স্ট্রিম ডেস্ক

একাত্তরের জুন মাস। আকাশ ভেঙে নামছে আষাঢ়ের বারিধারা। সীমান্তের ওপারে বাংলার মানুষের চোখের জল মিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে কর্দমাক্ত পথে। ঠিক সেই সময়েই ‘লাইফ’ ম্যাগাজিনের সাংবাদিক জন সার ও আলোকচিত্রী মার্ক গডফেরি পা রাখেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তে। উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধের খবর সংগ্রহ করা, কিন্তু তাঁরা যা দেখলেন, তা কোনো সাধারণ যুদ্ধের চিত্র ছিল না। ছিল এক অকল্পনীয় মানবিক বিপর্যয়ের জীবন্ত দলিল।
করিমপুর সীমান্তের পথে নেমে দেখলেন মাইলের পর মাইলজুড়ে মানুষের স্রোত। তাঁরা কেউ পর্যটক নন, তাঁরা শরণার্থী। পেছনে ফেলে এসেছেন নিজেদের ভিটামাটি, সাজানো সংসার আর প্রিয়জনের লাশ। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বুলেটের হাত থেকে প্রাণে বেঁচে তাঁরা ছুটে এসেছেন নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে। কিন্তু এখানে এসে তাঁরা মুখোমুখি হয়েছেন আরেক অদৃশ্য ঘাতকের—যার নাম ‘কলেরা’। বুলেট হয়তো লক্ষ্যভ্রষ্ট হতে পারে, কিন্তু মহামারির থাবা ছিল আরও নির্মম, আরও নিশ্চিত।
জন সার করিমপুরের রাস্তায় হাঁটতে থাকা অসীম দৈর্ঘ্যের শরণার্থী মিছিলে অদ্ভুত এক নীরবতা লক্ষ করলেন। অনেকের মুখেই রুমাল বা কাপড় চাপা দেওয়া। কৌতূহলী হয়ে তিনি একজনের কাছে জানতে চাইলেন পরিস্থিতির কথা। জরাজীর্ণ শরীরের সেই লোকটি মুখের কাপড় সামান্য সরিয়ে ফিসফিস করে কেবল একটি শব্দই উচ্চারণ করতে পারলেন—কলেরা।
এই একটি শব্দেই যেন পুরো পরিস্থিতির ভয়াবহতা মূর্ত হয়ে উঠল। পেছনে নিশ্চিত মৃত্যু, সামনে মহামারি, আর ডানে-বাঁয়ে কেবল লাশের স্তূপ। করিমপুরের রাস্তার পাশেই ছিল একটি শরণার্থীশিবির। প্রায় ১৫ হাজার মানুষের আশ্রয়স্থল। কিন্তু সেই আশ্রয়স্থল পরিণত হয়েছিল মৃত্যুপুরীতে। জন সার জানতে পারলেন, কলেরার ছোবলে সেখানে ইতিমধ্যেই সাত শ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। বাকিরা ভয়ে শিবির ছেড়ে পালাচ্ছে। কিন্তু পালাবে কোথায়? কলেরা যে তাদের ছায়ার মতো অনুসরণ করছে।

জন সার তাঁর প্রতিবেদনে এমন কিছু দৃশ্য বর্ণনা করেছেন, যা পড়লে আজও গা শিউরে ওঠে। তিনি দেখলেন, রাস্তার পাশে, নালা-নর্দমায় পড়ে আছে অসংখ্য মৃতদেহ। ঝাঁকে ঝাঁকে শকুন নেমে এসেছে সেই লাশ খেতে। কিন্তু মৃতদেহের সংখ্যা এতই বেশি যে মাংস খেতে খেতে শকুনেরাও যেন ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। তাদেরও অরুচি ধরে গেছে। প্রকৃতির এই পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাও যেন হার মেনেছে লাশের সংখ্যার কাছে। সদ্য মারা যাওয়া অনেকের শরীর তখনো গরম। কিন্তু সৎকারের নেই কোনো উপায়।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্যটি জন সার দেখেছিলেন একটি চলন্ত ট্রাকের পেছনে। ট্রাকটি শরণার্থীদের নিয়ে নিরাপদ স্থানের দিকে ছুটছিল। সেই ট্রাকের ওপরই মারা যায় এক শিশু। তাঁর মা শাড়ির আঁচল ছিঁড়ে সন্তানের লাশটি একটি পুঁটলির মতো করে বাঁধলেন। ট্রাক থামানোর কোনো উপায় নেই। থামলে হয়তো আরও অনেকে পিছিয়ে পড়বে, হয়তো তাঁর অন্য সন্তানেরাও বাঁচবে না। তাই সন্তানহারা মা বাধ্য হয়েই চলন্ত ট্রাক থেকে তাঁর নাড়িছেঁড়া ধনের মৃতদেহটি রাস্তার পাশের ধানখেতে ছুড়ে ফেলে দিলেন। জীবন বাঁচানোর লড়াইয়ে মৃত সন্তানের লাশ সৎকারের সুযোগটুকুও সেই মায়ের কপালে জুটল না। ট্রাকটি এগিয়ে চলল, পেছনে ধানখেতের কাদায় পড়ে রইল এক মায়ের কলিজার টুকরা।
আলোকচিত্রী মার্ক গডফেরি লেন্সবন্দী করেছিলেন এক অভিশপ্ত বাসের ছবি। দোতলা সেই বাসটির ভেতরে তিল ধারণের ঠাঁই নেই, ছাদের ওপরও গাদাগাদি করে বসে আছে অন্তত সত্তর জন মানুষ। বাসটি যেন কলেরার জীবাণু বহনকারী এক যান। যাত্রীদের অনেকেই অসুস্থ, বমি করছে অনবরত। ছাদের ওপর থেকে সেই বমি জানালার ফাঁক গলে ভেতরে ঢুকছে, আবার জানালার যাত্রীদের বমি ছিটকে পড়ছে রাস্তার পাশে হেঁটে চলা ক্লান্ত পথচারীদের গায়ে। এভাবেই বাতাসের বেগে ছড়িয়ে পড়ছিল মহামারি। বাসটির চাকা ঘুরছিল, আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছিল লাশের সংখ্যা। এইসব হতভাগ্য মানুষের চোখ গর্তের মধ্যে ঢুকে গেছে, আর তার মধ্যে জ্বলজ্বল করছে আতঙ্ক।

করিমপুরের আশেপাশের গ্রামগুলোতে তখন কোনো ডাক্তার নেই। নেই কোনো ওষুধ বা কলেরার স্যালাইন। মুমূর্ষু রোগীদের নিয়ে স্বজনেরা ছুটছে কৃষ্ণনগর হাসপাতালের দিকে। কেউ কাঁধে করে, কেউ ঝুড়িতে, কেউবা গরুর গাড়িতে করে প্রিয়জনকে বয়ে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছেও মিলছে না স্বস্তি। হাসপাতালের বারান্দা, করিডর ছাপিয়ে রোগীদের ঠাঁই হয়েছে খোলা আকাশের নিচে কিংবা বাঁশের চাটাইয়ের তৈরি অস্থায়ী ছাউনিতে।
হাসপাতালের সেই পরিবেশ ছিল নরকের মতো। মাছি ভনভন করছে রোগীদের মুখে। বাতাসে লাশের পচা গন্ধ। স্বজনেরা হাতপাখা বা কাপড় দিয়ে মাছি তাড়ানোর ব্যর্থ চেষ্টা করছে। জন সার দেখলেন, নার্সরা আপ্রাণ চেষ্টা করছেন শিরায় স্যালাইন পুশ করতে, কিন্তু রোগীর তুলনায় সেবিকা বা ডাক্তারের সংখ্যা একেবারেই নগণ্য। জীবন আর মৃত্যুর মাঝখানে তখন কেবল সময়ের ব্যবধান।
হাসপাতাল চত্বরে জন সার রাস্তা থেকে কুড়িয়ে আনা একটি সাত বছরের ফুটফুটে মেয়েকে কোলে তুলে নিয়েছিলেন। মেয়েটির চোখ বড় বড় করে খোলা। কিন্তু কোনো প্রাণ নেই। একজন নার্স এসে জানালেন, সব শেষ। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একজন বিধ্বস্ত ডাক্তার জন সারকে ক্লান্ত স্বরে বলেছিলেন, ‘মিস্টার সার, জানেন, এর চেয়ে রাস্তার কুকুর-বিড়ালও শান্তিতে মরে। অন্তত তারা মরার সময় একটু জায়গা পায়। আর এই মানুষগুলো? এরা ইঁদুরের মতো মরছে, এদের দেখার কেউ নেই।’
জন সারের এই লোমহর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হলো ‘লাইফ’ ম্যাগাজিনে। বিশ্বজুড়ে শুরু হয় তোলপাড়। সবাই জানতে পারে, শুধু গুলি করে মানুষ মারাই গণহত্যা নয়। চিকিৎসা ও আশ্রয়ের অভাবে লাখো মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়াও একপ্রকার গণহত্যা। জন সারের সেই লেখা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য দলিল।

একাত্তরের জুন মাস। আকাশ ভেঙে নামছে আষাঢ়ের বারিধারা। সীমান্তের ওপারে বাংলার মানুষের চোখের জল মিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে কর্দমাক্ত পথে। ঠিক সেই সময়েই ‘লাইফ’ ম্যাগাজিনের সাংবাদিক জন সার ও আলোকচিত্রী মার্ক গডফেরি পা রাখেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তে। উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধের খবর সংগ্রহ করা, কিন্তু তাঁরা যা দেখলেন, তা কোনো সাধারণ যুদ্ধের চিত্র ছিল না। ছিল এক অকল্পনীয় মানবিক বিপর্যয়ের জীবন্ত দলিল।
করিমপুর সীমান্তের পথে নেমে দেখলেন মাইলের পর মাইলজুড়ে মানুষের স্রোত। তাঁরা কেউ পর্যটক নন, তাঁরা শরণার্থী। পেছনে ফেলে এসেছেন নিজেদের ভিটামাটি, সাজানো সংসার আর প্রিয়জনের লাশ। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বুলেটের হাত থেকে প্রাণে বেঁচে তাঁরা ছুটে এসেছেন নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে। কিন্তু এখানে এসে তাঁরা মুখোমুখি হয়েছেন আরেক অদৃশ্য ঘাতকের—যার নাম ‘কলেরা’। বুলেট হয়তো লক্ষ্যভ্রষ্ট হতে পারে, কিন্তু মহামারির থাবা ছিল আরও নির্মম, আরও নিশ্চিত।
জন সার করিমপুরের রাস্তায় হাঁটতে থাকা অসীম দৈর্ঘ্যের শরণার্থী মিছিলে অদ্ভুত এক নীরবতা লক্ষ করলেন। অনেকের মুখেই রুমাল বা কাপড় চাপা দেওয়া। কৌতূহলী হয়ে তিনি একজনের কাছে জানতে চাইলেন পরিস্থিতির কথা। জরাজীর্ণ শরীরের সেই লোকটি মুখের কাপড় সামান্য সরিয়ে ফিসফিস করে কেবল একটি শব্দই উচ্চারণ করতে পারলেন—কলেরা।
এই একটি শব্দেই যেন পুরো পরিস্থিতির ভয়াবহতা মূর্ত হয়ে উঠল। পেছনে নিশ্চিত মৃত্যু, সামনে মহামারি, আর ডানে-বাঁয়ে কেবল লাশের স্তূপ। করিমপুরের রাস্তার পাশেই ছিল একটি শরণার্থীশিবির। প্রায় ১৫ হাজার মানুষের আশ্রয়স্থল। কিন্তু সেই আশ্রয়স্থল পরিণত হয়েছিল মৃত্যুপুরীতে। জন সার জানতে পারলেন, কলেরার ছোবলে সেখানে ইতিমধ্যেই সাত শ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। বাকিরা ভয়ে শিবির ছেড়ে পালাচ্ছে। কিন্তু পালাবে কোথায়? কলেরা যে তাদের ছায়ার মতো অনুসরণ করছে।

জন সার তাঁর প্রতিবেদনে এমন কিছু দৃশ্য বর্ণনা করেছেন, যা পড়লে আজও গা শিউরে ওঠে। তিনি দেখলেন, রাস্তার পাশে, নালা-নর্দমায় পড়ে আছে অসংখ্য মৃতদেহ। ঝাঁকে ঝাঁকে শকুন নেমে এসেছে সেই লাশ খেতে। কিন্তু মৃতদেহের সংখ্যা এতই বেশি যে মাংস খেতে খেতে শকুনেরাও যেন ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। তাদেরও অরুচি ধরে গেছে। প্রকৃতির এই পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাও যেন হার মেনেছে লাশের সংখ্যার কাছে। সদ্য মারা যাওয়া অনেকের শরীর তখনো গরম। কিন্তু সৎকারের নেই কোনো উপায়।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্যটি জন সার দেখেছিলেন একটি চলন্ত ট্রাকের পেছনে। ট্রাকটি শরণার্থীদের নিয়ে নিরাপদ স্থানের দিকে ছুটছিল। সেই ট্রাকের ওপরই মারা যায় এক শিশু। তাঁর মা শাড়ির আঁচল ছিঁড়ে সন্তানের লাশটি একটি পুঁটলির মতো করে বাঁধলেন। ট্রাক থামানোর কোনো উপায় নেই। থামলে হয়তো আরও অনেকে পিছিয়ে পড়বে, হয়তো তাঁর অন্য সন্তানেরাও বাঁচবে না। তাই সন্তানহারা মা বাধ্য হয়েই চলন্ত ট্রাক থেকে তাঁর নাড়িছেঁড়া ধনের মৃতদেহটি রাস্তার পাশের ধানখেতে ছুড়ে ফেলে দিলেন। জীবন বাঁচানোর লড়াইয়ে মৃত সন্তানের লাশ সৎকারের সুযোগটুকুও সেই মায়ের কপালে জুটল না। ট্রাকটি এগিয়ে চলল, পেছনে ধানখেতের কাদায় পড়ে রইল এক মায়ের কলিজার টুকরা।
আলোকচিত্রী মার্ক গডফেরি লেন্সবন্দী করেছিলেন এক অভিশপ্ত বাসের ছবি। দোতলা সেই বাসটির ভেতরে তিল ধারণের ঠাঁই নেই, ছাদের ওপরও গাদাগাদি করে বসে আছে অন্তত সত্তর জন মানুষ। বাসটি যেন কলেরার জীবাণু বহনকারী এক যান। যাত্রীদের অনেকেই অসুস্থ, বমি করছে অনবরত। ছাদের ওপর থেকে সেই বমি জানালার ফাঁক গলে ভেতরে ঢুকছে, আবার জানালার যাত্রীদের বমি ছিটকে পড়ছে রাস্তার পাশে হেঁটে চলা ক্লান্ত পথচারীদের গায়ে। এভাবেই বাতাসের বেগে ছড়িয়ে পড়ছিল মহামারি। বাসটির চাকা ঘুরছিল, আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছিল লাশের সংখ্যা। এইসব হতভাগ্য মানুষের চোখ গর্তের মধ্যে ঢুকে গেছে, আর তার মধ্যে জ্বলজ্বল করছে আতঙ্ক।

করিমপুরের আশেপাশের গ্রামগুলোতে তখন কোনো ডাক্তার নেই। নেই কোনো ওষুধ বা কলেরার স্যালাইন। মুমূর্ষু রোগীদের নিয়ে স্বজনেরা ছুটছে কৃষ্ণনগর হাসপাতালের দিকে। কেউ কাঁধে করে, কেউ ঝুড়িতে, কেউবা গরুর গাড়িতে করে প্রিয়জনকে বয়ে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছেও মিলছে না স্বস্তি। হাসপাতালের বারান্দা, করিডর ছাপিয়ে রোগীদের ঠাঁই হয়েছে খোলা আকাশের নিচে কিংবা বাঁশের চাটাইয়ের তৈরি অস্থায়ী ছাউনিতে।
হাসপাতালের সেই পরিবেশ ছিল নরকের মতো। মাছি ভনভন করছে রোগীদের মুখে। বাতাসে লাশের পচা গন্ধ। স্বজনেরা হাতপাখা বা কাপড় দিয়ে মাছি তাড়ানোর ব্যর্থ চেষ্টা করছে। জন সার দেখলেন, নার্সরা আপ্রাণ চেষ্টা করছেন শিরায় স্যালাইন পুশ করতে, কিন্তু রোগীর তুলনায় সেবিকা বা ডাক্তারের সংখ্যা একেবারেই নগণ্য। জীবন আর মৃত্যুর মাঝখানে তখন কেবল সময়ের ব্যবধান।
হাসপাতাল চত্বরে জন সার রাস্তা থেকে কুড়িয়ে আনা একটি সাত বছরের ফুটফুটে মেয়েকে কোলে তুলে নিয়েছিলেন। মেয়েটির চোখ বড় বড় করে খোলা। কিন্তু কোনো প্রাণ নেই। একজন নার্স এসে জানালেন, সব শেষ। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একজন বিধ্বস্ত ডাক্তার জন সারকে ক্লান্ত স্বরে বলেছিলেন, ‘মিস্টার সার, জানেন, এর চেয়ে রাস্তার কুকুর-বিড়ালও শান্তিতে মরে। অন্তত তারা মরার সময় একটু জায়গা পায়। আর এই মানুষগুলো? এরা ইঁদুরের মতো মরছে, এদের দেখার কেউ নেই।’
জন সারের এই লোমহর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হলো ‘লাইফ’ ম্যাগাজিনে। বিশ্বজুড়ে শুরু হয় তোলপাড়। সবাই জানতে পারে, শুধু গুলি করে মানুষ মারাই গণহত্যা নয়। চিকিৎসা ও আশ্রয়ের অভাবে লাখো মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়াও একপ্রকার গণহত্যা। জন সারের সেই লেখা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য দলিল।
আজকাল খেলনার দোকানে শুধু ছোট ছেলে-মেয়েদেরই দেখা যায় না, সেখানে পঁচিশ, ত্রিশ এমনকি এর চেয়ে বেশি বয়সীদেরও দেখা মিলছে। এখন তাদেরও দেখা যায় হাসিমুখে বিভিন্ন খেলনা নেড়ে-চেড়ে দেখছেন বা কিনছেন। কোনো শিশুর জন্য নয়, বরং তারা খেলনাটি কিনছেন নিজের জন্যই!
১৭ ঘণ্টা আগে
স্যামুয়েল হান্টিংটনের ‘সভ্যতার সংঘাত’ তত্ত্ব আন্তর্জাতিক সম্পর্কের আলোচনায় দীর্ঘদিন ধরে অন্যতম বিতর্কিত ধারণা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এই তত্ত্বে বলা হয়, স্নায়ুযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর বিশ্ব রাজনীতির সংঘাত আর কমিউনিজম বনাম পুঁজিবাদের মতো মতাদর্শভিত্তিক থাকবে না।
১৯ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা কত টাকা বেতন-ভাতা পান, এ প্রশ্নটি সাধারণ মানুষের মধ্যে বরাবরই কৌতূহলের জন্ম দেয়। বিশেষ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠনের সময় এই আলোচনা আরও জোরালো হয়। বেতনের বাইরে তাঁরা আর কী কী সুযোগ-সুবিধা পান, রাষ্ট্র তাঁদের পেছনে কী ধরনের খরচ বহন করে, এসব নিয়েও মানুষে
১৯ ঘণ্টা আগে
পাঠ্যপুস্তকের ভাষা কোনো নিরীহ বস্তু নয়। এর পেছনে থাকে দৃষ্টিভঙ্গি আর রাষ্ট্রের নীরব উপস্থিতি। আরেকটি সত্য হলো, পাঠ্যবই রচনার প্রক্রিয়ায় অনেক সময় নিরাপত্তা-ভাবনা বড় হয়ে ওঠে: ‘এটা লিখলে বিতর্ক হবে না তো?
২ দিন আগে