
রাজধানীর বনানীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলে বাধা দেওয়ায় বিক্ষোভ ও মারধোরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় একটি পুলিশ বক্সে হামলা চালানো হয়।
সোমবার (২১ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে বনানী-১১ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের সঙ্গে ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকদের সংঘর্ষ হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকেরা লাঠিসোঁটা নিয়ে এক মোটরসাইকেল আরোহীর ওপর হামলা করেন। এমনকি সংঘর্ষের ঘটনার ভিডিও ধারণ করায় কয়েকজন পথচারীকে মারধরের ঘটনাও ঘটে।
ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকেরা এ সময় গুলশান লেকে দুটি প্যাডেলচালিত রিকশা ফেলে দেন। তাঁরা বলেন, তাঁদের রিকশা চালাতে না দেওয়া হলে প্যাডেল রিকশাও চলতে দেওয়া হবে না।
প্রসঙ্গত, ১৯ এপ্রিল থেকে গুলশানে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, তাঁরা আজ বনানী ১১ নং সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলে বাধা দেন। এতে রিকশাচালকেরা বিক্ষুদ্ধ হয়ে সড়ক আটকে বিক্ষোভ শুরু করেন।
পরবর্তীতে সেনাবাহিনী, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এবং পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা গিয়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেন।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৩ এর জোনাল নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ উল মোস্তাক গণমাধ্যমকে বলেন, "ঢাকা উত্তরের প্রধান সড়কে মোটরচালিত ও প্যাডেল রিকশা—উভয়ই নিষিদ্ধ। গুলশান ও বনানী সোসাইটির দেওয়া পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে রিকশা চলাচলের যে ব্যবস্থা ছিল, সেটি এখন বাতিল করা হয়েছে। আমরা রিকশার জন্য লাইসেন্স প্রবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছি, বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের বিবেচনাধীন। আমরা কয়েক দিন ধরে অবৈধ রিকশার বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছি।"
উল্লেখ্য, গত নভেম্বর মাসে হাইকোর্টের এক আদেশে রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা নিষিদ্ধ করা হয়। তবে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত সেই আদেশের ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেন।
ব্যাটারি রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক খালেকুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান, ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা আনুমানিক ১২ লাখ। তাই অনেকের মত, হঠাৎ করে এ বাহন বন্ধ করে দেওয়া হলে বিশালসংখ্যক লোক কর্মসংস্থান হারাবেন। তাছাড়া, এ যুগে এসে প্যাডেল রিকশা অমানবিক- এই যুক্তিতে ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি দেয়ার পক্ষে অনেকে।
বিষয়:
ব্যাটারিচালিত রিকশা.png)




-78ae87-256x144.webp)

