সাহাবুদ্দিন-এস আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী ইসলামী ব্যাংক থেকে বরখাস্ত
স্ট্রিম প্রতিবেদকঢাকা

ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইয়াসীন আলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) তাঁকে ট্রেনিং একাডেমিতে সংযুক্ত করেছে।
ইয়াসীন আলী সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন ও বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলমসহ (সাইফুল আলম) ৩৮ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ করেছিলেন। তিনি ইসলামী ব্যাংক থেকে ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ৩৮ জনের বিরুদ্ধে তিনি অনুসন্ধানের জন্য অভিযোগ করেছিলেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ছিলেন।
২৯ জুলাই ইয়াসীন আলী অভিযোগ করলেও, গত সোম ও মঙ্গলবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এরপরই ইয়াসীন আলীকে সাময়িক বরখাস্ত করল ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। তিনি মতিঝিলে ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ করপোরেট শাখার অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন।
নাম প্রকাশ না করে ইসলামী ব্যাংকের সিনিয়র এক কর্মকর্তা স্ট্রিমকে জানান, ইয়াসীন আলী অভিযোগ করার ক্ষেত্রে ব্যাংকের নিয়ম মানেননি। এজন্য তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে সূত্রের দাবি, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ওই অভিযোগ দেন ইয়াসীন আলী। তবে সরকার এই মুহূর্তে চায় না সাবেক এই রাষ্ট্রপ্রতিকে নিয়ে কোনো বিতর্ক হোক। ফলে তাঁকে ঘিরে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ইয়াসীন আলীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও ওই কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করার ঘটনায় অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
জানতে চাইলে ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলতাফ হোসেন বলেন, কোনো ঋণ অনিয়ম হলে আমরা আদালতের শরণাপন্ন হই। আদালত প্রয়োজন মনে করলে অধিকতর তদন্তের জন্য দুদকে পাঠায়। এছাড়া দুদকের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ব্যাংকের আলাদা বিভাগ রয়েছে।
তিনি বলেন, শাখা পর্যায়ের কর্মকর্তা কেন দুদকে অভিযোগ জমা দিলেন, তা পরিষ্কার নয়। বিষয়টি বিস্তারিত তদন্তের জন্য তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় আমরা নিয়ম মেনে আইনি পদক্ষেপ নেব।
ব্যাংকের নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২৬ জুলাইয়ের সিদ্ধান্তের পর ইসলামী ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ করপোরেট শাখার ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়াসীন আলীকে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব দেওয়া হয়। সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্যালাক্সি সোয়েটার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দুদকে দুর্নীতির অভিযোগ করার জন্য তাঁকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২৭ জুলাই জারি করা চিঠিতে শাখা ব্যবস্থাপনার পক্ষ থেকে ইয়াসীন আলীকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষমতা দেওয়া হয়।
সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন জে এম সি বিল্ডার্স লিমিটেডের প্রতিনিধি হিসেবে ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক ও পরে ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছিলেন। ২০২৩ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী তিনি ব্যাংকের পরিচালকের পদ ছেড়ে দেন। নথি অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ৮ জুন থেকে ২০২৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক ছিলেন।
সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয় এস আলম গ্রুপ। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে জনতা ব্যাংকের আলোচিত গ্রাহক অ্যাননটেক্স গ্রুপের এক বন্ধ প্রতিষ্ঠানের জন্য ৭০০ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করে ইসলামী ব্যাংক। ওই বছরের ২৪ আগস্ট ব্যাংকটির নির্বাহী কমিটির (ইসি) ১৯৯৭তম সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়।
ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান আহসানুল আলম নিজেই নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান। তিনি এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলমের ছেলে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ হারায় এস আলম।
.png)




-e3d250-256x144.webp)

