ভাত, প্রতিদিনের জীবিকা যুদ্ধের ফসল। এই যুদ্ধের মাঠে যখন দামি চাল, সবজির দামে আগুন, ডালের কেজি ছুঁয়েছে আকাশ, তখন শহরের অলি-গলিতে ভাতের পাতে জায়গা করে নেয় রুটি আর কলা।
ঊর্মি শর্মা

কবি রফিক আজাদ লিখেছিলেন, ‘ভাত দে হারামজাদা, তা না হলে মানচিত্র খাব’। তবে বাংলাদেশের মানচিত্রের মানুষেরা কি কখনো তিন বেলা ভাতের অধিকার আদৌ পেয়েছে? নাকি মানচিত্র বা ভাত, কোনোটিই নিজের অধিকারে না থাকায় খেতে হয় দশ টাকার রুটি?
ভাত, প্রতিদিনের জীবিকা যুদ্ধের ফসল। এই যুদ্ধের মাঠে যখন দামি চাল, সবজির দামে আগুন, ডালের কেজি ছুঁয়েছে আকাশ, তখন শহরের অলি-গলিতে ভাতের পাতে জায়গা করে নেয় রুটি আর কলা। খাদ্যাভ্যাসের এই রূপান্তর জানান দেয় নতুন লড়াই।
অফিসে আসার তাড়ায় নাস্তা করতে ভুলে যাওয়া প্রতিদিনের ‘মনে থাকা’ এক বদভ্যাস। মেট্রো থেকে নেমেই দেখা হলো নাস্তা করতে থাকা একজনের সঙ্গে। দেখলাম, কলা আর রুটি চিবোচ্ছেন তাড়াহুড়া করে।
‘একটা কলা, একটা রুটি আর এক গ্লাস পানি—ডেইলি সকালে খাই’, বলছিলেন কারওয়ান বাজার মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা রিকশাচালক হাবিবুল্লাহ। তিন বেলার খাবারের মধ্যে সকালের খাবার হিসেবে থাকে রুটি-কলা। কারণ এটা সস্তা আর সহজে মেলে।
রুটি-কলা এমন এক খাদ্য, যেগুলোর গায়ে লেগে আছে ‘অভাব’ নামের সাইনবোর্ড। ঢাকা শহরের বিভিন্ন টং দোকান, ভ্রাম্যমাণ খাদ্য বিক্রেতা বা ফুটপাতের হকারদের কাছে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে এই দুটি জিনিস। কারণ, এগুলো চটজলদি খাওয়া যায়, কম খরচে পেট ভরানো যায়, আর শরীরকে কিছু সময়ের জন্য টিকিয়ে রাখা যায়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র মারুফও রোজ সকালে খান কলা-রুটি। কারণ জিজ্ঞেস করলে বলেন, ‘স্টুডেন্ট ফ্রেন্ডলি খরচ। সস্তায় নাস্তা করা যায় এই দুটি খাবার দিয়ে।’
একদিকে খরচ বাঁচে, অন্যদিকে পেটও ভরে যায়। এটা শুধু খাদ্যাভ্যাসের বদল নয়। এটা সময় ও দারিদ্র্যের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোতে বাধ্য হতে চাওয়া এক সংগ্রাম। তবে কি কলা-রুটিই একমাত্র সমাধান?
পাউরুটি একটি ইউরোপীয় রন্ধনশৈলীর রুটি। এর উৎপত্তি প্রাচীন মিশর, গ্রীস ও রোমে। খ্রিস্টপূর্ব ৮০০০ সালের দিকে প্রথম ইস্টযুক্ত রুটি তৈরি হয়। রোমানরা ওয়াটার-মিলিং প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে রুটিকে শিল্প পর্যায়ে নিয়ে যায়। মধ্যযুগে ইউরোপে রুটি সামাজিক শ্রেণিবিন্যাসের প্রতীক হয়ে ওঠে। ধনী শ্রেণির মানুষেরা সাদা রুটি, দরিদ্ররা মোটা বা রাইয়ের রুটি (রাই এক ধরনের শস্য) খেত।
বাংলায় পাউরুটি আসে পর্তুগিজদের মাধ্যমে। ‘পাউ’ শব্দটি পর্তুগিজ 'pão' (মানে ছোট গোল রুটি) থেকে এসেছে, আর ‘রুটি’ শব্দটি বাংলার নিজস্ব। একটি ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত ছিল, পাউরুটি বানাতে ময়দা পা দিয়ে মাখানো হতো, যা সত্য নয়। বাংলার ঐতিহ্যবাহী চাপাটির পাশাপাশি এই নরম ও ফাঁপা পাশ্চাত্য ধাঁচের রুটি জনপ্রিয়তা পায়। ১৯২৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে টুকরো করা পাউরুটি বাজারে এলে তা আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। পরে আধুনিক প্রযুক্তি ও রাসায়নিক সংরক্ষণে পাউরুটি হয় আরও সাদা, নরম ও দীর্ঘস্থায়ী। বর্তমানে এটি শুধু গম নয়, নানা শস্য থেকে তৈরি হয়ে বিশ্বের অন্যতম বহুল ব্যবহৃত খাদ্যে পরিণত হয়েছে।
পাউরুটি বানানো হয় এমন এক প্রক্রিয়ায় যেখানে ময়দার সঙ্গে ইস্ট মেশালেই তা পরিমাণে হয় দ্বিগুণ। অর্থাৎ অল্প থেকে বেশি হয়ে যাওয়া খাবারই থাকে গরিবদের প্রধান চাহিদা। পেট ভরানোর তাগিদে খাবার তখন কেবল স্বাদ নয়, হয়ে ওঠে হিসাবের খাতা। পাউরুটি সেই হিসেবি বাস্তবতার নাম। যেখানে সস্তায়, কম সময়ে, একটু বেশি পরিমাণে কিছু খেয়ে দিনটাকে টেনে নেওয়াই বড় জয়।
নির্মম এই সত্য উঠে এসেছে সম্প্রতি বেসরকারি সংস্থা ইয়ুথ পলিসি নেটওয়ার্কের এক জরিপেও। তারা বলছে, দেশের ৮৮ শতাংশ নিম্ন আয়ের মানুষ প্রতিদিন অন্তত এক বেলা পাউরুটি–বিস্কুট খান। ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা মাসিক আয়ের মানুষের মধ্যে ৬০ শতাংশই সময়ের অভাব ও বাড়তি দামের কারণে সকালের খাবার বাদ দেন।
অতএব, যারা ভাত বা মানচিত্র কোনোটিই খেতে পারে না, তাদের জন্য রুটিই হয়ে ওঠে সম্বল।

কবি রফিক আজাদ লিখেছিলেন, ‘ভাত দে হারামজাদা, তা না হলে মানচিত্র খাব’। তবে বাংলাদেশের মানচিত্রের মানুষেরা কি কখনো তিন বেলা ভাতের অধিকার আদৌ পেয়েছে? নাকি মানচিত্র বা ভাত, কোনোটিই নিজের অধিকারে না থাকায় খেতে হয় দশ টাকার রুটি?
ভাত, প্রতিদিনের জীবিকা যুদ্ধের ফসল। এই যুদ্ধের মাঠে যখন দামি চাল, সবজির দামে আগুন, ডালের কেজি ছুঁয়েছে আকাশ, তখন শহরের অলি-গলিতে ভাতের পাতে জায়গা করে নেয় রুটি আর কলা। খাদ্যাভ্যাসের এই রূপান্তর জানান দেয় নতুন লড়াই।
অফিসে আসার তাড়ায় নাস্তা করতে ভুলে যাওয়া প্রতিদিনের ‘মনে থাকা’ এক বদভ্যাস। মেট্রো থেকে নেমেই দেখা হলো নাস্তা করতে থাকা একজনের সঙ্গে। দেখলাম, কলা আর রুটি চিবোচ্ছেন তাড়াহুড়া করে।
‘একটা কলা, একটা রুটি আর এক গ্লাস পানি—ডেইলি সকালে খাই’, বলছিলেন কারওয়ান বাজার মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা রিকশাচালক হাবিবুল্লাহ। তিন বেলার খাবারের মধ্যে সকালের খাবার হিসেবে থাকে রুটি-কলা। কারণ এটা সস্তা আর সহজে মেলে।
রুটি-কলা এমন এক খাদ্য, যেগুলোর গায়ে লেগে আছে ‘অভাব’ নামের সাইনবোর্ড। ঢাকা শহরের বিভিন্ন টং দোকান, ভ্রাম্যমাণ খাদ্য বিক্রেতা বা ফুটপাতের হকারদের কাছে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে এই দুটি জিনিস। কারণ, এগুলো চটজলদি খাওয়া যায়, কম খরচে পেট ভরানো যায়, আর শরীরকে কিছু সময়ের জন্য টিকিয়ে রাখা যায়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র মারুফও রোজ সকালে খান কলা-রুটি। কারণ জিজ্ঞেস করলে বলেন, ‘স্টুডেন্ট ফ্রেন্ডলি খরচ। সস্তায় নাস্তা করা যায় এই দুটি খাবার দিয়ে।’
একদিকে খরচ বাঁচে, অন্যদিকে পেটও ভরে যায়। এটা শুধু খাদ্যাভ্যাসের বদল নয়। এটা সময় ও দারিদ্র্যের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোতে বাধ্য হতে চাওয়া এক সংগ্রাম। তবে কি কলা-রুটিই একমাত্র সমাধান?
পাউরুটি একটি ইউরোপীয় রন্ধনশৈলীর রুটি। এর উৎপত্তি প্রাচীন মিশর, গ্রীস ও রোমে। খ্রিস্টপূর্ব ৮০০০ সালের দিকে প্রথম ইস্টযুক্ত রুটি তৈরি হয়। রোমানরা ওয়াটার-মিলিং প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে রুটিকে শিল্প পর্যায়ে নিয়ে যায়। মধ্যযুগে ইউরোপে রুটি সামাজিক শ্রেণিবিন্যাসের প্রতীক হয়ে ওঠে। ধনী শ্রেণির মানুষেরা সাদা রুটি, দরিদ্ররা মোটা বা রাইয়ের রুটি (রাই এক ধরনের শস্য) খেত।
বাংলায় পাউরুটি আসে পর্তুগিজদের মাধ্যমে। ‘পাউ’ শব্দটি পর্তুগিজ 'pão' (মানে ছোট গোল রুটি) থেকে এসেছে, আর ‘রুটি’ শব্দটি বাংলার নিজস্ব। একটি ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত ছিল, পাউরুটি বানাতে ময়দা পা দিয়ে মাখানো হতো, যা সত্য নয়। বাংলার ঐতিহ্যবাহী চাপাটির পাশাপাশি এই নরম ও ফাঁপা পাশ্চাত্য ধাঁচের রুটি জনপ্রিয়তা পায়। ১৯২৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে টুকরো করা পাউরুটি বাজারে এলে তা আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। পরে আধুনিক প্রযুক্তি ও রাসায়নিক সংরক্ষণে পাউরুটি হয় আরও সাদা, নরম ও দীর্ঘস্থায়ী। বর্তমানে এটি শুধু গম নয়, নানা শস্য থেকে তৈরি হয়ে বিশ্বের অন্যতম বহুল ব্যবহৃত খাদ্যে পরিণত হয়েছে।
পাউরুটি বানানো হয় এমন এক প্রক্রিয়ায় যেখানে ময়দার সঙ্গে ইস্ট মেশালেই তা পরিমাণে হয় দ্বিগুণ। অর্থাৎ অল্প থেকে বেশি হয়ে যাওয়া খাবারই থাকে গরিবদের প্রধান চাহিদা। পেট ভরানোর তাগিদে খাবার তখন কেবল স্বাদ নয়, হয়ে ওঠে হিসাবের খাতা। পাউরুটি সেই হিসেবি বাস্তবতার নাম। যেখানে সস্তায়, কম সময়ে, একটু বেশি পরিমাণে কিছু খেয়ে দিনটাকে টেনে নেওয়াই বড় জয়।
নির্মম এই সত্য উঠে এসেছে সম্প্রতি বেসরকারি সংস্থা ইয়ুথ পলিসি নেটওয়ার্কের এক জরিপেও। তারা বলছে, দেশের ৮৮ শতাংশ নিম্ন আয়ের মানুষ প্রতিদিন অন্তত এক বেলা পাউরুটি–বিস্কুট খান। ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা মাসিক আয়ের মানুষের মধ্যে ৬০ শতাংশই সময়ের অভাব ও বাড়তি দামের কারণে সকালের খাবার বাদ দেন।
অতএব, যারা ভাত বা মানচিত্র কোনোটিই খেতে পারে না, তাদের জন্য রুটিই হয়ে ওঠে সম্বল।
আজকাল খেলনার দোকানে শুধু ছোট ছেলে-মেয়েদেরই দেখা যায় না, সেখানে পঁচিশ, ত্রিশ এমনকি এর চেয়ে বেশি বয়সীদেরও দেখা মিলছে। এখন তাদেরও দেখা যায় হাসিমুখে বিভিন্ন খেলনা নেড়ে-চেড়ে দেখছেন বা কিনছেন। কোনো শিশুর জন্য নয়, বরং তারা খেলনাটি কিনছেন নিজের জন্যই!
১২ ঘণ্টা আগে
স্যামুয়েল হান্টিংটনের ‘সভ্যতার সংঘাত’ তত্ত্ব আন্তর্জাতিক সম্পর্কের আলোচনায় দীর্ঘদিন ধরে অন্যতম বিতর্কিত ধারণা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এই তত্ত্বে বলা হয়, স্নায়ুযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর বিশ্ব রাজনীতির সংঘাত আর কমিউনিজম বনাম পুঁজিবাদের মতো মতাদর্শভিত্তিক থাকবে না।
১৪ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা কত টাকা বেতন-ভাতা পান, এ প্রশ্নটি সাধারণ মানুষের মধ্যে বরাবরই কৌতূহলের জন্ম দেয়। বিশেষ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠনের সময় এই আলোচনা আরও জোরালো হয়। বেতনের বাইরে তাঁরা আর কী কী সুযোগ-সুবিধা পান, রাষ্ট্র তাঁদের পেছনে কী ধরনের খরচ বহন করে, এসব নিয়েও মানুষে
১৪ ঘণ্টা আগে
পাঠ্যপুস্তকের ভাষা কোনো নিরীহ বস্তু নয়। এর পেছনে থাকে দৃষ্টিভঙ্গি আর রাষ্ট্রের নীরব উপস্থিতি। আরেকটি সত্য হলো, পাঠ্যবই রচনার প্রক্রিয়ায় অনেক সময় নিরাপত্তা-ভাবনা বড় হয়ে ওঠে: ‘এটা লিখলে বিতর্ক হবে না তো?
১ দিন আগে