
গোপালগঞ্জের শহরতলিতে বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে এক শিশুসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২০ জন। ঈদের দিন বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে সদর উপজেলার বেদগ্রাম এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
আহতদের উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার (এসপি) মো. হাবীবুল্লাহ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পিরোজপুরগামী দোলা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস শহরের বেদগ্রাম এলাকায় পৌঁছে। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে তার সংঘর্ষ হয়। অতিরিক্ত গতির কারণে মোটরসাইকেলটি বাসের নিচে চলে যায়। এছাড়া নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাসটি মহাসড়কের ওপরই উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেলের দুই আরোহীসহ চারজন প্রাণ হারান। আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হলে ১২ বছরের এক শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

নিহতদের মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে কেবল মোটরসাইকেল আরোহী শাওন ঢালীর পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার বড়বাড়িয়া এলাকার সমেশ ঢালীর ছেলে। বাকি চারজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। এসব তথ্য নিশ্চিত করে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আনিসুর রহমান জানান, নিহতদের মধ্যে দুজন মোটরসাইকেল আরোহী ও তিনজন বাসযাত্রী।
বাসযাত্রী জামাল শিকদার বলেন, ‘আমরা পিছনের সিটে ছিলাম। আমাদের সামনের সিটের দুই যাত্রী এই অ্যাক্সিডেন্টে মারা গেছেন। দুর্ঘটনার পর জানালার কাচ ভেঙে কোনোমতে বাস থেকে বের হয়েছি।’
আরেক যাত্রী জাহাঙ্গীর মিয়া বলেন, ‘যখন বাস উল্টে যায়, জানালার কাচ ভেঙে আমার ওপর পড়ে। আমি সিটের নিচে চলে যাই। পরে স্থানীয়রা আমাদের উদ্ধার করে।’

ফায়ার সার্ভিসের ইন্সপেক্টর নিয়ামুল হুদা জানান, দুপুর ১২টার দিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় জনতার সহায়তায় দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিস। ঘটনাস্থল থেকেই ৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আহত ২০ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন তারা।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে কর্মকর্তারা
এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত এলাকা পরিদর্শনে আসেন গোপালগঞ্জ-২ (সদর ও কাশিয়ানীর আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর, জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান ও এসপি মো. হাবীবুল্লাহ।

পুলিশ সুপার বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহার দিনে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। অতিরিক্ত গতির কারণেই এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।
ডা. বাবর বলেন, হাসপাতালে যারা চিকিৎসাধীন রয়েছে, তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছেন। হতাহত ব্যক্তির পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতার বিষয়টি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি।
.png)






