরা চেয়েছিল, তাদের প্রতি জুনিয়রদের অন্ধ আনুগত্য ও ভয় তৈরি হোক। আবরার তাদের ‘‘সমীহ করে সালাম’’ না দেওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ হয়। র্যাগিংয়ের আড়ালে সেই ক্ষোভই রূপ নেয় নির্মম সহিংসতায়।’
বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা ও শিক্ষার্থীরা মনে করেন, আবরারকে হত্যা করা হয় ভিন্নমত প্রকাশের কারণে। তাঁকে তারা ‘ভারতীয় আগ্রাসনের বিরোধিতাকারী’ ও ‘সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক’ হিসেবে অভিহিত করেন।
মৃত্যর আগে আবরার ফাহাদ ফেসবুকে যে পোস্ট দিয়েছিলেন, সেই পোস্টের কারণেই ছাত্রলীগ নেতারা তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে মনে করেন অনেকেই।
ওই সময়ে আবরার ফাহাদ ফেসবুকে লিখেছিলেন:
১. ৪৭ এ দেশভাগের পর দেশের পশ্চিমাংশে কোনো সমুদ্র বন্দর ছিল না। তৎকালীন সরকার ৬ মাসের জন্য কলকাতা বন্দর ব্যবহারের জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ করল। কিন্তু দাদারা নিজেদের রাস্তা নিজেদের মাপার পরামর্শ দিছিলো। বাধ্য হয়ে দুর্ভিক্ষ দমনে উদ্বোধনের আগেই মোংলা বন্দর খুলে দেওয়া হয়েছিল। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আজ ইন্ডিয়াকে সেই মোংলা বন্দর ব্যবহারের জন্য হাত পাততে হচ্ছে।
২. কাবেরি নদীর পানি ছাড়াছাড়ি নিয়ে কানাড়ি আর তামিলদের কামড়াকামড়ি কয়েকবছর আগে শিরোনাম হয়েছিল। যে দেশের এক রাজ্যই অন্যকে পানি দিতে চায় না সেখানে আমরা বিনিময় ছাড়া দিনে দেড় লাখ কিউবিক মিটার পানি দিব।
৩. কয়েকবছর আগে নিজেদের সম্পদ রক্ষার দোহাই দিয়ে উত্তরভারত কয়লা-পাথর রপ্তানি বন্ধ করেছে অথচ আমরা তাদের গ্যাস দিব। যেখানে গ্যাসের অভাবে নিজেদের কারখানা বন্ধ করা লাগে সেখানে নিজের সম্পদ দিয়ে বন্ধুর বাতি জ্বালাব। ...
আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ পরদিন চকবাজার থানায় মামলা করেন। মাত্র ৩৭ দিনে তদন্ত শেষ করে পুলিশ ১৩ নভেম্বর ২০১৯ চার্জশিট দাখিল করে।
২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান। চলতি বছর হাইকোর্টও ওই রায় বহাল রাখে।
রায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন— মেহেদী হাসান রাসেল, মো. অনিক সরকার, মেহেদী হাসান রবিন, ইফতি মোশাররফ সকাল, মো. মনিরুজ্জামান মনির, মো. মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, মো. মাজেদুর রহমান মাজেদ, মো. মুজাহিদুর রহমান, খন্দকার তাবাককারুল ইসলাম তানভীর, হোসাইন মোহাম্মদ তোহা, মো. শামীম বিল্লাহ, এ এস এম নাজমুস সাদাত, মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম, মুনতাসির আল জেমি, মো. শামসুল আরেফিন রাফাত, মো. মিজানুর রহমান, এস এম মাহমুদ সেতু, মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল জিসান, এহতেশামুল রাব্বি তানিম ও মুজতবা রাফিদ।
তাঁরা সবাই বুয়েট শিক্ষার্থী এবং নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন।
আসামীদের মধ্যে তিনজন এখনো পলাতক। তারা হলেন, মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল জিসান, এহতেশামুল রাব্বি তানিম ও মুজতবা রাফিদ।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচজন হলেন, মুহতাসিম ফুয়াদ হোসেন, মো. আকাশ হোসেন, মুয়াজ আবু হুরায়রা, অমিত সাহা ও ইশতিয়াক আহমেদ মুন্নার।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মুনতাসির আল জেমি গত বছরের ৬ আগস্ট গাজীপুরের হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের দেয়াল ভেঙে পালিয়ে যান বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি জানায় কারা কর্তৃপক্ষ।

শপথ গ্রহণের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠন করায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ভেঙে গেছে।
১ ঘণ্টা আগে
সাবেক সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপসচিব মোহাম্মদ রফিকুল হকের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে
ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিস্রি বাংলাদেশের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের ফাঁকে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
১০ ঘণ্টা আগে
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ব্যস্ত দিন কাটাবেন তারেক রহমান। এ দিন তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুস্পস্তবক অর্পণ, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত, মন্ত্রিসভার বৈঠক ও সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।
১০ ঘণ্টা আগে