
বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ড্রয়ের পর গ্যালারি ও ড্রেসিংরুম পরিষ্কার করে আবারও দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে জাপান।
গতকাল রোববার (১৪ জুন) রাতে গ্রুপ ‘এফ’-এর ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে দুইবার পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলে ড্র করে মাঠ ছাড়ে জাপানের ‘ব্লু সামুরাই’রা।
কানায় কানায় পূর্ণ স্টেডিয়ামে রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে গ্যালারিজুড়ে হট্টগোলের বদলে দেখা গেল শান্ত ও সুশৃঙ্খল দৃশ্য। রেফারির শেষ বাঁশির পর জাপানি দর্শকরা পকেট থেকে নীল প্লাস্টিক ব্যাগ বের করে গ্যালারি পরিষ্কারে নেমে পড়েন। সারিবদ্ধভাবে সিটের নিচে পড়ে থাকা চিপসের প্যাকেট, প্লাস্টিকের কাপ এবং কোল্ড ড্রিঙ্কসের বোতলসহ সমস্ত আবর্জনা ব্যাগ ভর্তি করতে থাকেন।
টেলিভিশনের পর্দায় বা সামাজিক মাধ্যমে এই দৃশ্য অনেকের কাছে কেবল খবর মনে হতে পারে, কিন্তু জাপানিদের কাছে এটি কোনো প্রদর্শনীর বিষয় নয়। এর পেছনে আছে তাদের হাজার বছরের মহান জীবনদর্শন ‘আতারিমায়ে’। এর অর্থ হলো—‘যা করা একদম স্বাভাবিক বা উচিত’।
জাপানিদের বিশ্বাস, কোনো জায়গায় থেকে চলে আসার সময় স্থানটিকে আগের থেকেও বেশি পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর করে রেখে আসা নৈতিক দায়িত্ব।
এই অভ্যাসের বীজ বপন হয় জাপানের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতেই। ‘সৌজি’ নামক এক বিশেষ শিক্ষায় শিশুদের ক্লাসরুমের টেবিল-চেয়ার মোছা থেকে স্কুলের টয়লেট পর্যন্ত নিজেদের পরিষ্কার করার অভ্যাস করানো হয়।
শুধু জাপানি দর্শক নয়, দলটির খেলোয়াড়েরাও এই অলিখিত নিয়ম মেনে চলেন। ম্যাচ শেষে জাপানি ফুটবলাররা যখন লকার রুম ছাড়েন, তখন মেঝে থাকে ঝকঝকে এবং টেবিলগুলো থাকে গোছানো।
শুধু তাই নয়, টেবিলের মাঝখানে রেখে যান জাপানি সংস্কৃতির শান্তি ও শুভকামনার প্রতীক ‘ওরিগামি’ পাখি। এর পাশেই আয়োজক দেশের ভাষায় লেখা থাকে ‘ধন্যবাদ’ চিরকুট।
.png)






-3c3626-256x144.webp)