সরকারের তিন মাস
আতাউর রহমান রাইহান

যেকোনো সরকারের প্রথম তিন মাস থেকে ছয় মাসকে সাধারণত ‘হানিমুন পিরিয়ড’ বলা হয়। এই সময়ে জনপ্রত্যাশা পূরণে সরকার দৃশ্যমান কিছু করার চেষ্টা করে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর বিএনপি সরকারও প্রথম তিন মাসে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে।
এসব নিয়ে যেমন প্রশংসা রয়েছে, তেমনি বিতর্কও কম হয়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল পুনঃখননসহ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ প্রশংসার। তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক যেসব প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তাতে উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। সামনের দিনে সরকার এসব উতরে যাবে বলে আশাবাদী তাঁরা।
চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পায় বিএনপি জোট। পরে ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে শপথ নেয় সরকার। এই হিসাবে সোমবার (১৮ মে) চার মাসে পা দিল বিএনপি সরকার। এই অল্প সময়ে নির্বাচনের আগে দেওয়া বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে প্রশংসা কুড়িয়েছে সরকার। তবে একই সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক চাপ, প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা, সড়কে চাঁদাবাজি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও রাজনৈতিক সংস্কার প্রশ্নে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে।
সরকারের তিন মাস মূল্যায়নে গবেষক ও লেখক মহিউদ্দিন আহমেদ স্ট্রিমকে বলেছেন, ‘তিন মাসে তো আর এমন কিছু বলা যাবে না। তবে বড় ধরনের কোনো অঘটন দেখি নাই। আবার উল্লেখ করার মতো তেমন কিছু চোখে পড়েনি। আমার কাছে বর্তমান সরকারকে গতানুগতিকই মনে হচ্ছে।’
প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তৎপর
সরকারের প্রথম তিন মাসে সবচেয়ে আলোচনায় এসেছে সামাজিক সুরক্ষা ও জনকল্যাণভিত্তিক নানা উদ্যোগ। মেয়েদের স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়াশোনার ঘোষণা, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সম্মানী চালু, কৃষিঋণ মওকুফ, খাল পুনঃখনন কর্মসূচি, ফুয়েল কার্ড, জাকাত আধুনিকায়ন, প্রবাসী কার্ড, হজের খরচ কমানো, সরকারি শূন্যপদ পূরণের উদ্যোগ, পুনরায় ভর্তি ফি বাতিল এবং শিক্ষাবৃত্তির অর্থ বৃদ্ধি– এসব সিদ্ধান্ত সরকারের জনপ্রিয়তা বাড়াতে সহায়ক হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, তাদের সরকার নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণকে একটি দ্রুত ক্রিয়াশীল বার্তা দিতে চেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, তিন মাসে দেশের ভেতরে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার যে সাফল্য দেখিয়েছে, তা অভূতপূর্ব। সবকিছু নিয়ন্ত্রণ রেখে তিনি সাফল্য অর্জন করেছেন।
প্রশংসিত প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ
সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের বাইরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত কিছু উদ্যোগ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যানজট বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর ছোট করা, সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবার অফিস চালু, সচিবালয়ে কর্মকর্তাদের সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিত এবং সরকারি গাড়ির পরিবর্তে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারকে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখছেন মানুষ। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী প্রশাসনে শৃঙ্খলা ও ব্যয়সংকোচনের বার্তা দিতে চেয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির নেতারা।
সংস্কার নিয়ে বাড়ছে সমালোচনা
সরকারের প্রথম তিন মাস পুরোপুরি স্বস্তির হয়নি। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, সড়কে চাঁদাবাজি, বিভিন্ন এলাকায় হকার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা, ‘মব’ সামালে দুর্বলতা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্য চাঁদাবাজি ও দখলদারির অভিযোগ সরকারের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। সামাজিক মাধ্যমেও এসব ইস্যুর পাশাপাশি সংস্কার নিয়ে বিএনপি এবং সরকারের অবস্থানের সমালোচনা বাড়ছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এর মধ্যে গুম প্রতিরোধবিষয়ক অধ্যাদেশ নির্ধারিত সময়ে সংসদে অনুমোদন না পাওয়ায় মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম আবেগ ছিল গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের আহাজারি। সরকার গঠনের শুরুতেই গুমের ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার কথা বলা হলেও, স্বাধীন এবং নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় কমিশনের পরিবর্তে পুরোনো প্রশাসনিক কাঠামোর মাধ্যমেই বিষয়টি পরিচালিত হতে পারে– এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক সংস্কারের প্রশ্নও সামনে আসছে। আন্তর্জাতিক সংকট বিশ্লেষণ সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ (আইসিজি) সম্প্রতি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, বিএনপি অর্থবহ সংস্কারের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এলে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সংসদের ভেতরে-বাইরে সরকারের বিরুদ্ধে আরও সক্রিয় হতে পারে। আইসিজির মতে, রাজনৈতিক সংস্কারের প্রশ্ন আগামী দিনগুলোতে দেশের রাজনীতিতে বড় বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
শঙ্কা পুরোনো বন্দোবস্তের
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক রওনক জাহান বলেছেন, বর্তমান সরকারের কার্যক্রম দেখে মনে হচ্ছে, সেই পুরোনো বন্দোবস্তেরই অনুসরণ চলছে। এভাবে চললে কত দিন তারা থাকতে পারবে, সবাই তা এখন ভাবছে। রাজনৈতিক খেসারতের জন্য হয়ত মানুষ এখন ১৭ বছর অপেক্ষা নাও করতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি সরকার এখন সবচেয়ে বেশি চাপে আছে ‘প্রত্যাশা ব্যবস্থাপনা’ নিয়ে। দীর্ঘদিন বিরোধী দলে থাকার কারণে জনগণের একটি বড় অংশের প্রত্যাশা ছিল দ্রুত ও দৃশ্যমান পরিবর্তন। কিন্তু প্রশাসনিক বাস্তবতা, অর্থনৈতিক চাপ এবং রাজনৈতিক সমন্বয়হীনতা সেই পথকে কঠিন করে তুলছে।
অর্থনীতির চাপ বাড়ছে
সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে অর্থনীতি। সামনে জাতীয় বাজেট। অথচ রাজস্ব আহরণ ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ– দুই ক্ষেত্রেই চাপে সরকার। সরকার এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, যা অভ্যন্তরীণ ঋণনির্ভরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বা অন্যান্য দাতা সংস্থার কাছ থেকে দৃশ্যমান বড় কোনো আর্থিক সহায়তার নিশ্চয়তা এখনো মেলেনি।
ব্যবসায়ীদের একাংশ করের অর্থের ব্যবহার ও নীতিগত অনিশ্চয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক চাপ দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক প্রভাবও ফেলতে পারে।
জনআস্থা ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ
তিন মাসের মাথায় বিএনপি সরকারের সামনে এখন বড় প্রশ্ন– জনআস্থা কতটা ধরে রাখতে পারবে তারা? কারণ, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কিছু দৃশ্যমান উদ্যোগ থাকলেও মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং অর্থনৈতিক চাপের বাস্তবতা দ্রুত সরকারের জনপ্রিয়তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিএনপি সরকারের প্রথম তিন মাসে যেমন পরিবর্তনের বার্তা আছে, তেমনি পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির ছায়াও দেখা যাচ্ছে। সামনে এই দুই বাস্তবতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

যেকোনো সরকারের প্রথম তিন মাস থেকে ছয় মাসকে সাধারণত ‘হানিমুন পিরিয়ড’ বলা হয়। এই সময়ে জনপ্রত্যাশা পূরণে সরকার দৃশ্যমান কিছু করার চেষ্টা করে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর বিএনপি সরকারও প্রথম তিন মাসে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে।
এসব নিয়ে যেমন প্রশংসা রয়েছে, তেমনি বিতর্কও কম হয়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল পুনঃখননসহ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ প্রশংসার। তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক যেসব প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তাতে উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। সামনের দিনে সরকার এসব উতরে যাবে বলে আশাবাদী তাঁরা।
চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পায় বিএনপি জোট। পরে ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে শপথ নেয় সরকার। এই হিসাবে সোমবার (১৮ মে) চার মাসে পা দিল বিএনপি সরকার। এই অল্প সময়ে নির্বাচনের আগে দেওয়া বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে প্রশংসা কুড়িয়েছে সরকার। তবে একই সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক চাপ, প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা, সড়কে চাঁদাবাজি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও রাজনৈতিক সংস্কার প্রশ্নে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে।
সরকারের তিন মাস মূল্যায়নে গবেষক ও লেখক মহিউদ্দিন আহমেদ স্ট্রিমকে বলেছেন, ‘তিন মাসে তো আর এমন কিছু বলা যাবে না। তবে বড় ধরনের কোনো অঘটন দেখি নাই। আবার উল্লেখ করার মতো তেমন কিছু চোখে পড়েনি। আমার কাছে বর্তমান সরকারকে গতানুগতিকই মনে হচ্ছে।’
প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তৎপর
সরকারের প্রথম তিন মাসে সবচেয়ে আলোচনায় এসেছে সামাজিক সুরক্ষা ও জনকল্যাণভিত্তিক নানা উদ্যোগ। মেয়েদের স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়াশোনার ঘোষণা, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সম্মানী চালু, কৃষিঋণ মওকুফ, খাল পুনঃখনন কর্মসূচি, ফুয়েল কার্ড, জাকাত আধুনিকায়ন, প্রবাসী কার্ড, হজের খরচ কমানো, সরকারি শূন্যপদ পূরণের উদ্যোগ, পুনরায় ভর্তি ফি বাতিল এবং শিক্ষাবৃত্তির অর্থ বৃদ্ধি– এসব সিদ্ধান্ত সরকারের জনপ্রিয়তা বাড়াতে সহায়ক হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, তাদের সরকার নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণকে একটি দ্রুত ক্রিয়াশীল বার্তা দিতে চেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, তিন মাসে দেশের ভেতরে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার যে সাফল্য দেখিয়েছে, তা অভূতপূর্ব। সবকিছু নিয়ন্ত্রণ রেখে তিনি সাফল্য অর্জন করেছেন।
প্রশংসিত প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ
সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের বাইরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত কিছু উদ্যোগ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যানজট বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর ছোট করা, সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবার অফিস চালু, সচিবালয়ে কর্মকর্তাদের সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিত এবং সরকারি গাড়ির পরিবর্তে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারকে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখছেন মানুষ। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী প্রশাসনে শৃঙ্খলা ও ব্যয়সংকোচনের বার্তা দিতে চেয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির নেতারা।
সংস্কার নিয়ে বাড়ছে সমালোচনা
সরকারের প্রথম তিন মাস পুরোপুরি স্বস্তির হয়নি। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, সড়কে চাঁদাবাজি, বিভিন্ন এলাকায় হকার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা, ‘মব’ সামালে দুর্বলতা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্য চাঁদাবাজি ও দখলদারির অভিযোগ সরকারের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। সামাজিক মাধ্যমেও এসব ইস্যুর পাশাপাশি সংস্কার নিয়ে বিএনপি এবং সরকারের অবস্থানের সমালোচনা বাড়ছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এর মধ্যে গুম প্রতিরোধবিষয়ক অধ্যাদেশ নির্ধারিত সময়ে সংসদে অনুমোদন না পাওয়ায় মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম আবেগ ছিল গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের আহাজারি। সরকার গঠনের শুরুতেই গুমের ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার কথা বলা হলেও, স্বাধীন এবং নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় কমিশনের পরিবর্তে পুরোনো প্রশাসনিক কাঠামোর মাধ্যমেই বিষয়টি পরিচালিত হতে পারে– এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক সংস্কারের প্রশ্নও সামনে আসছে। আন্তর্জাতিক সংকট বিশ্লেষণ সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ (আইসিজি) সম্প্রতি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, বিএনপি অর্থবহ সংস্কারের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এলে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সংসদের ভেতরে-বাইরে সরকারের বিরুদ্ধে আরও সক্রিয় হতে পারে। আইসিজির মতে, রাজনৈতিক সংস্কারের প্রশ্ন আগামী দিনগুলোতে দেশের রাজনীতিতে বড় বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
শঙ্কা পুরোনো বন্দোবস্তের
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক রওনক জাহান বলেছেন, বর্তমান সরকারের কার্যক্রম দেখে মনে হচ্ছে, সেই পুরোনো বন্দোবস্তেরই অনুসরণ চলছে। এভাবে চললে কত দিন তারা থাকতে পারবে, সবাই তা এখন ভাবছে। রাজনৈতিক খেসারতের জন্য হয়ত মানুষ এখন ১৭ বছর অপেক্ষা নাও করতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি সরকার এখন সবচেয়ে বেশি চাপে আছে ‘প্রত্যাশা ব্যবস্থাপনা’ নিয়ে। দীর্ঘদিন বিরোধী দলে থাকার কারণে জনগণের একটি বড় অংশের প্রত্যাশা ছিল দ্রুত ও দৃশ্যমান পরিবর্তন। কিন্তু প্রশাসনিক বাস্তবতা, অর্থনৈতিক চাপ এবং রাজনৈতিক সমন্বয়হীনতা সেই পথকে কঠিন করে তুলছে।
অর্থনীতির চাপ বাড়ছে
সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে অর্থনীতি। সামনে জাতীয় বাজেট। অথচ রাজস্ব আহরণ ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ– দুই ক্ষেত্রেই চাপে সরকার। সরকার এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, যা অভ্যন্তরীণ ঋণনির্ভরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বা অন্যান্য দাতা সংস্থার কাছ থেকে দৃশ্যমান বড় কোনো আর্থিক সহায়তার নিশ্চয়তা এখনো মেলেনি।
ব্যবসায়ীদের একাংশ করের অর্থের ব্যবহার ও নীতিগত অনিশ্চয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক চাপ দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক প্রভাবও ফেলতে পারে।
জনআস্থা ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ
তিন মাসের মাথায় বিএনপি সরকারের সামনে এখন বড় প্রশ্ন– জনআস্থা কতটা ধরে রাখতে পারবে তারা? কারণ, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কিছু দৃশ্যমান উদ্যোগ থাকলেও মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং অর্থনৈতিক চাপের বাস্তবতা দ্রুত সরকারের জনপ্রিয়তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিএনপি সরকারের প্রথম তিন মাসে যেমন পরিবর্তনের বার্তা আছে, তেমনি পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির ছায়াও দেখা যাচ্ছে। সামনে এই দুই বাস্তবতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার। সোমবার (১৮ মে) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার ভবেরচর বাসস্ট্যান্ডের পেছনে আব্দুল্লাহপুর গ্রামে তাঁর শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে একই গ্রামে নানির বাগানবাড়ির আঙিনায় তাকে দাফন করা হয়।
৪৪ মিনিট আগে
মাদারীপুর শহরের আমিরাবাদ এলাকায় একটি বাসা থেকে ৮ মাসের শিশুসহ একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (১৭ মে) দিবাগত মধ্যরাতে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।
২ ঘণ্টা আগে
কক্সবাজারে চকরিয়ায় অসুস্থ একটি বন্য মা-হাতির মৃত্যু হয়েছে। কয়েকদিন ধরে রামুর ঈদগড়, চকরিয়ার খুটাখালী এবং বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী এলাকার পাহাড়ে ঘুরে বেড়ানো হাতিটি শনিবার গভীর রাতে মারা যায়। মারা যাওয়ার পরও হাতিটির শাবক পাশেই অবস্থান করছিল। কোনোভাবেই সে মাকে ছেড়ে যাচ্ছিল না।
২ ঘণ্টা আগে
ফরিদপুরের ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের আতাদি ফ্লাইওভারে গাছভর্তি ট্রাকে সঙ্গে মাছের ট্রাকের ধাক্কায় দুজন নিহত হয়েছেন।
৩ ঘণ্টা আগে