স্ট্রিম ডেস্ক

কোরবানির ঈদ আসলেই টেবিলে থাকে মাংসের বাহারি পদ। ঈদের কয়েক দিন ধরে টানা মাংস খাওয়া হয়। এসব সুস্বাদু পদ খেতে মুখরোচক হলেও একটানা অতিরিক্ত ‘রেড মিট’ বা লাল মাংস খাওয়ার ফলে হজমের সমস্যাসহ গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা, কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে মাংসের পদের সঙ্গে এক বাটি তাজা সালাদ রাখতে পারেন।
খাসি বা গরুর মাংসে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট বা চর্বি থাকে, যা হজম হতে পাকস্থলীর বেশ সময় লাগে। মাংসের সঙ্গে কাঁচা শাকসবজি বা সালাদ খেলে সেই হজমের প্রক্রিয়া সহজ হয়। সালাদে থাকা উচ্চমাত্রার ফাইবার বা আঁশ মাংস হজমের প্রক্রিয়াকে দ্রুত করে। এই ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
এ ছাড়া, মাংসের চর্বি শরীরে প্রবেশ করে রক্তের খারাপ কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। সালাদে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং ফাইবার এই অতিরিক্ত চর্বিকে রক্তে মিশতে বাধা দেয় এবং শরীর থেকে তা বের করে দিতে সাহায্য করে। কাঁচা সবজির ক্ষারীয় উপাদান মাংসের অম্লীয় বা অ্যাসিডিক ভাবকে প্রশমিত করে শরীরের পিএইচ মাত্রা বজায় রাখে। এর ফলে অ্যাসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
খাবারের টেবিলে বৈচিত্র্য আনতে এবং সর্বোচ্চ পুষ্টির নিশ্চয়তা পেতে আমরা কয়েক ধরণের সালাদ তৈরি করতে পারি।
শসা, টমেটো ও পেঁয়াজের মিক্সড সালাদ
সালাদের এই রেসিপি সবার কাছেই বেশ পরিচিত। শসায় থাকা ৯৫ শতাংশ পানি পানির ঘাটতি বা ডিহাইড্রেশন দূর করতে সাহায্য করে। টমেটোতে রয়েছে ‘লাইকোপেন’ নামক শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা চর্বিযুক্ত খাবারের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে কোষকে রক্ষা করতে পারে।
কাঁচা পেঁয়াজে থাকা ক্রোমিয়াম রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এই তিনের মিশ্রণ মাংসের চর্বি সহজে হজম করতে এবং শরীরকে ভেতর থেকে সতেজ রাখতে ভূমিকা রাখে।
টক দই ও পুদিনা পাতার রায়তা
মাংসের পদের সঙ্গে দই-পাস্তা বা রায়তা খেতে বেশ ভালো লাগে। টক দই একটি প্রাকৃতিক প্রোবায়োটিক, যা পাকস্থলীতে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়ায়, মাংসের জটিল প্রোটিনকে দ্রুত ভেঙে হজম উপযোগী করে তোলে।
এর সঙ্গে পুদিনা পাতা যোগ করলে তা পাকস্থলীর পেশিকে শিথিল করতে সাহায্য করে, বুক জ্বালাপোড়া বা পেট ফাঁপা ভাব দূর করে।
লেবুর রস ও সিরকা (ভিনেগার) মিশ্রিত সালাদ
যেকোনো সালাদে লবণের চেয়ে লেবুর রস বা আপেল সাইডার ভিনেগার ব্যবহার করা বেশি উপকারী। লেবুতে থাকা ভিটামিন সি মাংসের আয়রন বা লোহা শরীরে শোষণ করতে সাহায্য করে।
আমরা অনেকেই জানি না যে, ভিটামিন সি ছাড়া মাংসের পুষ্টি উপাদান শরীর পুরোপুরি গ্রহণ করতে পারে না। এ ছাড়া ভিনেগার বা লেবুর অ্যাসিডিক উপাদান মাংসের চর্বি ভাঙতে সাহায্য করে। খাওয়ার পর অলস বা ঝিমুনি ভাব দূর করে শরীরকে চাঙ্গা রাখতেও এর ভূমিকা আছে।
গাজর ও বিটরুট
গাজর ও বিটরুটে প্রচুর পরিমাণে বিটা-ক্যারোটিন, পটাশিয়াম ও ফাইবার থাকে। মাংস খাওয়ার ফলে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার যে আশঙ্কা থাকে, এই সালাদের পটাশিয়াম তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। বিটরুট লিভারকে ডিটক্সিফাই বা চর্বিমুক্ত করতে সাহায্য করে, অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবারের ধকল সামলাতে লিভারকে শক্তি জোগায়।
মাংসের পাশাপাশি সালাদ খাওয়ার সুফল পেতে কিছু নিয়ম মেনে চলা ভালো। সালাদ তৈরিতে অতিরিক্ত মেয়োনিজ, চিজ ব্যবহার করবেন না। কারণ এগুলো সালাদে ক্যালোরি ও চর্বির পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। এর বদলে সামান্য অলিভ অয়েল, লেবুর রস, বিট লবণ বা গোলমরিচের গুঁড়ো ব্যবহার করতে পারেন।
এ ছাড়া সালাদ খাওয়ার সময় অতিরিক্ত কাঁচা মরিচ বা ঝাল এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ মাংসে এমনিতেই প্রচুর মসলা থাকে। সালাদ সবসময় খাওয়ার ঠিক আগে কাটা উচিত, যেন এর ভেতরের পুষ্টিগুণ ও ভিটামিন নষ্ট না হয়। কাটার আগে সবজিগুলো খুব ভালো করে ধুয়ে নেওয়াও জরুরি।

কোরবানির ঈদ আসলেই টেবিলে থাকে মাংসের বাহারি পদ। ঈদের কয়েক দিন ধরে টানা মাংস খাওয়া হয়। এসব সুস্বাদু পদ খেতে মুখরোচক হলেও একটানা অতিরিক্ত ‘রেড মিট’ বা লাল মাংস খাওয়ার ফলে হজমের সমস্যাসহ গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা, কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে মাংসের পদের সঙ্গে এক বাটি তাজা সালাদ রাখতে পারেন।
খাসি বা গরুর মাংসে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট বা চর্বি থাকে, যা হজম হতে পাকস্থলীর বেশ সময় লাগে। মাংসের সঙ্গে কাঁচা শাকসবজি বা সালাদ খেলে সেই হজমের প্রক্রিয়া সহজ হয়। সালাদে থাকা উচ্চমাত্রার ফাইবার বা আঁশ মাংস হজমের প্রক্রিয়াকে দ্রুত করে। এই ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
এ ছাড়া, মাংসের চর্বি শরীরে প্রবেশ করে রক্তের খারাপ কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। সালাদে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং ফাইবার এই অতিরিক্ত চর্বিকে রক্তে মিশতে বাধা দেয় এবং শরীর থেকে তা বের করে দিতে সাহায্য করে। কাঁচা সবজির ক্ষারীয় উপাদান মাংসের অম্লীয় বা অ্যাসিডিক ভাবকে প্রশমিত করে শরীরের পিএইচ মাত্রা বজায় রাখে। এর ফলে অ্যাসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
খাবারের টেবিলে বৈচিত্র্য আনতে এবং সর্বোচ্চ পুষ্টির নিশ্চয়তা পেতে আমরা কয়েক ধরণের সালাদ তৈরি করতে পারি।
শসা, টমেটো ও পেঁয়াজের মিক্সড সালাদ
সালাদের এই রেসিপি সবার কাছেই বেশ পরিচিত। শসায় থাকা ৯৫ শতাংশ পানি পানির ঘাটতি বা ডিহাইড্রেশন দূর করতে সাহায্য করে। টমেটোতে রয়েছে ‘লাইকোপেন’ নামক শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা চর্বিযুক্ত খাবারের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে কোষকে রক্ষা করতে পারে।
কাঁচা পেঁয়াজে থাকা ক্রোমিয়াম রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এই তিনের মিশ্রণ মাংসের চর্বি সহজে হজম করতে এবং শরীরকে ভেতর থেকে সতেজ রাখতে ভূমিকা রাখে।
টক দই ও পুদিনা পাতার রায়তা
মাংসের পদের সঙ্গে দই-পাস্তা বা রায়তা খেতে বেশ ভালো লাগে। টক দই একটি প্রাকৃতিক প্রোবায়োটিক, যা পাকস্থলীতে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়ায়, মাংসের জটিল প্রোটিনকে দ্রুত ভেঙে হজম উপযোগী করে তোলে।
এর সঙ্গে পুদিনা পাতা যোগ করলে তা পাকস্থলীর পেশিকে শিথিল করতে সাহায্য করে, বুক জ্বালাপোড়া বা পেট ফাঁপা ভাব দূর করে।
লেবুর রস ও সিরকা (ভিনেগার) মিশ্রিত সালাদ
যেকোনো সালাদে লবণের চেয়ে লেবুর রস বা আপেল সাইডার ভিনেগার ব্যবহার করা বেশি উপকারী। লেবুতে থাকা ভিটামিন সি মাংসের আয়রন বা লোহা শরীরে শোষণ করতে সাহায্য করে।
আমরা অনেকেই জানি না যে, ভিটামিন সি ছাড়া মাংসের পুষ্টি উপাদান শরীর পুরোপুরি গ্রহণ করতে পারে না। এ ছাড়া ভিনেগার বা লেবুর অ্যাসিডিক উপাদান মাংসের চর্বি ভাঙতে সাহায্য করে। খাওয়ার পর অলস বা ঝিমুনি ভাব দূর করে শরীরকে চাঙ্গা রাখতেও এর ভূমিকা আছে।
গাজর ও বিটরুট
গাজর ও বিটরুটে প্রচুর পরিমাণে বিটা-ক্যারোটিন, পটাশিয়াম ও ফাইবার থাকে। মাংস খাওয়ার ফলে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার যে আশঙ্কা থাকে, এই সালাদের পটাশিয়াম তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। বিটরুট লিভারকে ডিটক্সিফাই বা চর্বিমুক্ত করতে সাহায্য করে, অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবারের ধকল সামলাতে লিভারকে শক্তি জোগায়।
মাংসের পাশাপাশি সালাদ খাওয়ার সুফল পেতে কিছু নিয়ম মেনে চলা ভালো। সালাদ তৈরিতে অতিরিক্ত মেয়োনিজ, চিজ ব্যবহার করবেন না। কারণ এগুলো সালাদে ক্যালোরি ও চর্বির পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। এর বদলে সামান্য অলিভ অয়েল, লেবুর রস, বিট লবণ বা গোলমরিচের গুঁড়ো ব্যবহার করতে পারেন।
এ ছাড়া সালাদ খাওয়ার সময় অতিরিক্ত কাঁচা মরিচ বা ঝাল এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ মাংসে এমনিতেই প্রচুর মসলা থাকে। সালাদ সবসময় খাওয়ার ঠিক আগে কাটা উচিত, যেন এর ভেতরের পুষ্টিগুণ ও ভিটামিন নষ্ট না হয়। কাটার আগে সবজিগুলো খুব ভালো করে ধুয়ে নেওয়াও জরুরি।

১৯৫৩ সালের ২৯ মের সেই সকালে, যখন তেনজিং নোরগে ও আমি প্রথমবারের মতো পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ আরোহণ করলাম, তখন থেকেই আমাকে এক মহান অভিযাত্রী হিসেবে বর্ণনা করা হতে থাকে। কিন্তু আমি আসলে স্রেফ এক পোড় খাওয়া কিউয়ী, যে জীবনের বহু প্রতিকূলতাকে উপভোগ করেছে মনে-প্রাণে।
৭ ঘণ্টা আগে
খাদ্যসংস্কৃতি গবেষকেরা বলছেন, বাংলাদেশের আঞ্চলিক রান্নার বৈচিত্র্য মূলত ভৌগোলিক পরিবেশ, কৃষি, মসলা ব্যবহার ও স্থানীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত। আর কোরবানির ঈদ সেই বৈচিত্র্যকে স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে আসে।
৭ ঘণ্টা আগে
ভারতের সংসদীয় রাজনীতির চত্বরে বাগযুদ্ধ নতুন কিছু নয়। তাতে উর্দু কবিদের কবিতাও সেই জওহারলাল নেহরুর আমল থেকেই হয়ে আসছে। ২০১৮ সালে লোকসভায় কংগ্রেস নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে মোদী সরকারকে লক্ষ্য করে বশির বদ্রের শের আওড়ান—
৮ ঘণ্টা আগে
কিছু মানুষ থাকেন, যাঁরা জন্মের দায় পরিশোধ করেন জীবনজুড়ে। আফ্রিকান সাহিত্যের অন্যতম মহীরুহ নগুগি ওয়া থিয়োঙ্গো তেমনই একজন। যদিও শুধু লেখা নয়, জীবন ধারণের মধ্যেই তিনি স্বাধীনতার অর্থ খুঁজেছেন। স্বাধীনতা তাঁর কাছে কেবল মানচিত্রের মুক্তি নয়; বরং ভাষা ও সংস্কৃতির এবং চেতনার পুনর্জাগরণ।
১০ ঘণ্টা আগে