স্ট্রিম প্রতিবেদক

দেশে চলমান রাজনৈতিক সহিংসতা, ‘মব জাস্টিস’, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা এবং আসন্ন নির্বাচনের সময় নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে রাজধানীতে এক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বক্তারা বলেন, আইন ও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই দেশে সম্প্রীতি নষ্ট হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে সামাজিক প্লাটফর্ম ‘সম্প্রীতি যাত্রা’র আয়োজনে ‘জাতীয় নির্বাচন ২০২৬: সহিংসতার ধারাবাহিকতা এবং সম্প্রীতির দায়বোধ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে চব্বিশের ৫ আগস্ট পরবর্তী পরিস্থিতি, মাজার ও ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর হামলা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থিরতার বিষয়গুলো উঠে আসে। গোলটেবিলের সঞ্চালক ছিলেন গবেষক মীর হুযাইফা আল মামদূহ।
এসময় ‘সম্প্রীতি যাত্রা’র পক্ষ থেকে বছরজুড়ে ঘটা বিভিন্ন সহিংসতার ঘটনা উপস্থাপন করা হয়। সুফি সমাজকেন্দ্রিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান 'মাকাম’সহ অন্যান্যরা বিভিন্ন সূত্রের বরাতে স্বাধীন চলচ্চিত্রনির্মাতা সজীব তানভীর মাজার-দরগায় হামলা ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর আক্রমণের বিষয়গুলো তুলে ধরেন। একইসাথে ভিন্ন মত ও ধর্মের শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ওপর হামলা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলার বিষয়গুলোও আলোচনায় আসে।
গোলটেবিলে বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ফাহিমা নাসরিন বলেন, ‘শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলেও রাষ্ট্রযন্ত্রের আইন ও প্রশাসনের জায়গাগুলোতে ফ্যাসিস্ট দলের মানুষজন রয়ে গেছে। ভয়ের যে সংস্কৃতি ও ফ্যাসিজম চলেছে, তা আর যেন না আসে। ধর্মকে ব্যবহার করে যারা নারীদের দমন করতে চায়, তারা মুক্তিযুদ্ধের সময়ও নারীদের ওপর সহিংসতার সাথে যুক্ত ছিল। বাংলাদেশ সমস্ত ধর্মের, মতের, পাহাড়ের ও সমতলের মানুষের। বাংলাদেশ আফগানিস্তান নয়। বাংলাদেশের মানুষ ধর্মান্ধ নয়, বরং ধর্মভীরু। কাউকে বাদ দিয়ে আমরা পথ চলতে পারব না। সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ।’
নবী দিবস ও মহাত্মা সম্মেলন উদযাপন পরিষদ ঢাকা বিভাগের সহকারী সচিব শাফায়াৎ এইচ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা সবসময় সম্প্রীতি চেয়েছি। মাজারের ওপর হামলার পরেই যদি সবাই এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিত, তাহলে পরবর্তী সময়ে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোয় হামলা হতো না। আমরা স্বাভাবিক জীবনযাপন চাই। আমরা বিশ্বাস করি, সহিংসতা কোনো সমাধান নয়।’

বাসদ (মার্ক্সবাদী) কেন্দ্রীয় নির্বাহী ফোরামের সমন্বয়ক মাসুদ রানা বলেন, ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদ বিরোধিতার পর আমরা চেয়েছিলাম সবার জন্য এক দেশ। কিন্তু শাসকগোষ্ঠী জনগণের মাঝে সবসময় বিভেদ টিকিয়ে রাখতে চায়। সরকারের কাছে দাবি, রাজনীতির কেন্দ্রে যেন মানুষ থাকে। গণতন্ত্র ও সম্প্রীতির জন্য এটা খুব দরকার।’
বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট বা ব্লাস্টের পক্ষ থেকে দূরদানা ফরিদ বলেন, ‘আমরা আইনি সহায়তা দিতে প্রস্তুত থাকলেও ভুক্তভোগীরা ভয় পায়। রংপুরে দুজন দলিত গোষ্ঠীর মানুষকে মবলিঞ্চিং করে মেরে ফেলা হয়। অভিযুক্ত জামিনে বের হওয়ার পর ভুক্তভোগীদের ওপর নানা রকম হুমকি তৈরি করছে।’
সাংবাদিক ও কবি রাফসান গালিব জানান, ‘হামলাকারী ও মব সহিংসতার জায়গাগুলোকে অস্বীকার করে “প্রেশার গ্রুপ” বলে স্বাভাবিক করার ফলে ঘোষণা দিয়ে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে হামলাগুলো করা সম্ভব হয়েছে। সংবাদমাধ্যমগুলোর ওপর নিরাপত্তা দিতে না পারা স্পষ্টত সরকারের ব্যর্থতা। রাজনৈতিক দলগুলোর গুজব ও ফেক নিউজ নিয়ে কাজ করার প্রয়োজন আছে। তারা সিদ্ধান্ত নিতে পারে যে, বটফোর্সকে তারা অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করবে না।’
রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন বা এনপিএর সেন্ট্রাল কাউন্সিল সদস্য অনীক রায় বলেন, ‘৫ আগস্টের পর থেকে এখনো রাজনৈতিক কর্মী বা সাধারণ মানুষ—কারো নিরাপত্তাই নিশ্চিত করা হয়নি। বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে যে নিরাপত্তা দরকার, তা এখনো অধরা। তবে সরকার এখনো চাইলে অনেক কিছু করতে পারে।’
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্থা শারমিন বলেন, ‘সরকারের ভেতরে এমন একটা অংশ আছে যারা মাঠপর্যায়ে অস্থিতিশীলতা থাকুক তা চায়। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম কেবল একজন প্রতিনিধি। জাতিগত ও ধর্মীয় বিষয়গুলো জাতি হিসেবে আমরা মোকাবিলা করতে পারিনি। কাজ দিয়ে মধ্যমপন্থী হতে হয়, কথা দিয়ে নয়।’
গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল আলম সবুজ জানান, ‘আশুলিয়াতে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের পর আগস্টেই গুলি করা হয়। যে শ্রমিকের জন্য অর্থনীতির চাকা ঘোরে, তার নিরাপত্তা নেই। শ্রমিকদের সাথে থাকার কারণে আমাদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে এবং পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে।’
শিল্পী ও অ্যাক্টিভিস্ট অরূপ রাহী জানান, ‘জুলাই-আগস্টের পর সেক্যুলারিজমের ধারণা নতুন চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়েছে। রাষ্ট্র সম্পর্কে খুব লিবারেল আইডিয়াল কল্পনা থেকে দেখাটা প্রশ্নবিদ্ধ। মানুষকে “সংখ্যালঘু” করা হয়। যদি জাস্টিস করতে চাই, তবে কথাটি বলতে হবে “সংখ্যালঘুকৃত”। এভাবেই চিন্তাগত পরিবর্তন দরকার।’
বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক জামশেদ আনোয়ার তপন বলেন, ‘একটা দেশে যে সরকার আছে—সেটাই বিশ্বাস হতে চায় না। সরকার উদীচীতে হামলার সুযোগ করে দিয়েছে। সরকার তার ভূমিকা পালন করেনি। এখন কথায় কথায় শিল্পীদের আওয়ামী দোসর বলা হয়। অথচ আমরা ভারতের সাথে অসম আওয়ামী চুক্তি ও আবরার ফাহাদ হত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছি। আমরা গান গেয়ে জুলাইতে কারফিউ ভেঙেছি।’
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নদী, পরিবেশ, জলবায়ু ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক ইবনুল সাইদ রানা মনে করেন যে, সংস্কার আনতে হবে রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চাকরি হারানো শিক্ষক ও সংস্কৃতিকর্মী লায়েকা বশীর নিজের অভিজ্ঞতা থেকে জানান, ‘আমার ওপর ফেসবুক পোস্টের জের ধরে সাইবার বুলিইং ও অনলাইন হ্যারাসমেন্ট করা হয়। কর্তৃপক্ষ আমাকে চাকরি থেকে নিজে থেকে সরে যেতে বলেন। পরে আমাকে টার্মিনেট করেন। সমাজবিজ্ঞানের বিষয়গুলো কারো পছন্দ নাও হতে পারে। কিন্তু কিছু অসহিষ্ণুতা অসুবিধা তৈরি করে। নির্বাচনের পূর্বে একটা নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে এসব করছে।’

দেশে চলমান রাজনৈতিক সহিংসতা, ‘মব জাস্টিস’, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা এবং আসন্ন নির্বাচনের সময় নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে রাজধানীতে এক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বক্তারা বলেন, আইন ও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই দেশে সম্প্রীতি নষ্ট হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে সামাজিক প্লাটফর্ম ‘সম্প্রীতি যাত্রা’র আয়োজনে ‘জাতীয় নির্বাচন ২০২৬: সহিংসতার ধারাবাহিকতা এবং সম্প্রীতির দায়বোধ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে চব্বিশের ৫ আগস্ট পরবর্তী পরিস্থিতি, মাজার ও ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর হামলা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থিরতার বিষয়গুলো উঠে আসে। গোলটেবিলের সঞ্চালক ছিলেন গবেষক মীর হুযাইফা আল মামদূহ।
এসময় ‘সম্প্রীতি যাত্রা’র পক্ষ থেকে বছরজুড়ে ঘটা বিভিন্ন সহিংসতার ঘটনা উপস্থাপন করা হয়। সুফি সমাজকেন্দ্রিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান 'মাকাম’সহ অন্যান্যরা বিভিন্ন সূত্রের বরাতে স্বাধীন চলচ্চিত্রনির্মাতা সজীব তানভীর মাজার-দরগায় হামলা ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর আক্রমণের বিষয়গুলো তুলে ধরেন। একইসাথে ভিন্ন মত ও ধর্মের শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ওপর হামলা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলার বিষয়গুলোও আলোচনায় আসে।
গোলটেবিলে বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ফাহিমা নাসরিন বলেন, ‘শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলেও রাষ্ট্রযন্ত্রের আইন ও প্রশাসনের জায়গাগুলোতে ফ্যাসিস্ট দলের মানুষজন রয়ে গেছে। ভয়ের যে সংস্কৃতি ও ফ্যাসিজম চলেছে, তা আর যেন না আসে। ধর্মকে ব্যবহার করে যারা নারীদের দমন করতে চায়, তারা মুক্তিযুদ্ধের সময়ও নারীদের ওপর সহিংসতার সাথে যুক্ত ছিল। বাংলাদেশ সমস্ত ধর্মের, মতের, পাহাড়ের ও সমতলের মানুষের। বাংলাদেশ আফগানিস্তান নয়। বাংলাদেশের মানুষ ধর্মান্ধ নয়, বরং ধর্মভীরু। কাউকে বাদ দিয়ে আমরা পথ চলতে পারব না। সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ।’
নবী দিবস ও মহাত্মা সম্মেলন উদযাপন পরিষদ ঢাকা বিভাগের সহকারী সচিব শাফায়াৎ এইচ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা সবসময় সম্প্রীতি চেয়েছি। মাজারের ওপর হামলার পরেই যদি সবাই এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিত, তাহলে পরবর্তী সময়ে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোয় হামলা হতো না। আমরা স্বাভাবিক জীবনযাপন চাই। আমরা বিশ্বাস করি, সহিংসতা কোনো সমাধান নয়।’

বাসদ (মার্ক্সবাদী) কেন্দ্রীয় নির্বাহী ফোরামের সমন্বয়ক মাসুদ রানা বলেন, ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদ বিরোধিতার পর আমরা চেয়েছিলাম সবার জন্য এক দেশ। কিন্তু শাসকগোষ্ঠী জনগণের মাঝে সবসময় বিভেদ টিকিয়ে রাখতে চায়। সরকারের কাছে দাবি, রাজনীতির কেন্দ্রে যেন মানুষ থাকে। গণতন্ত্র ও সম্প্রীতির জন্য এটা খুব দরকার।’
বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট বা ব্লাস্টের পক্ষ থেকে দূরদানা ফরিদ বলেন, ‘আমরা আইনি সহায়তা দিতে প্রস্তুত থাকলেও ভুক্তভোগীরা ভয় পায়। রংপুরে দুজন দলিত গোষ্ঠীর মানুষকে মবলিঞ্চিং করে মেরে ফেলা হয়। অভিযুক্ত জামিনে বের হওয়ার পর ভুক্তভোগীদের ওপর নানা রকম হুমকি তৈরি করছে।’
সাংবাদিক ও কবি রাফসান গালিব জানান, ‘হামলাকারী ও মব সহিংসতার জায়গাগুলোকে অস্বীকার করে “প্রেশার গ্রুপ” বলে স্বাভাবিক করার ফলে ঘোষণা দিয়ে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে হামলাগুলো করা সম্ভব হয়েছে। সংবাদমাধ্যমগুলোর ওপর নিরাপত্তা দিতে না পারা স্পষ্টত সরকারের ব্যর্থতা। রাজনৈতিক দলগুলোর গুজব ও ফেক নিউজ নিয়ে কাজ করার প্রয়োজন আছে। তারা সিদ্ধান্ত নিতে পারে যে, বটফোর্সকে তারা অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করবে না।’
রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন বা এনপিএর সেন্ট্রাল কাউন্সিল সদস্য অনীক রায় বলেন, ‘৫ আগস্টের পর থেকে এখনো রাজনৈতিক কর্মী বা সাধারণ মানুষ—কারো নিরাপত্তাই নিশ্চিত করা হয়নি। বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে যে নিরাপত্তা দরকার, তা এখনো অধরা। তবে সরকার এখনো চাইলে অনেক কিছু করতে পারে।’
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্থা শারমিন বলেন, ‘সরকারের ভেতরে এমন একটা অংশ আছে যারা মাঠপর্যায়ে অস্থিতিশীলতা থাকুক তা চায়। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম কেবল একজন প্রতিনিধি। জাতিগত ও ধর্মীয় বিষয়গুলো জাতি হিসেবে আমরা মোকাবিলা করতে পারিনি। কাজ দিয়ে মধ্যমপন্থী হতে হয়, কথা দিয়ে নয়।’
গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল আলম সবুজ জানান, ‘আশুলিয়াতে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের পর আগস্টেই গুলি করা হয়। যে শ্রমিকের জন্য অর্থনীতির চাকা ঘোরে, তার নিরাপত্তা নেই। শ্রমিকদের সাথে থাকার কারণে আমাদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে এবং পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে।’
শিল্পী ও অ্যাক্টিভিস্ট অরূপ রাহী জানান, ‘জুলাই-আগস্টের পর সেক্যুলারিজমের ধারণা নতুন চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়েছে। রাষ্ট্র সম্পর্কে খুব লিবারেল আইডিয়াল কল্পনা থেকে দেখাটা প্রশ্নবিদ্ধ। মানুষকে “সংখ্যালঘু” করা হয়। যদি জাস্টিস করতে চাই, তবে কথাটি বলতে হবে “সংখ্যালঘুকৃত”। এভাবেই চিন্তাগত পরিবর্তন দরকার।’
বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক জামশেদ আনোয়ার তপন বলেন, ‘একটা দেশে যে সরকার আছে—সেটাই বিশ্বাস হতে চায় না। সরকার উদীচীতে হামলার সুযোগ করে দিয়েছে। সরকার তার ভূমিকা পালন করেনি। এখন কথায় কথায় শিল্পীদের আওয়ামী দোসর বলা হয়। অথচ আমরা ভারতের সাথে অসম আওয়ামী চুক্তি ও আবরার ফাহাদ হত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছি। আমরা গান গেয়ে জুলাইতে কারফিউ ভেঙেছি।’
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নদী, পরিবেশ, জলবায়ু ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক ইবনুল সাইদ রানা মনে করেন যে, সংস্কার আনতে হবে রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চাকরি হারানো শিক্ষক ও সংস্কৃতিকর্মী লায়েকা বশীর নিজের অভিজ্ঞতা থেকে জানান, ‘আমার ওপর ফেসবুক পোস্টের জের ধরে সাইবার বুলিইং ও অনলাইন হ্যারাসমেন্ট করা হয়। কর্তৃপক্ষ আমাকে চাকরি থেকে নিজে থেকে সরে যেতে বলেন। পরে আমাকে টার্মিনেট করেন। সমাজবিজ্ঞানের বিষয়গুলো কারো পছন্দ নাও হতে পারে। কিন্তু কিছু অসহিষ্ণুতা অসুবিধা তৈরি করে। নির্বাচনের পূর্বে একটা নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে এসব করছে।’

চট্টগ্রাম বন্দরে চলমান ধর্মঘট দুই দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। আগামী শুক্রবার ও শনিবার বন্দরকেন্দ্রিক সব ধরনের কর্মবিরতি ও প্রতিবাদ কর্মসূচি স্থগিত থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
১৫ মিনিট আগে
প্রতিটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাগজের পোস্টার ঘিরে একটি বিশেষ নির্বাচনী আমেজ তৈরি হতো। তবে এবার সেই পরিচিত দৃশ্যপট বদলে গেছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্তে কাগজের পোস্টার নিষিদ্ধ হওয়ায় প্রচারণার জায়গা দখল করেছে কাপড়ের ব্যানার।
১ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা ছাড়া আর্থিক খাতের টেকসই সংস্কার সম্ভব নয়। অবিলম্বে আইনি ও কাঠামোগত সংস্কারের দাবি জানিয়ে এই মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসারস ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল (বিবিওডব্লিউসি)।
১ ঘণ্টা আগে
৫ আগস্ট আশুলিয়ায় যে নৃশংসতা চালানো হয়েছে, তা পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম। হিটলারের গ্যাস চেম্বারে মানুষ হত্যার পরেই এই ঘটনাকে নৃশংসতম বলা যায়। পরিকল্পিতভাবে ছয়জনকে হত্যা করে লাশ পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিল।
২ ঘণ্টা আগে