জামালপুরে চামড়ার বাজার

অর্ধেকেও মিলছে না দাম, হতাশ বিক্রেতারা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
জামালপুর

প্রকাশ : ২৯ মে ২০২৬, ১৩: ১০
চামড়া পরিষ্কাররে ব্যস্ত শ্রমিকেরা। সংগৃহীত ছবি
চামড়া পরিষ্কাররে ব্যস্ত শ্রমিকেরা। সংগৃহীত ছবি

জামালপুরে সরকার নির্ধারিত মূল্য উপেক্ষা করে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অর্ধেকেরও কম দামে চামড়া কিনছেন বলে অভিযোগ করেছেন খুচরা বিক্রেতারা। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, মাদ্রাসা ও এতিমখানাগুলোও।

সরকার এবার জেলা পর্যায়ে গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৬০ টাকা নির্ধারণ করেছে। এ ছাড়া খাসির চামড়া ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং বকরির চামড়া ২২ থেকে ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সে হিসাবে মাঝারি গরুর চামড়ার মূল্য হওয়ার কথা ৯৫০ থেকে ১২০০ টাকা এবং বড় গরুর চামড়া ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত।

কিন্তু ঈদের দিন সকাল থেকে আজ শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত বড় গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে মাত্র ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায়। গতকাল বিকাল ও সন্ধ্যার দিকে সেই একই চামড়া বিক্রি হয়েছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকায়, কোথাও কোথাও মাত্র ১০০ টাকায়ও। মাঝারি গরুর চামড়ার দামও নেমে আসে ১০০ থেকে ২০০ টাকায়।

চামড়া বিক্রেতাদের অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। সরকারি রেট কার্যকরে প্রশাসনের কোনো তদারকি না থাকায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করছেন। গুদামের সামনে সরকারি মূল্যতালিকা টানানো না থাকায় সাধারণ মানুষ প্রকৃত দাম সম্পর্কেও জানছেন না।

তবে চামড়া ব্যবসায়ীদের দাবি ভিন্ন। তাঁদের ভাষ্য, সরকার দাম বাড়ালেও ট্যানারিমালিকরা সেই দামে চামড়া কিনতে রাজি নন। বরং গত বছরের চেয়েও কম দামে চামড়া নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়েই কম দামে কিনতে হচ্ছে।

শহরের দেওয়ানপাড়া এলাকার বাসিন্দা মঞ্জু মিয়া চামড়া বিক্রি করতে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘১ লাখ ৬০ হাজার টাকা দিয়ে গরু কিনেছি। শুনলাম সরকার চামড়ার দাম বাড়িয়ে প্রতি বর্গফুট ৬০ টাকা করেছে। সেই হিসাবে আমার চামড়ার দাম ২ হাজার টাকার বেশি হওয়ার কথা। অথচ বিক্রি করতে হলো মাত্র ৫০০ টাকায়।’

শহরের রামনগর এলাকার আব্দুল কালাম একটি বড় গরুর চামড়া বিক্রি করেন ৩০০ টাকায়। এর মধ্যে ১০০ টাকা অটোরিকশা ভাড়াই গুনতে হয়েছে বলে জানান তিনি। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আগে জানলে চামড়া ডোবায় ফেলে দিতাম। শুধু রেট ঘোষণা করলেই হবে না, সেই রেট কার্যকর হচ্ছে কি না তা দেখারও দায়িত্ব সরকারের।

চামড়া গুদামের মালিক বিল্লাল হোসেন বলেন, সরকারি রেটে ট্যানারিগুলো চামড়া কিনতে চায় না। সরকারের কাছে বিক্রি করেন। আবার লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে চামড়া কিনে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করতে হয়। পরে টাকা পেতেও মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয়। তাই সরকারি রেটে চামড়া কেনা সম্ভব হয় না।

এ বিষয়ে জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজনিন আখতার বলেন, সরকারি রেটের চেয়ে কম দামে চামড়া কেনার অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জামালপুর বিসিক শিল্পনগরীর উপ-মহাব্যবস্থাপক সম্রাট আকবর বলেন, ‘চামড়া ব্যবসায়ীদের আমরা বলেছি, অতিরিক্ত কম দামে চামড়া কিনলে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হবে। ট্যানারিগুলো সরকারি রেটে চামড়া কিনছে না, এ অভিযোগও সঠিক নয়। লবণযুক্ত করে সংরক্ষণ করে আনলে সরকারি রেটে বিক্রির ব্যবস্থা করা হবে।’

জামালপুরের জেলা প্রশাসক ইউসুপ আলী বলেন, সরকার নির্ধারিত রেট মানা না হলে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। চামড়ার দরপতন হলে খুচরা ব্যবসায়ীরা নিরুৎসাহিত হবে। চামড়াশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকার মূল্য বৃদ্ধি

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত