গৃহকর্মী সেজে লুটপাটের পর হত্যা, অবশেষে পিবিআইয়ের জালে বিলকিস

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৮: ৫৮
সংবাদ সম্মেলনে বিলকিস বেগমকে হাজির করে পিবিআই
সংবাদ সম্মেলনে বিলকিস বেগমকে হাজির করে পিবিআই

রাজধানীর উত্তরায় গৃহকর্মী সেজে বাসায় ঢুকে বৃদ্ধাকে চেতনানাশক খাইয়ে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা চুরির এক চক্রের রহস্য উদ্ঘাটন করার দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এই ‘সিরিজ চুরি’ ও হত্যার ঘটনায় জড়িত চক্রের প্রধান সন্দেহভাজন বিলকিস বেগমকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামি ইতিমধ্যে আদালতে অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল) পিবিআই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

পিবিআই জানায়, গত ১৩ আগস্ট ২০২৫ তারিখে উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দা মো. ইবনুল আলমের বাসায় অজ্ঞাত এক নারী গৃহকর্মীর কাজে আসেন। পরদিন কাজে যোগ দিলেও তিনি কোনো পরিচয়পত্র (এনআইডি) জমা দেননি। বাসার মালিক ও তাঁর স্ত্রী কর্মস্থলে গেলে সুযোগ বুঝে ওই গৃহকর্মী বৃদ্ধা রওশনারা বেগমকে নাশতার সঙ্গে উচ্চমাত্রার চেতনানাশক খাইয়ে অচেতন করেন। এরপর তাঁর শরীরের স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা লুট করে পালিয়ে যান।

এই ঘটনায় উত্তরা পূর্ব থানায় মামলা হলেও পুলিশ কোনো ক্লু না পাওয়ায় আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। পরবর্তীতে আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন। পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর)-এর এসআই ফিরোজ আহমেদ মুন্সী তদন্তভার নিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্য-প্রযুক্তি বিশ্লেষণ শুরু করেন। এরই মধ্যে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় একই কায়দায় এক গৃহকর্তাকে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে হত্যা করে মালামাল লুটের ঘটনা ঘটে। দুটি ঘটনার কৌশলগত মিল দেখে পিবিআই নিশ্চিত হয় যে এটি একটি পেশাদার চক্রের কাজ।

তদন্তকারী দল সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে বিলকিস বেগমকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে ৪ দিনের রিমান্ডে নেয়। জিজ্ঞাসাবাদে বিলকিস স্বীকার করেন যে তিনি পরিচয় গোপন করে বিভিন্ন বাসায় গৃহকর্মীর কাজ নিতেন এবং সুযোগ বুঝে চেতনানাশক খাইয়ে সর্বস্ব লুটে নিতেন। আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুরে অভিযান চালিয়ে চুরির স্বর্ণ বিক্রয় ও হস্তান্তরের সঙ্গে জড়িত শহরবানু এবং জুয়েলারি ব্যবসায়ী গোবিন্দ ঘোষ ও রূপা সরকারকে শনাক্ত করা হয়। বিলকিস বেগম গত ২২ এপ্রিল আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর)-এর ইউনিট ইনচার্জ ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, 'পিবিআই আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর তদন্তের মাধ্যমে এই রহস্য উদ্ঘাটন করেছে। সাধারণ মানুষকে বাসায় গৃহকর্মী নিয়োগের আগে অবশ্যই পরিচয়পত্র যাচাই ও পুলিশ ভেরিফিকেশন করার অনুরোধ জানাচ্ছি।' বর্তমানে মামলার তদন্ত চলমান এবং এই চক্রের সাথে আর কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখছে পিবিআই।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত