জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

ইরানে সরকার পতন চান, তবে পাহলভিকে চান না ট্রাম্প

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

রেজা শাহ পাহলভি ও ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সরকার পতনের ব্যাপারে ইতিবাচক হলেও, দেশটির নির্বাসিত স্বঘোষিত যুবরাজ রেজা শাহা পাহলভির সঙ্গে দেখা করতে চান না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইঙ্গিত করেছেন, চলমান আন্দোলনে ইরান সরকারের পতন হলেও, পরবর্তী যে শাসক হবেন তার সঙ্গে কাজ করতে এখনো প্রস্তুত নয় ওয়াশিংটন।

আজ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমনটাই বলা হয়েছে।

তবে দেখা না করলেও শাহ শাসকের শেষ সন্তান পাহলভিকে ‘ভালো মানুষ’ বলে মন্তব্য করেছেন। কিন্তু একজন প্রেসিডেন্ট হিসেবে পাহলভির সঙ্গে দেখা করা যথাযত হবে না। প্রসঙ্গত, ১৯৭৯ সালে ইসলামিক বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানের শাহ শাসনের পতন হয়েছিল। এরপরেই দেশটিতে ইসলামি শাসন ব্যবস্থা কায়েম হয়।

এক পডকাস্টে ট্রাম্প বলেন, আমি মনে করে আমাদের উচিত সবাইকে বাইরে যেতে দেওয়া এবং কে সামনে আসে তা দেখা। আমি মনে করি না তাঁর সঙ্গে দেখা করা খুব প্রয়োজনীয় কিছু হবে।

রেজা শাহ পাহলভি ইরানের বিরোধী দলের একাংশের নেতৃত্ব দেন। এই অংশটি রাজতন্ত্রের সমর্থক। আবার পাহলভির সঙ্গে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। এর আগে অনেকবার তাঁর বিরুদ্ধে সরকার পতনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগও তুলেছিল ইরান সরকার। আর পাহলভিকে সমর্থনের ব্যাপারে ইসরায়েলেরও কোনো রাখঢাক নেই। প্রকাশ্যেই তাঁর প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন করতে দেখা গেছে দেশটিকে।

এদিকে, ট্রাম্পের ওই মন্তব্যকে ইরানে যদি সরকার পতন হয় তবে পাহলভিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পরিচালনায় যে সমর্থন দেবে না তারই ইঙ্গিত মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, গত ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া আন্দোলনের গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল ১২তম দিন। এদিন দেশটির সবকটি প্রদেশে আন্দোলন ছড়ি পড়ে। আবার গতকাল প্রথম চলমান আন্দোলনে নিজের সমর্থকদের রাস্তায় নেমে আসার আহ্বান জানান পাহলভি। তার ডাকে সাড়া দিয়ে দেশটির বেশ কয়েকটি কুর্দি গোষ্ঠী রাস্তায় নেমে আসে। আর ইরান সরকার আন্দোলন দমিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। বৃহস্পতিবার দেশটির কর্তৃপক্ষ দেশব্যাপী ইন্টারনেট সেবা বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

এর আগে, ট্রাম্প ইরান সরকারকে হুমকি দিয়ে বলেছিল, সরকার যদি বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন চালায় তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হস্তক্ষেপ করবে। ইরান অবশ্য এই নিয়ে জাতিসংঘেও অভিযোগ জানিয়েছিল। গতকাল আবারও একই হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরান কর্তৃপক্ষ খুব বাজে কাজ করছে। তাদেরকে আমি জানাতে চাই যদি তারা মানুষ হত্যা শুরু করে, যেটি তারা দাঙ্গার সময় করেছিল (এমন অনেক দাঙ্গা হয়েছিল), তারা যদি সেটা করে তবে আমরা খুব ভয়াবহভাবে তাদের আঘাত করব।

ট্রাম্পকে কৃতজ্ঞতা পাহলভির

পাহলভি অবশ্য ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার ‘লাখ লাখ ইরানি’ বিক্ষোভ করেছেন দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে পাহলভি বলেন, আমি মুক্ত বিশ্বের নেতা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ইরানের শাসনব্যবস্থাকে জবাবদিহির প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করার জন্য ধন্যবাদ জানাতে চাই।

তিনি বলেন, এখন সময় তাঁকে (ট্রাম্প) ইউরোপীয়ান নেতাসহ অন্যদের অনুসরণ করা, তাদের নিরবতা ভাঙা এবং ইরানি জনগণের সমর্থনে আরও জোরালো ভাবে কাজ করা।

ইরানকে অব্যাহত হুমকি ট্রাম্পের

এর আগে গত মাসেও ইরানে আবার আক্রমণ চালানোর হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। বলেছিলেন, ইরান যদি পুনরায় পরমাণু বা ক্ষেপণাস্ত্র বানানো শুরু করে তবে ফের সেখানে হামলা চালানা হবে।

অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটের পাশাপাশি ইরান পরিবেশগত প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখিও হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে তীব্র পানি সংকট যা দেশটির অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাকে আরও তীব্র করে তুলেছে। আবার গত দুই বছরে মিত্রদের নেটওয়ার্ক সংকুচিত হওয়ায় দেশটি তার পররাষ্ট্র নীতিতেও বড় ধরনের আঘাত পেয়েছে।

বিপর্যস্ত ইরান, তবু হুঙ্কার ভুলেনি

এসব আঘাতের মধ্যে রয়েছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সশস্ত্র বিরোধী বাহিনীর সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করা; ইসরায়েলি আক্রমণে হিজবুল্লাহ’র দুর্বল হয়ে পড়া এবং সর্বশেষ ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে রাজধানী কারাকাস প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের তুলে নেওয়া। তারপরও ইরানের নেতারা ট্রাম্পের হুমকিকে প্রত্যাখ্যান করছেন। এই যেমন গত শনিবার কারাকাসে মার্কিন অভিযানের পর ইরানের সর্বোচ ধর্মীয় নেতা আলি খামেনি তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং জ্বালাময়ী বক্তব্য দিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে খামেনি লিখেন, আমরা শত্রুর কাছে আত্মসমর্পণ করব না। আমরা শত্রুকে নতজানু করে দেব।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানি রিয়ালের ইতিহাসের সর্বনিম্ন মান এবং গভীর অর্থনৈতিক সংকটের জেরে প্রথমে ব্যবসায়ীরা ইরানের ব্যবসায়ীরা আন্দোলন শুরু করেন। এমনিতেই নানান নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত ইরানের অর্থনীতি, তার ওপর হঠাৎ রিয়ালের পতনে ব্যবসায়ীদের কাছে বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে আসে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা রাস্তায় নামেন। এরপর তাদের সঙ্গে ধীরে ধীরে রাস্তায় নামতে শুরু করেন সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা। কর্তৃপক্ষ অবশ্য জ্বালানি সংরক্ষণের কথা বলে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছিল। কিন্তু তাতে খুব একটা লাভ হয়নি। আন্দোলন ক্রমশ জোরদার হতে থাকে এবং তা এখন সরকারের পতনের দাবিতে এসে দাঁড়িয়েছে। যদিও প্রথমে অর্থনৈতিক দুরাবস্থা নিয়ে আন্দোলন শুরু হয়েছিল।

Ad 300x250

সম্পর্কিত