সৃজনশীল অর্থনীতি বিকাশে ৮০০ কোটি টাকা, নীতি সংস্কারের দাবি

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৬, ০০: ১৩
ফেসবুক লাইভ আলোচনা ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি: স্লোগান অর আনট্যাপড পটেনশিয়াল?’

দেশের সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে বাজেটে ৮০০ কোটি টাকার কর্মপরিকল্পনা দিয়েছে সরকার। এই খাতের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে নীতিমালার মৌলিক সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

শনিবার (১১ জুলাই) পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) ফেসবুক লাইভ আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

সভায় জানানো হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রথমবারের মতো সৃজনশীল বা ক্রিয়েটিভ অর্থনীতিতে (অরেঞ্জ ইকোনমি) ৮০০ কোটি টাকার কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩০০ কোটি টাকা সরাসরি বাজেট থেকে বরাদ্দ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে আরও ৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। লক্ষ্য হলো জিডিপিতে সৃজনশীল খাতের অবদান বৃদ্ধি করা। পাশাপাশি প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ‘ক্রিয়েটেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডের প্রসার ঘটানো।

পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের সৃজনশীল অর্থনীতির জন্য বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের পরিবর্তে সমন্বিত নীতি-পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। এককেন্দ্রিক অবকাঠামো ভিত্তিক চিন্তা দিয়ে আমরা এগোতে পারব না। মানসম্মত অবকাঠামোর পাশাপাশি টেকসই ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন এবং করনীতি, রয়্যালটি বণ্টন ব্যবস্থা, কপিরাইট সুরক্ষা ও লাইসেন্সিং সংস্কারকে জাতীয় অগ্রাধিকার দিতে হবে।’

অংশীজনদের যৌথ কৌশলগত রোডম্যাপ তৈরির আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারের সহায়তার পাশাপাশি সবার সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া নীতিগত লক্ষ্যকে দৃশ্যমান অর্থনৈতিক ফলাফলে রূপ দেওয়া সম্ভব না।

চলচ্চিত্র নির্মাতা তানিম নূর বলেন, চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য আলাদা করনীতি এবং কর সুবিধা চালু করা হলে এ খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেদওয়ান রনি বলেন, চলচ্চিত্র ও ওটিটি খাতের উন্নয়নে অবকাঠামো, করনীতি ও লাইসেন্সিং ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা জরুরি।

দেশীয় প্ল্যাটফর্মগুলোর প্রতি বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘নির্দিষ্ট নীতিমালার অভাবে দেশীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলো বৈষম্যের মুখে পড়ছে। স্থানীয় প্ল্যাটফর্মগুলোকে করপোরেট কর দিতে হচ্ছে। অথচ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মগুলো বাংলাদেশি দর্শকদের কাছ থেকে বিপুল আয় করলেও স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মতো বাধ্যবাধকতার মধ্যে নেই।’

বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী বলেন, দেশে প্রতিভাবান মানুষের অভাব নেই, তবে তাদের বিকাশ ও বাণিজ্যিকভাবে প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ এখনো হয়নি। তিনি শুধু মূল শিল্পীদের নয়, বরং এই খাতের পেছনের বৃহত্তর কর্মীবাহিনীর অবদান স্বীকার করে কাঠামোগত সংস্কারের তাগিদ দেন।

তারুয়া ক্রিয়েটিভের নাট্যকার বাকার বকুল বলেন, নাটক ও পারফর্মিং আর্টসকে অর্থনৈতিক খাতের পরিবর্তে স্বেচ্ছাশ্রমনির্ভর সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড হিসেবে দেখা হয়। পেশাদার ও টেকসই শিল্প গড়তে বিনা পারিশ্রমিকের শ্রমের ওপর নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে এসে শিল্পীদের শ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে।

প্রকাশনা খাতকে সবচেয়ে অবহেলিত শিল্পগুলোর একটি উল্লেখ করে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহরুখ মহিউদ্দিন বলেন, পুরোনো নীতি, দুর্বল কপিরাইট প্রয়োগ এবং ডিজিটাল ও মুদ্রিত বইয়ের ব্যাপক পাইরেসি এ শিল্পের বড় বাধা। জাতীয় গ্রন্থনীতি আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এ দেশের বই তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

হস্তশিল্প খাতের উদ্যোক্তা ক্ল্যাসিক্যাল হ্যান্ডমেড প্রোডাক্টসের (সিএইচপি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তৌহিদ বিন আব্দুস সালাম বলেন, হস্তশিল্প ও সৃজনশীল পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে আন্তর্জাতিক বাজারে মান নিয়ন্ত্রণ, সনদায়ন ও শক্তিশালী ব্র্যান্ডিং নিশ্চিত করতে হবে।

বক্তারা একমত হন, বাজেটে নতুন বরাদ্দ গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হলেও এর সঠিক তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত