কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে মৃত্যু ২৫০ ছাড়িয়েছে, চলছে উদ্ধারকাজ
স্ট্রিম ডেস্ক

কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ২৫০ ছাড়িয়েছে। এখনো ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের খুঁজছেন উদ্ধারকর্মীরা। ভবনের নিচে কেউ আটকে আছেন কি না, তা জানতে অনেক জায়গায় নীরব থাকতে বলা হচ্ছে। খবর রয়টার্স
গত সোমবার (১০ আগস্ট) ভোরে দেশটিতে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে বহু অ্যাপার্টমেন্ট ভবন, বাড়ি, স্কুল ও হাসপাতাল ধসে পড়ে।
মঙ্গলবার সকালে বিভিন্ন শহর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা ২৫৪। এর মধ্যে পেরেইরায় ১০১ জন এবং কালিতে ৯৫ জন নিহত হয়েছেন।
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের কাছের এলাকা চোকো এখনো বিদ্যুৎ থেকে বিচ্ছিন্ন। এতে সেখানে উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই ভূমিকম্পটি হলো। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থনৈতিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
উদ্ধারকারীরা ক্রেন, খননযন্ত্র এবং হাত দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
ভূমিকম্পে হাজারো মানুষ গৃহহীন হয়েছেন। অনেক বাড়িতে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। নিরাপত্তা যাচাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরিবারগুলো বাড়ির বাইরে অপেক্ষা করছে।
ক্যালির বাসিন্দা আলবের্তো মাচাদো বলেন, ছেলেকে স্কুলে নামিয়ে দেওয়ার পরই ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে তাঁদের বাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়। স্ত্রী, শাশুড়ি ও দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি এক প্রতিবেশীর বাড়িতে রাত কাটিয়েছেন।
ক্যালির মর্গ মরদেহে পূর্ণ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন শহরটির জনস্বাস্থ্যবিষয়ক সচিব জার্মান এসকোবার। আরও মরদেহ মর্গে নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
চোকো অঞ্চলের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। স্থানীয় সম্প্রদায় নেতা আন্দ্রেস কাইসেদো বলেন, সেখানে ইন্টারনেট সংযোগ পেতে মানুষ গাছে উঠছে। অনেক শিশু ও বয়স্ক মানুষ এখনো আতঙ্ক কাটিয়ে উঠতে পারেনি। সেখানে স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা চিকিৎসাসামগ্রীও নেই।
মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত তিনটি বিমানবন্দর বন্ধ ছিল। চোকোর অনেক এলাকায় গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল না। কয়েকটি প্রধান সড়কও বন্ধ ছিল।
ক্ষতিগ্রস্ত কিছু এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা এখনো স্বাভাবিক হয়নি। কর্মকর্তারা বলছেন, ভূমিকম্পে মোট ক্ষয়ক্ষতি এবং চূড়ান্ত মৃতের সংখ্যা নির্ধারণ করতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
.png)




-7bb02b-256x144.webp)

