leadT1ad

ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা হতে পারে : সিইসি

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১৮: ৪৮
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মক ভোটিং কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে কথা বলেন সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন। স্ট্রিম ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেছেন, ‘তফসিল হোপফুলি, আমরা যেটা আশা করছি, ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে হবে। সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। ইনশাআল্লাহ জাতিকে সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণভোট উপহার দিতে পারবে কমিশন।’

আজ শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে মক ভোটিং (অনুশীলনমূলক ভোট) কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) এ আয়োজনে ভোটার ছিলেন ৫০০ জন।

একই দিনে নির্বাচন ও গণভোটে বড় চ্যালেঞ্জ সময় ব্যবস্থাপনা

পরিদর্শন শেষে ব্রিফিংয়ে সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজন করায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে সময় ব্যবস্থাপনা। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণের সময়ে সাধারণ ভোটের পাশাপাশি গণভোট সম্পন্ন করতে ভোটার প্রতি কত সময় লাগবে, তা যাচাই করতেই মক ভোটিংয়ের আয়োজন করা হয়েছে।

নাসির উদ্দিন জানান, বর্তমানে দেশে সাড়ে ৪২ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এগুলোই যথেষ্ট, নাকি অতিরিক্ত ভোটকেন্দ্র ও বুথ প্রয়োজন হবে, তা বাস্তবে মূল্যায়নের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নতুন বুথ মানেই অতিরিক্ত লোকবল, সরঞ্জাম ও ব্যবস্থাপনা, তাই সবকিছু যাচাই করে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে।

তবে আজ ৫০০ জনের মক ভোট নিতেই ইসির কর্মীদের গলদঘর্ম হতে দেখা গেছে। সকালে প্রথম ঘণ্টায় তেমন জটিলতা দেখা না গেলেও ভোটের হার ছিল খুব ধীর। অনেকে ভোটার নম্বর খুঁজতে গিয়েও বিপাকে পড়েন। অনেক আবার লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় দীর্ঘক্ষণ। পরে ভোটাররা দেন মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

শামীমা ইয়াসমিন নামে এক ভোটার বলেন, ‘সংসদ নির্বাচন ও গণভোট– দুটোই সহজে বুঝতে পেরেছি। জাতীয় নির্বাচনের জন্য সাদা ব্যালটে কালো মার্কা দিতে হয়েছে। গণভোটের ব্যালট ছিল গোলাপি রঙের, তাতে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ টিক দেওয়ার নিয়ম। সিল দিতে এক মিনিটের মতো লেগেছে।’

তবে গণভোট নিয়ে আরেক ভোটার মুন্সী রইছ উদ্দীন বলেন, ‘হ্যাঁ-না জানি না। লেখাও বুঝি নাই। সময়ও পাইনি। এমনিই হ্যাঁ ভোট দিয়ে আসছি।’

অনুশীলনমূলক ভোটেও দীর্ঘ লাইনে থাকা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পরে সিইসি বলেন, ‘এটিও মূল্যায়নের অংশ। কোথায় ঘাটতি আছে, কোথায় পরিকল্পনায় ভুল ছিল, সেগুলো চিহ্নিত করে সংশোধন করা হবে। মানুষের কষ্ট বাড়ানো নয়; বরং সময় কমিয়ে ভোটগ্রহণকে আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় করাই আমাদের লক্ষ্য।’

তিনি আরও বলেন, মক ভোটিংয়ের উদ্দেশ্য শুধু ভোটের অনুশীলন নয়; বরং একটি পোলিং সেন্টারে বাস্তবে কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে তা যাচাই করা। ভোটারদের কিউ, বুথে প্রবেশের সময়, পোলিং ও প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের অবস্থান, মিডিয়ার ভূমিকা– সবকিছুই এ অনুশীলনের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

গণভোট নিয়ে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো গণভোটের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হয়নি। ইসি ও সরকার যৌথভাবে শিগগিরই ব্যাপক প্রচার কার্যক্রম চালাবে। গণভোটের আইনি অনুমোদন পাওয়ার পরই কমিশন এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে।

আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি উন্নতির দাবি

দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে দাবি করেছেন সিইসি নাসির উদ্দিন। তিনি বলেছেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ইসি নিয়মিত সমন্বয় করছে এবং সংশ্লিষ্ট সবাই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটতে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে নিরাপদ ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কখনোই একেবারে নিখুঁত ছিল না। তবে আমরা ওভারঅল সিচুয়েশন ভালো রাখার বিষয়ে আশাবাদী।’

নির্বাচনের আগের দিনগুলোতে সামগ্রিক পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে বলেও আশার কথা জানান তিনি।

মকে ভোট পড়েছে ৭০.৪ শতাংশ

মক ভোটিং কেন্দ্রের নির্বাচনি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আজ মক ভোটিংয়ে ৫০০ ভোটারের মধ্যে ৩৫২ জন ভোট দিয়েছেন। সেই হিসাবে ভোট পড়েছে ৭০.৪ শতাংশ।

এ কর্মকর্তা জানান, চারটি কক্ষে মক ভোটিং নেওয়া হয়েছে। এ কারণে প্রতিটি ভোট দিতে কত সময় লেগেছে তা তাৎক্ষণিক বলা সম্ভব নয়। তবে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত একটি কক্ষে ভোটগ্রহণের সময় পর্যবেক্ষণ করেছেন। এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন দেবেন তিনি। তার ভিত্তিতে সামগ্রিক বিষয়গুলো নির্ধারণ করবে নির্বাচন কমিশন।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত