আল-জাজিরা এক্সপ্লেইনার

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) রাতে এক ঘোষণায় অভিবাসন বিষয়ে তাঁর কঠোর অবস্থান আরও জোরদার করেছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন, ‘সমস্ত তৃতীয় বিশ্বের দেশ’ থেকে অভিবাসনের ওপর ‘স্থায়ী বিরতি’ বা পার্মানেন্ট পজ কার্যকর করা হবে।
প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন বুধবার ওয়াশিংটন ডিসিতে দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্যকে গুলি করার ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধদের মধ্যে একজন পরে মারা গেছেন। ওই ঘটনার প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে একজন আফগান নাগরিকের নাম উঠে এসেছে।
ট্রাম্প তাঁর ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, ‘আমি সমস্ত তৃতীয় বিশ্বের দেশ থেকে অভিবাসন স্থায়ীভাবে স্থগিত করব, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থা পুরোপুরি সেরে উঠতে পারে এবং বাইডেনের আমলের লাখ লাখ অবৈধ প্রবেশ বাতিল করা যায়।’
যদিও ট্রাম্প ‘তৃতীয় বিশ্ব’ বলতে কী বুঝিয়েছেন তা নির্দিষ্ট করে বলেননি এবং কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি। তবে ‘তৃতীয় বিশ্ব’ শব্দগুচ্ছ সাধারণত ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর অর্থনৈতিকভাবে উন্নয়নশীল বা অনগ্রসর দেশগুলোকে বোঝায়।
ট্রাম্প বলেছেন, ‘যেকোনো ব্যক্তি যিনি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য “নেট অ্যাসেট” বা সম্পদ নন, অথবা যিনি আমাদের দেশকে ভালোবাসতে অক্ষম; তাঁকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে।’
ট্রাম্প আরও বলেছেন, ‘অ-নাগরিকদের জন্য সমস্ত ফেডারেল সুবিধা ও ভর্তুকি বন্ধ করা হবে। যারা দেশের শান্তি নষ্ট করে, তাদের নাগরিকত্ব বাতিল করা হবে এবং যেকোনো বিদেশি নাগরিক যিনি রাষ্ট্রের বোঝা, নিরাপত্তা ঝুঁকি বা পশ্চিমা সভ্যতার সঙ্গে বেমানান, তাকে ফেরত পাঠানো হবে।’
এর আগে চলতি বছরের শুরুতে, ট্রাম্প ১২টি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা নিষেধাজ্ঞা এবং আরও সাতটি দেশের নাগরিকদের জন্য বিধিনিষেধ ঘোষণা করেছিলেন।
বুধবার ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের ওপর গুলি চালানোর ঘটনায় ২৯ বছর বয়সী আফগান নাগরিক রহমানউল্লাহ লাকানওয়ালকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার ও নাম প্রকাশ করার পর, ট্রাম্প এই ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ বলে অভিহিত করেন।
বুধবার রাতে গণমাধ্যমের উদ্দেশ্যে ট্রাম্প বলেন, ‘বাইডেনের আমলে আফগানিস্তান থেকে আমাদের দেশে প্রবেশ করা প্রতিটি বিদেশিকে এখন আমাদের পুনরায় পরীক্ষা করতে হবে।’
বৃহস্পতিবার সকালে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) ঘোষণা করে, ‘আফগান নাগরিকদের সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্ত অভিবাসন অনুরোধ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হলো।’
ইউএসসিআইএস পরিচালক জোসেফ এডলো পরে এক্সে জানান, প্রেসিডেন্টের নির্দেশনায় তিনি ‘উদ্বেগজনক দেশ থেকে আসা বিদেশির গ্রিন কার্ডের পূর্ণাঙ্গ ও কঠোর পুনঃপরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন।
এডলো বলেন, ‘এই দেশের ও আমেরিকান জনগণের সুরক্ষা সর্বাগ্রে এবং আমেরিকান জনগণ পূর্ববর্তী প্রশাসনের বেপরোয়া পুনর্বাসন নীতির খেসারত দেবে না।’
এডলোর কার্যালয় মার্কিন গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, যাদের গ্রিন কার্ড পর্যালোচনা করা হবে, তারা মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের জুনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা দেশগুলোর নাগরিক।
যে দেশগুলোর ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে সেগুলো হলো—আফগানিস্তান, চাদ, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআরসি), ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, ইরিত্রিয়া, হাইতি, ইরান, লিবিয়া, মিয়ানমার, সোমালিয়া, সুদান এবং ইয়েমেন। আর যেসব দেশের ওপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে (কিছু ক্ষেত্রে সাময়িক ভিসা অনুমোদিত), সেগুলো হলো—বুরুন্ডি, কিউবা, লাওস, সিয়েরা লিওন, টোগো, তুর্কমেনিস্তান এবং ভেনিজুয়েলা।
ভারতের সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন পরামর্শক অভিষেক সাক্সেনা আল জাজিরাকে বলেন, ‘সাধারণ ইংরেজিতে ‘পার্মানেন্ট পজ’ বা স্থায়ী বিরতি চূড়ান্ত কিছু মনে হলেও, অভিবাসন আইনে এই শব্দটির কোনো সংজ্ঞায়িত অর্থ নেই।
সাক্সেনা আরও বলেন, বাস্তবিকভাবে ‘স্থায়ী বিরতি’ বলতে সাধারণত উন্মুক্ত বা অনির্দিষ্টকালের বিধিনিষেধ বোঝায় যার কোনো নির্দিষ্ট শেষ তারিখ নেই, তবে এটি আইনত অপরিবর্তনীয় কোনো শর্ত নয়।
মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট (আইএনএ) অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট নির্দিষ্ট সময়ের জন্য, অনির্দিষ্টকালের জন্য অথবা যতক্ষণ না তিনি ঘোষণাটি পরিবর্তন বা প্রত্যাহার করছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত অভিবাসীদের প্রবেশ স্থগিত করতে পারেন। তবে, এটিকে চ্যালেঞ্জ করা যেতে পারে।
সাক্সেনা বলেন, ‘যদি কোনো অনির্দিষ্টকালের বিরতি মার্কিন কংগ্রেসের পাস করা আইন লঙ্ঘন করে, তবে সেই নিষেধাজ্ঞা বা বিরতি আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যেতে পারে।’
জেনেভাভিত্তিক মিক্সড মাইগ্রেশন সেন্টারের (এমএমসি) ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রবার্তো ফোরিন বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবেই এই নীতিগুলো কাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ও ‘স্থায়ী বিরতি’ বা ‘তৃতীয় বিশ্ব’ বলতে কী বোঝাচ্ছে, তা অস্পষ্ট রেখেছে।
আল জাজিরাকে ফোরিন বলেন, ‘বিষয়টি অস্পষ্ট রাখার মাধ্যমে প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বজুড়ে অভিবাসী সম্প্রদায়কে নির্বিচারে ভয় দেখানোর সুযোগ পায়। একই সঙ্গে, তাদের পররাষ্ট্রনীতির লেনদেনভিত্তিক বা ‘ট্রানজ্যাকশনাল’ কৌশলের হাতিয়ার হিসেবে এই নিষেধাজ্ঞাকে ব্যবহারের এখতিয়ার নিজেদের হাতে রাখে।’
ফোরিন বলেন, ‘আমি ধারণা করছি, এই নিষেধাজ্ঞা দরিদ্র দেশগুলোকে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে, কিন্তু সেই দেশগুলোকে ছাড় দেবে যারা বিনিময়ে কিছু দিতে পারে, যেমন প্রাকৃতিক সম্পদ বা অন্য কোনো কৌশলগত সুবিধা।’
ফোরিন আরও বলেন, ‘এই ধরনের ঘোষণার বাস্তবায়ন বা শেষ পর্যন্ত আইনি ফলাফল যা-ই হোক না কেন, মূল উদ্দেশ্য হলো কঠোরতা প্রদর্শন করা, ন্যারেটিভ বা বয়ান পরিবর্তন করা, ভয় সৃষ্টি করা এবং অভিবাসীদের অমানবিক হিসেবে চিত্রিত করা।’
ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক আমেরিকান ইমিগ্রেশন কাউন্সিলের আগস্ট মাসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের জুন ২০২৫-এর পূর্ণ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ১২টি দেশের মানুষ ‘বিদেশে বসবাসরত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন না।’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘জুনের আদেশের অধীনে, বিদ্যমান ভিসা বাতিল করা যাবে না। তবে যাদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ভিসা নবায়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতে হবে, তাদের ফিরতে দেওয়া হবে না এবং তারা নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারেন।’
সাক্সেনা বলেন, কঠোর অভিবাসন নীতি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত মানুষদের আরও নানাভাবে পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
সাক্সেনা আরও বলেন, ‘প্রথমত, এর ফলে ঝুলে থাকা আবেদনগুলোর ওপর নজরদারি বাড়বে। ইউএসসিআইএস ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর নাগরিকদের আবেদনগুলোর ওপর অতিরিক্ত ব্যাকগ্রাউন্ড চেক, দীর্ঘ নিরাপত্তা যাচাই বা সাময়িক স্থগিতাদেশ আরোপ করতে পারে। দ্বিতীয়ত, ইতিহাস বলে, যখন কোনো দেশকে কঠোর নিরাপত্তা পর্যালোচনার আওতায় আনা হয়, তখন প্রায়শই ভিসা প্রসেসিংয়ের সময় বেড়ে যায়। সর্বশেষ, যদিও সরকার ইচ্ছেমতো বিদ্যমান রেসিডেন্সি স্ট্যাটাস বা বসবাসের অনুমতি বাতিল করতে পারে না, তবুও তারা জালিয়াতি, ভুল তথ্য প্রদান, নিরাপত্তা উদ্বেগ বা বিদ্যমান আইনের অধীনে অযোগ্যতার কারণ দেখিয়ে অতীতের অভিবাসন ফাইলগুলো অডিট করতে পারে।’
সাক্সেনা বলেন, ট্রাম্পের তৃতীয় বিশ্বের দেশ থেকে অভিবাসন স্থগিতের ঘোষণা বিদেশে থাকা স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান এবং মা-বাবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করবে। এটি দীর্ঘমেয়াদি বিচ্ছেদ তৈরি করে, পরিবার-ভিত্তিক অভিবাসন আবেদন বিলম্বিত করে ও পারিবারিক পুনর্মিলন কর্মসূচিগুলোতে ব্যাঘাত ঘটায়।
তবে সাক্সেনা বলেন, ‘দেশের নাম নিষেধাজ্ঞার তালিকায় আছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে থাকা মানুষকে তাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে না । যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে একবার প্রবেশ করলে সংবিধান এবং আইএনএ-এর অধীনে পারিবারিক ঐক্যের নীতিগুলো কার্যকর হয়।’
বৃহস্পতিবার ট্রাম্প প্রশাসন সাংবাদিকদের জানায়, জুন ২০২৫-এর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা দেশগুলোর নাগরিকদের গ্রিন কার্ড পুনঃপরীক্ষা করার ইচ্ছে তাদের রয়েছে। তবে প্রক্রিয়াটি কীভাবে কাজ করবে বা গ্রিন কার্ড বাতিল বা প্রত্যাহার করা হবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
গ্রিন কার্ড হলো মার্কিন অভিবাসন নথি যা একজন অভিবাসীকে দেশটিতে স্থায়ীভাবে বসবাস ও কাজ করার অনুমতি দেয়।
মার্কিন অভিবাসন বিচারকদের ক্ষমতা আছে গ্রিন কার্ড বাতিল করার এবং কাউকে দেশ থেকে বের করে দেওয়ার।
যদি প্রশাসন কোন গ্রিনকার্ডধারীকে জননিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করে হয় অথবা যদি ওই ব্যক্তি তাঁর ভিসার শর্ত লঙ্ঘন করেন। তবে সরকারও অভিবাসীকে বের করে দিতে পারে।
তবে সাক্সেনার মতে, সরকারের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া গ্রিন কার্ড বাতিলের কোনো আইনি এখতিয়ার নেই। যেকোনো বাতিলের ক্ষেত্রে কঠোর সংবিধিবদ্ধ পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে এবং ডিউ-প্রসেসের শর্ত পূরণ করতে হবে।
গত বছর, ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) সংস্থা ফিলিস্তিনপন্থী অধিকারকর্মী মাহমুদ খলিলকে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বক্তব্যের ভিত্তিতে আটক করেছিল। খলিল সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন, কিন্তু আইসিই অভিযোগ করে যে তিনি তাঁর গ্রিন কার্ড আবেদনে তথ্য গোপন করেছিলেন।
সেপ্টেম্বরে একজন মার্কিন অভিবাসন বিচারক আদেশ দেন যে খলিলকে আলজেরিয়া বা সিরিয়ায় ফেরত পাঠানো উচিত। তবে এই আদেশ এখনো কার্যকর হয়নি।
গ্রিন কার্ড পুনঃপরীক্ষা ও নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পাশাপাশি, জানুয়ারিতে দায়িত্ব পুনরায় গ্রহণ করার পরপরই ট্রাম্প শরণার্থী প্রবেশ স্থগিত করেছিলেন।
জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে বলেছিল, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল সংখ্যক অভিবাসী গ্রহণের সক্ষমতা নেই। বিশেষ করে শরণার্থীদের জায়গা দেওয়া কঠিন। এতে আমেরিকানদের সম্পদের ওপর চাপ পড়বে। নাগরিকদের নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হতে পারে। এছাড়া শরণার্থীদের যথাযথ আত্মীকরণ বা সমাজে মিশে যাওয়া নিশ্চিত করাও সম্ভব হবে না।’
এরপর, অক্টোবরের শেষে ট্রাম্প প্রশাসন দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে কম শরণার্থী প্রবেশের সীমা ঘোষণা করে। ২০২৬ অর্থবছরের জন্য মাত্র ৭ হাজার ৫০০ জন শরণার্থী প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।
বার্তা সংস্থার রয়টার্সের হাতে আসা একটি মেমো অনুযায়ী, ২৫ নভেম্বর ট্রাম্প প্রশাসন পূর্ববর্তী জো বাইডেন প্রশাসনের অধীনে দেশে প্রবেশ করা সমস্ত শরণার্থীর বিষয়টি পর্যালোচনার নির্দেশ দেয় এবং তাদের স্থায়ী বসবাসের আবেদন স্থগিত রাখার সুপারিশ করে।
ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের প্রধান এডলোর স্বাক্ষরিত ওই মেমো অনুযায়ী, ২০ জানুয়ারি ২০২১ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা প্রায় ২ লাখ ৩৩ হাজার শরণার্থীর স্ট্যাটাস এবং আবেদন পর্যালোচনা করা হবে। মেমোতে জাতীয় নিরাপত্তার কারণে জানুয়ারিতে শরণার্থী প্রবেশ স্থগিত করার ট্রাম্পের আদেশের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র আশ্রয়দাতা দেশগুলোতে শরণার্থীদের জন্য বিদেশি সহায়তাও কমিয়ে দিয়েছে। মার্কিন নাগরিকদের চাকরি রক্ষার প্রচেষ্টায় ট্রাম্প প্রশাসন দক্ষ অভিবাসী কর্মীদেরও লক্ষ্যবস্তু করেছে।
সেপ্টেম্বরে, এইচ-১বি ভিসার আবেদন ফি বাড়িয়ে প্রতিটি আবেদনের জন্য ১ লাখ ডলার করা হয়েছে। এই ভিসা যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য ব্যবহার করে।
অক্টোবরে, ইউএস চেম্বার অব কমার্স ভিসা আবেদনের ফি বৃদ্ধির কারণে ব্যবসার ক্ষতির উল্লেখ করে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। মামলাটি ওয়াশিংটন ডিসির জেলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
ফোরিন বলেন, ‘এই পদক্ষেপগুলো একত্রে দেখলে, বিশেষ করে যদি এগুলো সরকারগুলোর মধ্যে ‘রেস টু দ্য বটম’ বা খারাপের দিকে যাওয়ার প্রতিযোগিতা উসকে দেয়, তবে বিশ্বজুড়ে এর ধ্বংসাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে সেই দেশগুলোতে যেগুলো ইতিমধ্যে সংঘাত ও সহিংসতায় বিপর্যস্ত।’
ফোরিন আরও বলেন, ‘আমরা ইউরোপেও একই ঘটনা ঘটতে দেখছি। যুক্তরাজ্য রুয়ান্ডায় আশ্রয় প্রক্রিয়া আউটসোর্স করার চেষ্টা করেছে, আবার ইতালি আলবেনিয়ায় কেন্দ্র স্থাপনের চেষ্টা করেছে—কিন্তু এর কোনোটিই কাজ করেনি, কারণ প্রতিটি ধাপে আদালত এগুলো আটকে দিয়েছে।’
ফোরিন বলেন, দুর্ভাগ্যবশত, এই সব কিছুই শরণার্থী ও অভিবাসীদের বি-মানবিকীকরণে বা ‘ডিহিউম্যানাইজেশন’-এ অবদান রেখেছে। তাদের সুরক্ষার প্রয়োজন বা উন্নত ভবিষ্যতের সুযোগ পাওয়ার যোগ্য মানুষ হিসেবে না দেখে, কেবল হুমকি বা বোঝা হিসেবে চিত্রিত করা হচ্ছে।
• কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এক্সপ্লেইনার থেকে অনুবাদ করেছেন তুফায়েল আহমদ।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) রাতে এক ঘোষণায় অভিবাসন বিষয়ে তাঁর কঠোর অবস্থান আরও জোরদার করেছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন, ‘সমস্ত তৃতীয় বিশ্বের দেশ’ থেকে অভিবাসনের ওপর ‘স্থায়ী বিরতি’ বা পার্মানেন্ট পজ কার্যকর করা হবে।
প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন বুধবার ওয়াশিংটন ডিসিতে দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্যকে গুলি করার ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধদের মধ্যে একজন পরে মারা গেছেন। ওই ঘটনার প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে একজন আফগান নাগরিকের নাম উঠে এসেছে।
ট্রাম্প তাঁর ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, ‘আমি সমস্ত তৃতীয় বিশ্বের দেশ থেকে অভিবাসন স্থায়ীভাবে স্থগিত করব, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থা পুরোপুরি সেরে উঠতে পারে এবং বাইডেনের আমলের লাখ লাখ অবৈধ প্রবেশ বাতিল করা যায়।’
যদিও ট্রাম্প ‘তৃতীয় বিশ্ব’ বলতে কী বুঝিয়েছেন তা নির্দিষ্ট করে বলেননি এবং কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি। তবে ‘তৃতীয় বিশ্ব’ শব্দগুচ্ছ সাধারণত ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর অর্থনৈতিকভাবে উন্নয়নশীল বা অনগ্রসর দেশগুলোকে বোঝায়।
ট্রাম্প বলেছেন, ‘যেকোনো ব্যক্তি যিনি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য “নেট অ্যাসেট” বা সম্পদ নন, অথবা যিনি আমাদের দেশকে ভালোবাসতে অক্ষম; তাঁকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে।’
ট্রাম্প আরও বলেছেন, ‘অ-নাগরিকদের জন্য সমস্ত ফেডারেল সুবিধা ও ভর্তুকি বন্ধ করা হবে। যারা দেশের শান্তি নষ্ট করে, তাদের নাগরিকত্ব বাতিল করা হবে এবং যেকোনো বিদেশি নাগরিক যিনি রাষ্ট্রের বোঝা, নিরাপত্তা ঝুঁকি বা পশ্চিমা সভ্যতার সঙ্গে বেমানান, তাকে ফেরত পাঠানো হবে।’
এর আগে চলতি বছরের শুরুতে, ট্রাম্প ১২টি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা নিষেধাজ্ঞা এবং আরও সাতটি দেশের নাগরিকদের জন্য বিধিনিষেধ ঘোষণা করেছিলেন।
বুধবার ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের ওপর গুলি চালানোর ঘটনায় ২৯ বছর বয়সী আফগান নাগরিক রহমানউল্লাহ লাকানওয়ালকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার ও নাম প্রকাশ করার পর, ট্রাম্প এই ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ বলে অভিহিত করেন।
বুধবার রাতে গণমাধ্যমের উদ্দেশ্যে ট্রাম্প বলেন, ‘বাইডেনের আমলে আফগানিস্তান থেকে আমাদের দেশে প্রবেশ করা প্রতিটি বিদেশিকে এখন আমাদের পুনরায় পরীক্ষা করতে হবে।’
বৃহস্পতিবার সকালে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) ঘোষণা করে, ‘আফগান নাগরিকদের সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্ত অভিবাসন অনুরোধ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হলো।’
ইউএসসিআইএস পরিচালক জোসেফ এডলো পরে এক্সে জানান, প্রেসিডেন্টের নির্দেশনায় তিনি ‘উদ্বেগজনক দেশ থেকে আসা বিদেশির গ্রিন কার্ডের পূর্ণাঙ্গ ও কঠোর পুনঃপরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন।
এডলো বলেন, ‘এই দেশের ও আমেরিকান জনগণের সুরক্ষা সর্বাগ্রে এবং আমেরিকান জনগণ পূর্ববর্তী প্রশাসনের বেপরোয়া পুনর্বাসন নীতির খেসারত দেবে না।’
এডলোর কার্যালয় মার্কিন গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, যাদের গ্রিন কার্ড পর্যালোচনা করা হবে, তারা মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের জুনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা দেশগুলোর নাগরিক।
যে দেশগুলোর ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে সেগুলো হলো—আফগানিস্তান, চাদ, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআরসি), ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, ইরিত্রিয়া, হাইতি, ইরান, লিবিয়া, মিয়ানমার, সোমালিয়া, সুদান এবং ইয়েমেন। আর যেসব দেশের ওপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে (কিছু ক্ষেত্রে সাময়িক ভিসা অনুমোদিত), সেগুলো হলো—বুরুন্ডি, কিউবা, লাওস, সিয়েরা লিওন, টোগো, তুর্কমেনিস্তান এবং ভেনিজুয়েলা।
ভারতের সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন পরামর্শক অভিষেক সাক্সেনা আল জাজিরাকে বলেন, ‘সাধারণ ইংরেজিতে ‘পার্মানেন্ট পজ’ বা স্থায়ী বিরতি চূড়ান্ত কিছু মনে হলেও, অভিবাসন আইনে এই শব্দটির কোনো সংজ্ঞায়িত অর্থ নেই।
সাক্সেনা আরও বলেন, বাস্তবিকভাবে ‘স্থায়ী বিরতি’ বলতে সাধারণত উন্মুক্ত বা অনির্দিষ্টকালের বিধিনিষেধ বোঝায় যার কোনো নির্দিষ্ট শেষ তারিখ নেই, তবে এটি আইনত অপরিবর্তনীয় কোনো শর্ত নয়।
মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট (আইএনএ) অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট নির্দিষ্ট সময়ের জন্য, অনির্দিষ্টকালের জন্য অথবা যতক্ষণ না তিনি ঘোষণাটি পরিবর্তন বা প্রত্যাহার করছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত অভিবাসীদের প্রবেশ স্থগিত করতে পারেন। তবে, এটিকে চ্যালেঞ্জ করা যেতে পারে।
সাক্সেনা বলেন, ‘যদি কোনো অনির্দিষ্টকালের বিরতি মার্কিন কংগ্রেসের পাস করা আইন লঙ্ঘন করে, তবে সেই নিষেধাজ্ঞা বা বিরতি আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যেতে পারে।’
জেনেভাভিত্তিক মিক্সড মাইগ্রেশন সেন্টারের (এমএমসি) ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রবার্তো ফোরিন বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবেই এই নীতিগুলো কাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ও ‘স্থায়ী বিরতি’ বা ‘তৃতীয় বিশ্ব’ বলতে কী বোঝাচ্ছে, তা অস্পষ্ট রেখেছে।
আল জাজিরাকে ফোরিন বলেন, ‘বিষয়টি অস্পষ্ট রাখার মাধ্যমে প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বজুড়ে অভিবাসী সম্প্রদায়কে নির্বিচারে ভয় দেখানোর সুযোগ পায়। একই সঙ্গে, তাদের পররাষ্ট্রনীতির লেনদেনভিত্তিক বা ‘ট্রানজ্যাকশনাল’ কৌশলের হাতিয়ার হিসেবে এই নিষেধাজ্ঞাকে ব্যবহারের এখতিয়ার নিজেদের হাতে রাখে।’
ফোরিন বলেন, ‘আমি ধারণা করছি, এই নিষেধাজ্ঞা দরিদ্র দেশগুলোকে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে, কিন্তু সেই দেশগুলোকে ছাড় দেবে যারা বিনিময়ে কিছু দিতে পারে, যেমন প্রাকৃতিক সম্পদ বা অন্য কোনো কৌশলগত সুবিধা।’
ফোরিন আরও বলেন, ‘এই ধরনের ঘোষণার বাস্তবায়ন বা শেষ পর্যন্ত আইনি ফলাফল যা-ই হোক না কেন, মূল উদ্দেশ্য হলো কঠোরতা প্রদর্শন করা, ন্যারেটিভ বা বয়ান পরিবর্তন করা, ভয় সৃষ্টি করা এবং অভিবাসীদের অমানবিক হিসেবে চিত্রিত করা।’
ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক আমেরিকান ইমিগ্রেশন কাউন্সিলের আগস্ট মাসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের জুন ২০২৫-এর পূর্ণ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ১২টি দেশের মানুষ ‘বিদেশে বসবাসরত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন না।’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘জুনের আদেশের অধীনে, বিদ্যমান ভিসা বাতিল করা যাবে না। তবে যাদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ভিসা নবায়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতে হবে, তাদের ফিরতে দেওয়া হবে না এবং তারা নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারেন।’
সাক্সেনা বলেন, কঠোর অভিবাসন নীতি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত মানুষদের আরও নানাভাবে পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
সাক্সেনা আরও বলেন, ‘প্রথমত, এর ফলে ঝুলে থাকা আবেদনগুলোর ওপর নজরদারি বাড়বে। ইউএসসিআইএস ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর নাগরিকদের আবেদনগুলোর ওপর অতিরিক্ত ব্যাকগ্রাউন্ড চেক, দীর্ঘ নিরাপত্তা যাচাই বা সাময়িক স্থগিতাদেশ আরোপ করতে পারে। দ্বিতীয়ত, ইতিহাস বলে, যখন কোনো দেশকে কঠোর নিরাপত্তা পর্যালোচনার আওতায় আনা হয়, তখন প্রায়শই ভিসা প্রসেসিংয়ের সময় বেড়ে যায়। সর্বশেষ, যদিও সরকার ইচ্ছেমতো বিদ্যমান রেসিডেন্সি স্ট্যাটাস বা বসবাসের অনুমতি বাতিল করতে পারে না, তবুও তারা জালিয়াতি, ভুল তথ্য প্রদান, নিরাপত্তা উদ্বেগ বা বিদ্যমান আইনের অধীনে অযোগ্যতার কারণ দেখিয়ে অতীতের অভিবাসন ফাইলগুলো অডিট করতে পারে।’
সাক্সেনা বলেন, ট্রাম্পের তৃতীয় বিশ্বের দেশ থেকে অভিবাসন স্থগিতের ঘোষণা বিদেশে থাকা স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান এবং মা-বাবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করবে। এটি দীর্ঘমেয়াদি বিচ্ছেদ তৈরি করে, পরিবার-ভিত্তিক অভিবাসন আবেদন বিলম্বিত করে ও পারিবারিক পুনর্মিলন কর্মসূচিগুলোতে ব্যাঘাত ঘটায়।
তবে সাক্সেনা বলেন, ‘দেশের নাম নিষেধাজ্ঞার তালিকায় আছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে থাকা মানুষকে তাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে না । যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে একবার প্রবেশ করলে সংবিধান এবং আইএনএ-এর অধীনে পারিবারিক ঐক্যের নীতিগুলো কার্যকর হয়।’
বৃহস্পতিবার ট্রাম্প প্রশাসন সাংবাদিকদের জানায়, জুন ২০২৫-এর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা দেশগুলোর নাগরিকদের গ্রিন কার্ড পুনঃপরীক্ষা করার ইচ্ছে তাদের রয়েছে। তবে প্রক্রিয়াটি কীভাবে কাজ করবে বা গ্রিন কার্ড বাতিল বা প্রত্যাহার করা হবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
গ্রিন কার্ড হলো মার্কিন অভিবাসন নথি যা একজন অভিবাসীকে দেশটিতে স্থায়ীভাবে বসবাস ও কাজ করার অনুমতি দেয়।
মার্কিন অভিবাসন বিচারকদের ক্ষমতা আছে গ্রিন কার্ড বাতিল করার এবং কাউকে দেশ থেকে বের করে দেওয়ার।
যদি প্রশাসন কোন গ্রিনকার্ডধারীকে জননিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করে হয় অথবা যদি ওই ব্যক্তি তাঁর ভিসার শর্ত লঙ্ঘন করেন। তবে সরকারও অভিবাসীকে বের করে দিতে পারে।
তবে সাক্সেনার মতে, সরকারের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া গ্রিন কার্ড বাতিলের কোনো আইনি এখতিয়ার নেই। যেকোনো বাতিলের ক্ষেত্রে কঠোর সংবিধিবদ্ধ পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে এবং ডিউ-প্রসেসের শর্ত পূরণ করতে হবে।
গত বছর, ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) সংস্থা ফিলিস্তিনপন্থী অধিকারকর্মী মাহমুদ খলিলকে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বক্তব্যের ভিত্তিতে আটক করেছিল। খলিল সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন, কিন্তু আইসিই অভিযোগ করে যে তিনি তাঁর গ্রিন কার্ড আবেদনে তথ্য গোপন করেছিলেন।
সেপ্টেম্বরে একজন মার্কিন অভিবাসন বিচারক আদেশ দেন যে খলিলকে আলজেরিয়া বা সিরিয়ায় ফেরত পাঠানো উচিত। তবে এই আদেশ এখনো কার্যকর হয়নি।
গ্রিন কার্ড পুনঃপরীক্ষা ও নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পাশাপাশি, জানুয়ারিতে দায়িত্ব পুনরায় গ্রহণ করার পরপরই ট্রাম্প শরণার্থী প্রবেশ স্থগিত করেছিলেন।
জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে বলেছিল, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল সংখ্যক অভিবাসী গ্রহণের সক্ষমতা নেই। বিশেষ করে শরণার্থীদের জায়গা দেওয়া কঠিন। এতে আমেরিকানদের সম্পদের ওপর চাপ পড়বে। নাগরিকদের নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হতে পারে। এছাড়া শরণার্থীদের যথাযথ আত্মীকরণ বা সমাজে মিশে যাওয়া নিশ্চিত করাও সম্ভব হবে না।’
এরপর, অক্টোবরের শেষে ট্রাম্প প্রশাসন দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে কম শরণার্থী প্রবেশের সীমা ঘোষণা করে। ২০২৬ অর্থবছরের জন্য মাত্র ৭ হাজার ৫০০ জন শরণার্থী প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।
বার্তা সংস্থার রয়টার্সের হাতে আসা একটি মেমো অনুযায়ী, ২৫ নভেম্বর ট্রাম্প প্রশাসন পূর্ববর্তী জো বাইডেন প্রশাসনের অধীনে দেশে প্রবেশ করা সমস্ত শরণার্থীর বিষয়টি পর্যালোচনার নির্দেশ দেয় এবং তাদের স্থায়ী বসবাসের আবেদন স্থগিত রাখার সুপারিশ করে।
ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের প্রধান এডলোর স্বাক্ষরিত ওই মেমো অনুযায়ী, ২০ জানুয়ারি ২০২১ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা প্রায় ২ লাখ ৩৩ হাজার শরণার্থীর স্ট্যাটাস এবং আবেদন পর্যালোচনা করা হবে। মেমোতে জাতীয় নিরাপত্তার কারণে জানুয়ারিতে শরণার্থী প্রবেশ স্থগিত করার ট্রাম্পের আদেশের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র আশ্রয়দাতা দেশগুলোতে শরণার্থীদের জন্য বিদেশি সহায়তাও কমিয়ে দিয়েছে। মার্কিন নাগরিকদের চাকরি রক্ষার প্রচেষ্টায় ট্রাম্প প্রশাসন দক্ষ অভিবাসী কর্মীদেরও লক্ষ্যবস্তু করেছে।
সেপ্টেম্বরে, এইচ-১বি ভিসার আবেদন ফি বাড়িয়ে প্রতিটি আবেদনের জন্য ১ লাখ ডলার করা হয়েছে। এই ভিসা যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য ব্যবহার করে।
অক্টোবরে, ইউএস চেম্বার অব কমার্স ভিসা আবেদনের ফি বৃদ্ধির কারণে ব্যবসার ক্ষতির উল্লেখ করে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। মামলাটি ওয়াশিংটন ডিসির জেলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
ফোরিন বলেন, ‘এই পদক্ষেপগুলো একত্রে দেখলে, বিশেষ করে যদি এগুলো সরকারগুলোর মধ্যে ‘রেস টু দ্য বটম’ বা খারাপের দিকে যাওয়ার প্রতিযোগিতা উসকে দেয়, তবে বিশ্বজুড়ে এর ধ্বংসাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে সেই দেশগুলোতে যেগুলো ইতিমধ্যে সংঘাত ও সহিংসতায় বিপর্যস্ত।’
ফোরিন আরও বলেন, ‘আমরা ইউরোপেও একই ঘটনা ঘটতে দেখছি। যুক্তরাজ্য রুয়ান্ডায় আশ্রয় প্রক্রিয়া আউটসোর্স করার চেষ্টা করেছে, আবার ইতালি আলবেনিয়ায় কেন্দ্র স্থাপনের চেষ্টা করেছে—কিন্তু এর কোনোটিই কাজ করেনি, কারণ প্রতিটি ধাপে আদালত এগুলো আটকে দিয়েছে।’
ফোরিন বলেন, দুর্ভাগ্যবশত, এই সব কিছুই শরণার্থী ও অভিবাসীদের বি-মানবিকীকরণে বা ‘ডিহিউম্যানাইজেশন’-এ অবদান রেখেছে। তাদের সুরক্ষার প্রয়োজন বা উন্নত ভবিষ্যতের সুযোগ পাওয়ার যোগ্য মানুষ হিসেবে না দেখে, কেবল হুমকি বা বোঝা হিসেবে চিত্রিত করা হচ্ছে।
• কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এক্সপ্লেইনার থেকে অনুবাদ করেছেন তুফায়েল আহমদ।

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনেই গণভোট হবে। এজন্য গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করা হয়েছে। এই অধ্যাদেশ মূলত একটি রাষ্ট্রপতি আদেশ, যা বাংলাদেশের প্রস্তাবিত সাংবিধানিক সংস্কার বিষয়ে জাতীয় গণভোট আয়োজনের আইনগত কাঠামো নির্ধারণ করে দিবে।
১ দিন আগে
গত আট দশকে বিশ্বের কোনো বড় শক্তির মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ হয়নি। রোমান সাম্রাজ্যের পতনের পর এই কালপর্বকে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘ শান্তির সময় হিসেবে গণ্য হয়। এই শান্তি একদিনে আসেনি—দুটি ভয়াবহ বিশ্বযুদ্ধের রক্তক্ষয়ী অভিজ্ঞতার পর বিশ্ব নেতারা বাধ্য হয়েছিলেন শান্তির প্রয়োজনীয়তা বুঝতে।
২ দিন আগে
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সম্প্রতি দ্বিতীয়বারের মতো ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) গত বছর জুলাই-আগস্টের দমন-পীড়নের ঘটনায় হাসিনার অনুপস্থিতিতেই দোষী সাব্যস্ত করে তাঁকে...
৩ দিন আগে
সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপ, যা নারিকেল জিঞ্জিরা নামেও পরিচিত, বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ। এটি বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত। বহু বছর ধরে এটি অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, দূষণ এবং প্রাণবৈচিত্র্য হারানোর কারণে পরিবেশগত ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
৩ দিন আগে