ছুটি মানেই অলসতা নয়। বরং ছুটি হতে পারে নিজের ভেতরের সম্ভাবনাগুলো আবিষ্কারের সুযোগ। প্রশ্ন হলো, এই সময়টাকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়?
সাগর কর্মকার

বার্ষিক পরীক্ষা শেষ। সঙ্গে যোগ হয়েছে শীতকালীন দীর্ঘ ছুটি। শিক্ষার্থীদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে স্বস্তিরও সময়। পড়ার চাপ নেই, স্কুলের তাড়া নেই। কিন্তু এই বাড়তি সময়টাই এখন এক ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাস্তবতা হলো, ছুটির বড় একটি অংশ চলে যাচ্ছে মোবাইল ফোনের পর্দায় গেম, ভিডিও আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার যে শিক্ষার্থীদের জন্য ক্ষতিকর, তা নতুন করে বলার কিছু নেই। চিকিৎসক ও শিক্ষাবিদরা বারবার সেটা সতর্ক করছেন। এতে চোখের সমস্যা বাড়ে, ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে, মনোযোগ কমে যায়। তার চেয়েও বড় কথা, সময়টা ব্যবহার করা যেত নিজেকে গড়ে তোলার কাজে।
ছুটি মানেই অলসতা নয়। বরং ছুটি হতে পারে নিজের ভেতরের সম্ভাবনাগুলো আবিষ্কারের সুযোগ। প্রশ্ন হলো, এই সময়টাকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়?
প্রথমেই আসে দক্ষতা উন্নয়নের কথা। অনেক শিক্ষার্থী ছবি আঁকতে ভালোবাসে, কেউ গান করে, কেউ লেখে, কেউ-বা হাতে কলমে কিছু বানাতে আগ্রহী। স্কুলের ব্যস্ত সময়ে এসব চর্চা নিয়মিত করা সম্ভব হয় না। শীতের ছুটিতে প্রতিদিন অল্প সময় নির্দিষ্ট করে এসব কাজে যুক্ত হলে ধীরে ধীরে তৈরি হয় আত্মবিশ্বাস ও সৃজনশীলতা। পাশাপাশি বর্তমান সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী কম্পিউটার ব্যবহার, টাইপিং কিংবা অনলাইনে অনেক কিছু শেখার সুযোগও কাজে লাগানো যেতে পারে।

এরপর আসে খেলাধুলা ও শরীরচর্চা। শীতকাল খেলাধুলার জন্য আদর্শ সময়। মাঠে দৌড়ানো, বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল বা ক্রিকেট খেলা শুধু শরীরকে সুস্থ রাখে না, মনকেও প্রফুল্ল করে। দীর্ঘ সময় ঘরে বসে মোবাইল দেখার বদলে প্রতিদিন কিছুটা সময় মাঠে কাটানো শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য জরুরি।
ছুটির সময় মানবিক কাজে যুক্ত হওয়ার সুযোগও আছে। শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, পুরোনো কিন্তু ব্যবহারযোগ্য কাপড় সংগ্রহ ও বিতরণ, আশপাশের ছোট শিশুদের পড়ায় সহায়তা—এসব কাজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা তৈরি করে। বইয়ের পাঠের বাইরেও যে জীবন আছে, সেটি তাঁরা তখন বাস্তবে অনুভব করতে শেখে।
এ সময়ে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা হতে পারে সবচেয়ে মূল্যবান বিনিয়োগ। পাঠ্যবইয়ের বাইরে গল্প, উপন্যাস বা জ্ঞানমূলক বই শিক্ষার্থীদের চিন্তাজগতকে প্রসারিত করে। একটি ভালো বই অনেক সময় একজন শিক্ষার্থীর ভাবনার দিকই বদলে দিতে পারে।

এখানে অভিভাবকদের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। শুধু মোবাইল কম ব্যবহার করতে বলা যথেষ্ট নয়; বরং বিকল্প কীভাবে তৈরি করা যায়, সে দিকেও নজর দিতে হবে। সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটানো, তাদের আগ্রহ বোঝা এবং গঠনমূলক কাজে উৎসাহ দেওয়াই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর পথ।
শীতের ছুটি মানে শুধু অলসতা বা মোবাইলের স্ক্রিনে ডুবে থাকা নয়। এই অবসর যদি পরিকল্পিতভাবে দক্ষতা, খেলাধুলা ও মানবিক কাজে ব্যয় করা যায়, তবে শিক্ষার্থীরা নতুন বছরে ফিরবে আরও আত্মবিশ্বাসী, সৃজনশীল ও দায়িত্ববান মানুষ হিসেবে। আজকের এই সচেতন উদ্যোগই গড়ে তুলবে আগামীর সুস্থ, দক্ষ ও মানবিক প্রজন্ম।
শীতের ছুটি শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু এই সময়ে গড়ে ওঠা অভ্যাস ও শেখা বিষয়গুলো থেকে যাবে দীর্ঘদিন। তাই ছুটিকে যদি আমরা নিছক ফাঁকা সময় না ভেবে সম্ভাবনার সময় হিসেবে দেখি, তবে শিক্ষার্থীরা নতুন বছরে ফিরবে আরও সচেতন, আত্মবিশ্বাসী ও প্রস্তুত মানুষ হিসেবে।
লেখক: সহকারী শিক্ষক, বিয়াম ল্যাবরেটরী স্কুল, হবিগঞ্জ

বার্ষিক পরীক্ষা শেষ। সঙ্গে যোগ হয়েছে শীতকালীন দীর্ঘ ছুটি। শিক্ষার্থীদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে স্বস্তিরও সময়। পড়ার চাপ নেই, স্কুলের তাড়া নেই। কিন্তু এই বাড়তি সময়টাই এখন এক ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাস্তবতা হলো, ছুটির বড় একটি অংশ চলে যাচ্ছে মোবাইল ফোনের পর্দায় গেম, ভিডিও আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার যে শিক্ষার্থীদের জন্য ক্ষতিকর, তা নতুন করে বলার কিছু নেই। চিকিৎসক ও শিক্ষাবিদরা বারবার সেটা সতর্ক করছেন। এতে চোখের সমস্যা বাড়ে, ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে, মনোযোগ কমে যায়। তার চেয়েও বড় কথা, সময়টা ব্যবহার করা যেত নিজেকে গড়ে তোলার কাজে।
ছুটি মানেই অলসতা নয়। বরং ছুটি হতে পারে নিজের ভেতরের সম্ভাবনাগুলো আবিষ্কারের সুযোগ। প্রশ্ন হলো, এই সময়টাকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়?
প্রথমেই আসে দক্ষতা উন্নয়নের কথা। অনেক শিক্ষার্থী ছবি আঁকতে ভালোবাসে, কেউ গান করে, কেউ লেখে, কেউ-বা হাতে কলমে কিছু বানাতে আগ্রহী। স্কুলের ব্যস্ত সময়ে এসব চর্চা নিয়মিত করা সম্ভব হয় না। শীতের ছুটিতে প্রতিদিন অল্প সময় নির্দিষ্ট করে এসব কাজে যুক্ত হলে ধীরে ধীরে তৈরি হয় আত্মবিশ্বাস ও সৃজনশীলতা। পাশাপাশি বর্তমান সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী কম্পিউটার ব্যবহার, টাইপিং কিংবা অনলাইনে অনেক কিছু শেখার সুযোগও কাজে লাগানো যেতে পারে।

এরপর আসে খেলাধুলা ও শরীরচর্চা। শীতকাল খেলাধুলার জন্য আদর্শ সময়। মাঠে দৌড়ানো, বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল বা ক্রিকেট খেলা শুধু শরীরকে সুস্থ রাখে না, মনকেও প্রফুল্ল করে। দীর্ঘ সময় ঘরে বসে মোবাইল দেখার বদলে প্রতিদিন কিছুটা সময় মাঠে কাটানো শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য জরুরি।
ছুটির সময় মানবিক কাজে যুক্ত হওয়ার সুযোগও আছে। শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, পুরোনো কিন্তু ব্যবহারযোগ্য কাপড় সংগ্রহ ও বিতরণ, আশপাশের ছোট শিশুদের পড়ায় সহায়তা—এসব কাজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা তৈরি করে। বইয়ের পাঠের বাইরেও যে জীবন আছে, সেটি তাঁরা তখন বাস্তবে অনুভব করতে শেখে।
এ সময়ে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা হতে পারে সবচেয়ে মূল্যবান বিনিয়োগ। পাঠ্যবইয়ের বাইরে গল্প, উপন্যাস বা জ্ঞানমূলক বই শিক্ষার্থীদের চিন্তাজগতকে প্রসারিত করে। একটি ভালো বই অনেক সময় একজন শিক্ষার্থীর ভাবনার দিকই বদলে দিতে পারে।

এখানে অভিভাবকদের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। শুধু মোবাইল কম ব্যবহার করতে বলা যথেষ্ট নয়; বরং বিকল্প কীভাবে তৈরি করা যায়, সে দিকেও নজর দিতে হবে। সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটানো, তাদের আগ্রহ বোঝা এবং গঠনমূলক কাজে উৎসাহ দেওয়াই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর পথ।
শীতের ছুটি মানে শুধু অলসতা বা মোবাইলের স্ক্রিনে ডুবে থাকা নয়। এই অবসর যদি পরিকল্পিতভাবে দক্ষতা, খেলাধুলা ও মানবিক কাজে ব্যয় করা যায়, তবে শিক্ষার্থীরা নতুন বছরে ফিরবে আরও আত্মবিশ্বাসী, সৃজনশীল ও দায়িত্ববান মানুষ হিসেবে। আজকের এই সচেতন উদ্যোগই গড়ে তুলবে আগামীর সুস্থ, দক্ষ ও মানবিক প্রজন্ম।
শীতের ছুটি শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু এই সময়ে গড়ে ওঠা অভ্যাস ও শেখা বিষয়গুলো থেকে যাবে দীর্ঘদিন। তাই ছুটিকে যদি আমরা নিছক ফাঁকা সময় না ভেবে সম্ভাবনার সময় হিসেবে দেখি, তবে শিক্ষার্থীরা নতুন বছরে ফিরবে আরও সচেতন, আত্মবিশ্বাসী ও প্রস্তুত মানুষ হিসেবে।
লেখক: সহকারী শিক্ষক, বিয়াম ল্যাবরেটরী স্কুল, হবিগঞ্জ
আজকাল খেলনার দোকানে শুধু ছোট ছেলে-মেয়েদেরই দেখা যায় না, সেখানে পঁচিশ, ত্রিশ এমনকি এর চেয়ে বেশি বয়সীদেরও দেখা মিলছে। এখন তাদেরও দেখা যায় হাসিমুখে বিভিন্ন খেলনা নেড়ে-চেড়ে দেখছেন বা কিনছেন। কোনো শিশুর জন্য নয়, বরং তারা খেলনাটি কিনছেন নিজের জন্যই!
৯ ঘণ্টা আগে
স্যামুয়েল হান্টিংটনের ‘সভ্যতার সংঘাত’ তত্ত্ব আন্তর্জাতিক সম্পর্কের আলোচনায় দীর্ঘদিন ধরে অন্যতম বিতর্কিত ধারণা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এই তত্ত্বে বলা হয়, স্নায়ুযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর বিশ্ব রাজনীতির সংঘাত আর কমিউনিজম বনাম পুঁজিবাদের মতো মতাদর্শভিত্তিক থাকবে না।
১১ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা কত টাকা বেতন-ভাতা পান, এ প্রশ্নটি সাধারণ মানুষের মধ্যে বরাবরই কৌতূহলের জন্ম দেয়। বিশেষ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠনের সময় এই আলোচনা আরও জোরালো হয়। বেতনের বাইরে তাঁরা আর কী কী সুযোগ-সুবিধা পান, রাষ্ট্র তাঁদের পেছনে কী ধরনের খরচ বহন করে, এসব নিয়েও মানুষে
১১ ঘণ্টা আগে
পাঠ্যপুস্তকের ভাষা কোনো নিরীহ বস্তু নয়। এর পেছনে থাকে দৃষ্টিভঙ্গি আর রাষ্ট্রের নীরব উপস্থিতি। আরেকটি সত্য হলো, পাঠ্যবই রচনার প্রক্রিয়ায় অনেক সময় নিরাপত্তা-ভাবনা বড় হয়ে ওঠে: ‘এটা লিখলে বিতর্ক হবে না তো?
১ দিন আগে