ট্যাংকার আক্রান্তে জর্ডানের মার্কিন স্থাপনায় ইরানের হামলা

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯: ৪০
ইরানিয়ান ট্যাংকার। ছবি: সংগৃহীত
ইরানিয়ান ট্যাংকার। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে জর্ডানের মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বিবৃতিতে জানিয়েছে, ওমান উপসাগর ও ইরানের খার্গ দ্বীপের কাছে পাঁচটি ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। হামলার আগে এসব জাহাজের ক্রুদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজে ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা করেছে– এমন অভিযোগে এই পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে সেন্টকম।

তাদের ভাষ্য, গত দুই দিনে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে একটি মার্কিন নৌ-যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্যবস্তু করে দুবার হামলা চালায়। তবে যুদ্ধজাহাজটি হামলা এড়িয়ে আঞ্চলিক জলসীমায় টহল অব্যাহত রেখেছে। এতে কোনো মার্কিন সেনাসদস্য আহতও হননি।

প্রতিশোধ হিসেবে জর্ডানে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি। জর্ডানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইরানের ভূখণ্ড থেকে ছোড়া ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি ধ্বংস সম্ভভ করা হয়েছে। বাকি দুটি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিহীন এলাকায় পড়েছে। এতে কেউ হতাহত হয়নি।

এদিকে, কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরগুলোর কাছে থাকা তেলবাহী ট্যাংকারের ক্রুদের জাহাজ ছেড়ে যেতে সতর্কবার্তা দিয়েছে বিপ্লবী গার্ডের নৌবাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এসব জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে বলে তারা জানিয়েছে।

আগস্টে তুলনামূলক শান্ত থাকার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র আবার পাল্টাপাল্টি হামলায় জড়িয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ চড়ছে। এর প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারেও। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এশিয়ার বাজারে লেনদেনের শুরুতে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম বেড়ে প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

এর আগে হরমুজ প্রণালিতে একটি সাবমেরিন ড্রোন নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, আইআরজিসি ড্রোনটি জব্দ করেছে। শিগগির ড্রোনটির ছবি প্রকাশ করা হবে বলেও জানিয়েছে তারা।

তবে সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বলেছেন, সাবমেরিন ড্রোনটি ছিল ‘ত্রুটিপূর্ণ’ ও পুরোনো মডেলের। এতে কোনো সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা ছিল না। পাশাপাশি এতে কোনো গোপন রাডার ছিল না। ওই এলাকায় মার্কিন বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ বজায় রেখেছে ইরান। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। অন্যদিকে, ইরানের বন্দরগুলোতে নিজস্ব অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত