জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

ইরানে মার্কিন হামলা নিয়ে ১০ পূর্বাভাস

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

এআই জেনারেটেড ছবি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পারমানবিক চুক্তি নিয়ে কয়েক দফা আলোচনা হলেও এখনো কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি দেশ দুটি। এর মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান নিয়েছে ট্রাম্পের বিশাল নৌবহর। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র যেমন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির পরবর্তী পদক্ষেপ মূল্যায়ন করছে, একইভাবে ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ অনুমান করার চেষ্টা করছে।

নীতিনির্ধারকদের কাছে নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই তাদের নিজস্ব মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করতে হয়। তাই সম্ভাব্য মার্কিন হামলা ক্রমেই বাস্তবসম্মত হয়ে ওঠার প্রেক্ষাপটে দশটি পূর্বাভাস নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিংক ট্যাঙ্ক আটলান্টিক কাউন্সিলের সঙ্গে আলোচনা করেছেন তাদের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক জ্যেষ্ঠ পরিচালক উইলিয়াম এফ ওয়েকসলার। এর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের স্পেশাল অপারেশনস ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলাবিষয়ক ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

খামেনি শেষ মুহূর্তে শক্তিশালী চুক্তি হতে দেবেন না

ইসরায়েলের সামরিক সাফল্য, সিরিয়ায় আসাদ সরকারের পতন, পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা, অর্থনৈতিক পতন ও দমন-পীড়নমূলক শাসনব্যবস্থার চাপে গত দেড় বছরে ইরানের কৌশলগত অবস্থান দুর্বল হয়েছে। তবুও শূন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মতো কঠোর শর্তে সম্মত হওয়া তাদের আদর্শিক অবস্থানের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে কূটনৈতিক বিলম্ব কৌশল নেওয়া তেহরান হঠাৎ এই মৌলিক ছাড় দেবে এমন কোনো ইঙ্গিত নেই। তাই শেষ মুহূর্তে শক্তিশালী সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা কম।

ট্রাম্প দুর্বল চুক্তি নাও মানতে পারেন

প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প তুলনামূলক নমনীয় ছিলেন। ফলে দুর্বল কাঠামোর চুক্তি মেনে নেওয়ার সম্ভাবনা ছিল। তবে এখন ইরানের দেরি ও আঞ্চলিক বাস্তবতার পরিবর্তন তাঁর অবস্থান কঠোর করেছে। এছাড়াও প্রকাশ্য রেড লাইনের কারণে দুর্বল চুক্তি মানলে তা ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিকর হতে পারে। যদিও অতীতে তাঁর অবস্থান বদলের নজির আছে, তবুও বর্তমান প্রেক্ষাপটে তিনি স্পষ্ট দুর্বল সমঝোতায় রাজি হওয়ার সম্ভাবনা কম।

ট্রাম্প দুর্বল হলে নেতানিয়াহু আগাম হামলা চালাতে পারেন

ইসরায়েল অতীতে সম্ভাব্য দুর্বল চুক্তি ঠেকাতে আগাম হামলা চালিয়েছে। যদি ট্রাম্প নরম অবস্থান নেন, তাহলে ইসরায়েল আবারও কৌশলগত পদক্ষেপ নিতে পারে। বিশেষ করে নির্বাচনী বছরে শক্ত অবস্থান নেওয়া তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সহায়ক। যুক্তরাষ্ট্রকে পরে সম্পৃক্ত করার ঝুঁকি থাকলেও, ইসরায়েল মনে করতে পারে আগাম হামলাই দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ বিকল্প।

তিনটি বিকল্প: এনফোর্স, ডিগ্রেড, রিমুভ

নীতিনির্ধারণে সাধারণত ধাপে ধাপে বিকল্প সাজানো হয়। এনফোর্স বা সীমিত প্রতিশোধমূলক হামলা, ডিগ্রেড বা ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতা কমিয়ে আনা ও রিমুভ বা নেতৃত্ব লক্ষ্য করে শাসনব্যবস্থা অস্থিতিশীল করা। প্রতিটির ঝুঁকি, সময়সীমা ও কৌশল আলাদা। প্রেসিডেন্ট চাইলে আংশিকভাবে মিলিয়েও পদক্ষেপ নিতে পারেন। বাস্তব সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক হিসাব, সামরিক প্রস্তুতি ও আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।

ট্রাম্প সম্ভবত এনফোর্স বেছে নেবেন

ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রকাশ্যে রেড লাইন ঘোষণা করেছেন। তাই তাঁর পক্ষে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় থাকা কঠিন। তবে তিনি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে জড়াতেও অনাগ্রহী। সীমিত পরিসরে হামলা তাঁর রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করতে পারে। এর মাধ্যমে শক্ত বার্তা দেওয়া এবং বড় সংঘাত এড়ানো যাবে। এছাড়াও এতে আলোচনা ভেঙে পড়ার দায় ইরানের ওপর চাপানো সম্ভব হবে। তবুও তাঁর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ধরন কখনও হঠাৎ বদলে যায়, তাই নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।

ইরানের প্রতিক্রিয়া প্রতীকী হতে পারে

ইরান সাধারণত তার প্রতিক্রিয়ায় সমতা দেখাতে চায়। কিন্তু সরাসরি বড় সংঘাতে যেতে চায় না। সীমিত মার্কিন হামলার জবাবে প্রতীকী ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলা চালাতে পারে, যাতে অভ্যন্তরীণভাবে শক্ত বার্তা দেওয়া যায়, আবার পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ এড়ানো যায়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানি নেতৃত্ব কিছু ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা ভুল হিসাবের আশঙ্কা বাড়ায়।

হিসাব ভুল হলে সংঘাত বাড়বে

ইরানের পাল্টা হামলায় মার্কিন বাহিনী হতাহত হলে ওয়াশিংটন চাপের মুখে পড়বে। তখন ডিগ্রেড ধাঁচের বিস্তৃত সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে, যেখানে পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হবে। ইসরায়েলও এই অভিযানে যুক্ত হতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ চাইবে না, তাই দ্রুত লক্ষ্য অর্জনের পর সংঘাত থামাতে চেষ্টা করবে।

ইরানি জনগণের পুনরুত্থান সম্ভব

দমন-পীড়নের পরও ইরানে বহুবার গণবিক্ষোভ হয়েছে। মার্কিন হামলার ফলে ইরানের শাসনের দুর্বলতা প্রকাশ পেলে জনগণ এটিকে নতুন সুযোগ হিসেবে দেখাতে পারে। বিশেষত পূর্বের ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ আন্দোলন দেখিয়েছে আদর্শিক চ্যালেঞ্জ কত গভীর। তবে ভয় ও দমননীতির বাস্তবতা ভিন্ন। জনগণ আবারো সেই ঝুঁকি নেবে কি না, তা নির্ভর করবে তারা আন্তর্জাতিক সমর্থনকে কতটা বিশ্বাসযোগ্য মনে করে তার ওপর।

কঠোর দমন

বড় আকারের বিক্ষোভ শুরু হলে শাসনব্যবস্থার জন্য তা অস্তিত্ব সংকট হিসেবে দেখবে ইরানি নেতৃত্ব। অতীতে তারা সহিংসভাবে আন্দোলন দমন করেছে। নিরাপত্তা বাহিনী গুলি, গ্রেপ্তার ও বিচারবহির্ভূত হত্যার পথ নিতে পারে। এতে বড় আকারে হতাহত হতে পারে। এতে স্বল্পমেয়াদে আন্দোলন থামলেও দীর্ঘমেয়াদে শাসনের বৈধতা কমে যাবে।

সংঘাত পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নিতে পারে

বিক্ষোভ দমনে গণহত্যা হলে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার চাপ বাড়বে। এতে উভয় পক্ষই অস্তিত্বের প্রশ্নে লড়াই করবে। ফলে সামরিক ফলাফলের চেয়ে রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। শাসন পতন, গৃহযুদ্ধ, সামরিক শাসন বা অন্য বিকল্প—সবই সম্ভাব্য। ইতিহাস দেখায়, এমন সংঘাতের শেষ কোথায় হবে, আগে থেকে বলা কঠিন।

আটলান্টিক কাউন্সিল থেকে সংক্ষেপিত অনুবাদ করেছেন মাহজাবিন নাফিসা

Ad 300x250

সম্পর্কিত