-9dc328-480x270.webp)
বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতির শপথ নিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে তাঁকে শপথপাঠ করার ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন হলেন মির্জা ফখরুল।
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর নির্বাচনের মাধ্যমে বিজয়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে বঙ্গভবনে শুরু হলো মির্জা ফখরুলের অধ্যায়। বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদের শপথপাঠ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন, মন্ত্রিসভার সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক, সংসদ সদস্য এবং সামরিক-বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এর আগে সন্ধ্যা ৭টায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয়। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত হন সাড়ে ৭টায়। এ সময় জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এরপর মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি মূল অনুষ্ঠান শুরু করেন।
পবিত্র কুরআন তেলওয়াতের পর নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে শপথপাঠ করান ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল। শপথে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সশ্রদ্ধচিত্তে শপথ বা দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করিতেছি যে, আমি আইন অনুযায়ী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদের কর্তব্য বিশ্বস্ততার সহিত পালন করিব। আমি বাংলাদেশের প্রতি অকৃত্রিম বিশ্বাস ও আনুগত্য পোষণ করিব। আমি সংবিধানের রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তা বিধান করিব। আমি ভীতি বা অনুগ্রহ, অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী না হইয়া সকলের প্রতি আইন অনুযায়ী যথাবিহিত আচরণ করিব।’ শপথের পর মির্জা ফখরুল শপথনামায় সই করেন এবং ভারপ্রাপ্ত স্পিকার তা সত্যায়ন করেন।
-3faf8e.jpeg)
গতকাল বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ২৫৫ সংসদ সদস্যের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন বিএনপির প্রার্থী ও দলের সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট।
একাধিক প্রার্থী থাকায় ৩৫ বছর পর এবার রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন হয়েছে। দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোট হয়। তালিকাভুক্ত ৩৪৯ সংসদ সদস্যের মধ্যে ভোট দেন ৩৪৩ জন। এরপর সন্ধ্যায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন।
সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নির্বাচিত হওয়ার আগে ৭৮ বছর বয়সী রাজনীতিক মির্জা ফখরুল স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২০১৬ সাল থেকে তিনি বিএনপির মহাসচিব; তার আগে পাঁচ বছর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ছিলেন। মির্জা ফখরুলই বিএনপির সবচেয়ে দীর্ঘকালীন মহাসচিব। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তাঁর নেতৃত্ব বিএনপির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা যোগ করেছিল।
-c87f70.jpeg)
১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ের কালীবাড়ি এলাকায় জন্ম মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের। ঠাকুরগাঁওয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করার পর তিনি উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ঢাকা কলেজে পড়াশোনা করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।
ষাটের দশকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের (ইপিএসইউ) সঙ্গে যুক্ত হন মির্জা ফখরুল। ১৯৬৯ সালে তৎকালীন পাকিস্তানি সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি সংগঠনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ছিলেন।
মির্জা ফখরুল স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন। ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন সরকারি কলেজে শিক্ষকতা করেন। একই সময়ে সরকারি চাকরির অংশ হিসেবে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
-8aede2.jpeg)
১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে দেন মির্জা ফখরুল। এর দুই বছর পর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌর চেয়ারম্যান (বর্তমানে মেয়র পদ) নির্বাচিত হন। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে বিএনপিতে যোগ দেন মির্জা ফখরুল। প্রথমে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং পরে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব হন। দীর্ঘদিন দলের অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সহসভাপতি ও পরে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
২০০১ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। পরে সরকারে কৃষি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এরপরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বগুড়ার একটি আসন থেকে দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও, দলীয় সিদ্ধান্তে সংসদ সদস্যের শপথ নেননি তিনি। এরপর গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও থেকে বিজয়ী হয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
.png)






