জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

থাইল্যান্ডে ভোটগ্রহণ শুরু: ক্ষমতার লড়াইয়ে ৩ প্রধান দল

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯: ২৩
থাইল্যান্ডে চলছে ভোটগ্রহণ। ছবি: সংগৃহীত

থাইল্যান্ডের বহুল আলোচিত সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় শুরু হওয়া এ ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

এবারের নির্বাচনে সংস্কারবাদী প্রগতিশীল, সেনাসমর্থিত রক্ষণশীল এবং জনতুষ্টিবাদী দলগুলো ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নিতে লড়াই করছে।

দেশটির নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে আগাম ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এরই মধ্যে ২২ লাখেরও বেশি ভোটার ভোট দিয়েছেন।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, থাইল্যান্ডের ৫ কোটি ৩০ লাখ ভোটারের সমর্থন পাওয়ার এই লড়াই মন্থর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান জাতীয়তাবাদী তৎপরতার মধ্যেই হচ্ছে।

এবারের নির্বাচনে ৫০টিরও বেশি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। তবে পিপলস পার্টি, ভূামজাইথাই এবং ফেউ থাই—এই তিনটি দলের দেশব্যাপী সাংগঠনিক ভিত্তি ও জনপ্রিয়তা রয়েছে।

নির্বাচন পূর্ববর্তী জরিপে দেখা গেছে, কোনো দলেরই পার্লামেন্টের ৫০০টি আসনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। ফলে দেশ পরিচালনায় কোয়ালিশন বা জোট সরকার গঠন অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে। আর নির্বাচিত আইনপ্রণেতারা পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করবেন।

ধারণা করা হচ্ছে, নাথফং রুয়েংপানিয়াউতের নেতৃত্বাধীন প্রগতিশীল পিপলস পার্টি সবচেয়ে বেশি আসন পাবে। তবে সেনাবাহিনী ও আদালতের প্রভাব কমানো এবং অর্থনৈতিক নীতিতে পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলোতে দলটির সংস্কারমূলক প্রতিশ্রুতি প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর কাছে অগ্রহণযোগ্য। ফলে অন্য দলগুলো একজোট হয়ে তাদের ক্ষমতার বাইরে রাখার চেষ্টা করতে পারে।

এই দলটি ‘মুভ ফরওয়ার্ড পার্টি’র উত্তরসূরি, যারা ২০২৩ সালের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েও সামরিক জান্তা নিযুক্ত সেনেটের কারণে ক্ষমতায় যেতে পারেনি। পরে রাজকীয় অবমাননা আইন সংস্কারের দাবির জেরে সাংবিধানিক আদালত দলটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করেছিল।

তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুলের নেতৃত্বাধীন ভুমজাইথাই পার্টিকে বর্তমানে রাজতন্ত্রী-সামরিক গোষ্ঠীর প্রধান রক্ষক হিসেবে দেখা হচ্ছে। আবার রাজতন্ত্রী-সামরিক গোষ্ঠীরও পছন্দের তালিকায় শীর্ষে আছে ভুমজাইথাই পার্টি।

এর আগে, কম্বোডিয়ার সঙ্গে সম্পর্কে নৈতিক আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা ক্ষমতাচ্যুত হন। এরপর গত সেপ্টেম্বর থেকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন অনুতিন। কিন্তু অনাস্থা প্রস্তাবের হুমকির মুখে পড়ে নতুন নির্বাচন দিতে গত ডিসেম্বরে পার্লামেন্ট ভেঙে দেন তিনি।

তিনি তার নির্বাচনী প্রচারণার অর্থনৈতিক উদ্দীপনা এবং জাতীয় নিরাপত্তাকে জোর দিয়েছেন। সেই সঙ্গে প্রতিবেশী কম্বোডিয়ার সঙ্গে সংঘাতের জেরে সৃষ্ট জাতীয়তাবাদী উন্মাদনাকেও কাজে লাগাচ্ছেন তিনি।

অন্যদিকে, নির্বাচনের তৃতীয় প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ‘ফেউ থাই’ কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার সমর্থিত রাজনৈতিক আন্দোলনের নতুন সংস্করণ। দলটি ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা ‘থাই রাক থাই’ পার্টির জনতুষ্টিবাদী নীতিগুলোর ওপর ভিত্তি করে এগোচ্ছে। সিনাওিয়াত্রার সরকারকে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছিল।

দলটি অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণ এবং নগদ অর্থ সহায়তার মতো জনপ্রিয় প্রতিশ্রুতিকে ভিত্তি করে প্রচারণা চালিয়েছে। আর থাকসিনের ভাগনে ইয়োদচানন ওংসাওয়াতকে তাদের প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, আজকে সাধারণ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটও চলছে। গণভোটে ভোটারদের কাছে দেশটিতে ২০১৭ সালের সামরিক-প্রণীত সংবিধান পরিবর্তন করবে কি না তা জানতে চাওয়া হচ্ছে।

গণতন্ত্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোর মতে, সেনাবাহিনী ও বিচার বিভাগের মতো অনির্বাচিত প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রভাব কমাতে নতুন এই সংবিধান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক পদক্ষেপ। তবে রক্ষণশীলরা সতর্ক করেছেন, এর ফলে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত