জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে রাজনৈতিক দলগুলো উপজেলা পর্যায়ে আদালত সম্প্রসারণে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। তবে জেলা সদরের কাছাকাছি উপজেলাগুলোতে আদালত স্থাপন নিয়ে মতভেদ রয়েছে। দুর্নীতি ও প্রশাসনিক জবাবদিহি নিয়ে মতবিরোধ স্পষ্ট। হাইকোর্ট বেঞ্চ বিভাগীয় শহরে স্থাপনের বিরোধিতা করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা।
মো. ইসতিয়াক
বিচারসেবা জনগণের কাছাকাছি আনতে উপজেলা পর্যায়ে আদালত সম্প্রসারণের উদ্যোগ আবারও আলোচনায়। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে রাজনৈতিক দলগুলোর নীতিগত সম্মতি মিললেও ভৌগোলিক বাস্তবতা, আইনি বাধা এবং অতীত অভিজ্ঞতা এই পরিকল্পনার সামনে বড় প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। রয়েছে সাংবিধানিক বিতর্কও।
আজ সোমবার (৭ জুলাই ) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত সংলাপে এই প্রস্তাব উঠে আসে।
বর্তমানে যেসব উপজেলায় চৌকি আদালত পরিচালিত হচ্ছে, সেগুলোর কার্যকারিতা মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় হলে স্থায়ী আদালতে রূপান্তরেরও সুপারিশ এসেছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত
উপজেলা পর্যায়ে অধস্তন আদালত সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত এক হলেও কিছু বিষয়ে এখনো কিছু দল ভিন্নমত দিচ্ছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘জেলা সদরের খুব কাছাকাছি যেসব উপজেলা, সেখানে নতুন করে আদালত স্থাপনের কোনো যৌক্তিকতা নেই, প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় সমীক্ষার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।’
তবে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ ভিন্নমত পোষণ করে বলেন, ‘উপজেলা আদালত হলে দুর্নীতি বাড়বে—এটি ভুল ধারণা। বরং বিচারসেবা যত কাছে যাবে, হয়রানি তত কমবে। দুর্নীতি বন্ধ করতে হলে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।’
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন বলেন, ‘সংসদীয় আসনের ভিত্তিতে দ্রুত উপজেলা আদালত স্থাপন করতে হবে। জনগণ যাতে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়, সে লক্ষ্যেই আদালত বিস্তৃত করতে হবে।’
কয়েকটি দলের পক্ষ থেকে আদালত সম্প্রসারণের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের পরামর্শও আসে।
আইনজীবীদের প্রতিবাদ
ঢাকার বাইরে বিভাগীয় শহরে হাইকোর্ট বেঞ্চ স্থাপনের প্রস্তাব ঘিরে সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। আজ (৭ জুলাই) সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সাধারণ আইনজীবীদের ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ-সমাবেশে আইনজীবীরা বলেন, সংবিধান ও আপিল বিভাগের পূর্ববর্তী নির্দেশনা উপেক্ষা করে এই উদ্যোগ নেওয়া হলে তা হবে অবৈধ ও বিপজ্জনক।
আইনজীবিরা বলেন, ঢাকার বাইরে হাইকোর্ট বেঞ্চ স্থাপন করা হলে বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ লাঘব হবে না। বরং বিভ্রান্তি, জটিলতা ও ব্যয় আরও বেড়ে যাবে। এর ফলে একই আইনের ভিন্ন প্রয়োগ, ন্যায়বিচারে বৈষম্য ও সুনির্দিষ্ট রায়প্রাপ্তির পথে বিভ্রান্তি দেখা দিতে পারে।
এদিন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম প্রধান বিচারপতির কাছে একটি লিখিত আবেদনও জমা দেন। তিনি আবেদনপত্রে উল্লেখ করেন, সংবিধানের ১০০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের প্রধান আসন ঢাকায়। অন্য কোথাও সেশন বা বেঞ্চ বসানো গেলেও তার স্থায়ী রূপ দেওয়া হলে তা হবে সরাসরি সংবিধানবিরোধী।
সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, বিভাগীয় শহরে স্থায়ীভাবে হাইকোর্ট বেঞ্চ স্থাপন করতে গেলে সেখানে বিচারপতি, পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রচুর অর্থ, সময় ও কর্মীর প্রয়োজন হবে। এতে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় হবে। পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাব বিচারকার্যে হস্তক্ষেপ করতে পারে, যা আদালতের নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
সাইফুল ইসলাম সতর্ক করে আরও বলেন, যদি বিভাগীয় শহরগুলোতে বিচারপতিদের পাঠানো হয়, তবে ঢাকায় বিচারপতির সংকট তৈরি হবে । এর ফলে বিচারিক জট আরও তীব্র হবে, যা সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে দুর্ভোগ সৃষ্টি করবে।
প্রয়োজন সতর্কতা
১৯৮৩ সালে এরশাদের আমলে উপজেলা আদালত চালু করা হয়েছিল। তবে সেটি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিক এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘উপজেলা আদালতের দায়িত্ব ছিল উপজেলা চেয়ারম্যানদের হাতে, যাঁরা বিচারক নন। এতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা লঙ্ঘিত হয় এবং বিচার প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব পড়ে।’
শাহদীন মালিক আরও বলেন, ‘বিচার বিভাগ একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। এটিকে জনপ্রতিনিধিদের অধীনে নিয়ে যাওয়া মানে হচ্ছে সাংবিধানিক স্বাতন্ত্র্য ভাঙা। অতীতে সেই ভুলের ফলেই আদালতব্যবস্থা বাতিল করতে হয়েছিল।’
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে নীতিগত সম্মতি থাকলেও বাস্তবায়নের ধরন, ক্ষেত্র ও গতিপথ নিয়ে স্পষ্ট মতভেদ রয়েছে রাজনৈতিক দল, আইনজীবী এবং আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে।
একদিকে বিচারসেবাকে জনগণের কাছে পৌঁছানোর স্বপ্ন, অন্যদিকে ইতিহাস থেকে নেওয়া সতর্কবার্তা—এই দুইয়ের ভারসাম্য বজায় রেখে সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে একই ভুলের পুনরাবৃত্তি হতে পারে।
বিচারসেবা জনগণের কাছাকাছি আনতে উপজেলা পর্যায়ে আদালত সম্প্রসারণের উদ্যোগ আবারও আলোচনায়। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে রাজনৈতিক দলগুলোর নীতিগত সম্মতি মিললেও ভৌগোলিক বাস্তবতা, আইনি বাধা এবং অতীত অভিজ্ঞতা এই পরিকল্পনার সামনে বড় প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। রয়েছে সাংবিধানিক বিতর্কও।
আজ সোমবার (৭ জুলাই ) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত সংলাপে এই প্রস্তাব উঠে আসে।
বর্তমানে যেসব উপজেলায় চৌকি আদালত পরিচালিত হচ্ছে, সেগুলোর কার্যকারিতা মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় হলে স্থায়ী আদালতে রূপান্তরেরও সুপারিশ এসেছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত
উপজেলা পর্যায়ে অধস্তন আদালত সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত এক হলেও কিছু বিষয়ে এখনো কিছু দল ভিন্নমত দিচ্ছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘জেলা সদরের খুব কাছাকাছি যেসব উপজেলা, সেখানে নতুন করে আদালত স্থাপনের কোনো যৌক্তিকতা নেই, প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় সমীক্ষার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।’
তবে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ ভিন্নমত পোষণ করে বলেন, ‘উপজেলা আদালত হলে দুর্নীতি বাড়বে—এটি ভুল ধারণা। বরং বিচারসেবা যত কাছে যাবে, হয়রানি তত কমবে। দুর্নীতি বন্ধ করতে হলে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।’
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন বলেন, ‘সংসদীয় আসনের ভিত্তিতে দ্রুত উপজেলা আদালত স্থাপন করতে হবে। জনগণ যাতে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়, সে লক্ষ্যেই আদালত বিস্তৃত করতে হবে।’
কয়েকটি দলের পক্ষ থেকে আদালত সম্প্রসারণের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের পরামর্শও আসে।
আইনজীবীদের প্রতিবাদ
ঢাকার বাইরে বিভাগীয় শহরে হাইকোর্ট বেঞ্চ স্থাপনের প্রস্তাব ঘিরে সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। আজ (৭ জুলাই) সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সাধারণ আইনজীবীদের ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ-সমাবেশে আইনজীবীরা বলেন, সংবিধান ও আপিল বিভাগের পূর্ববর্তী নির্দেশনা উপেক্ষা করে এই উদ্যোগ নেওয়া হলে তা হবে অবৈধ ও বিপজ্জনক।
আইনজীবিরা বলেন, ঢাকার বাইরে হাইকোর্ট বেঞ্চ স্থাপন করা হলে বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ লাঘব হবে না। বরং বিভ্রান্তি, জটিলতা ও ব্যয় আরও বেড়ে যাবে। এর ফলে একই আইনের ভিন্ন প্রয়োগ, ন্যায়বিচারে বৈষম্য ও সুনির্দিষ্ট রায়প্রাপ্তির পথে বিভ্রান্তি দেখা দিতে পারে।
এদিন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম প্রধান বিচারপতির কাছে একটি লিখিত আবেদনও জমা দেন। তিনি আবেদনপত্রে উল্লেখ করেন, সংবিধানের ১০০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের প্রধান আসন ঢাকায়। অন্য কোথাও সেশন বা বেঞ্চ বসানো গেলেও তার স্থায়ী রূপ দেওয়া হলে তা হবে সরাসরি সংবিধানবিরোধী।
সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, বিভাগীয় শহরে স্থায়ীভাবে হাইকোর্ট বেঞ্চ স্থাপন করতে গেলে সেখানে বিচারপতি, পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রচুর অর্থ, সময় ও কর্মীর প্রয়োজন হবে। এতে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় হবে। পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাব বিচারকার্যে হস্তক্ষেপ করতে পারে, যা আদালতের নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
সাইফুল ইসলাম সতর্ক করে আরও বলেন, যদি বিভাগীয় শহরগুলোতে বিচারপতিদের পাঠানো হয়, তবে ঢাকায় বিচারপতির সংকট তৈরি হবে । এর ফলে বিচারিক জট আরও তীব্র হবে, যা সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে দুর্ভোগ সৃষ্টি করবে।
প্রয়োজন সতর্কতা
১৯৮৩ সালে এরশাদের আমলে উপজেলা আদালত চালু করা হয়েছিল। তবে সেটি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিক এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘উপজেলা আদালতের দায়িত্ব ছিল উপজেলা চেয়ারম্যানদের হাতে, যাঁরা বিচারক নন। এতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা লঙ্ঘিত হয় এবং বিচার প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব পড়ে।’
শাহদীন মালিক আরও বলেন, ‘বিচার বিভাগ একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। এটিকে জনপ্রতিনিধিদের অধীনে নিয়ে যাওয়া মানে হচ্ছে সাংবিধানিক স্বাতন্ত্র্য ভাঙা। অতীতে সেই ভুলের ফলেই আদালতব্যবস্থা বাতিল করতে হয়েছিল।’
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে নীতিগত সম্মতি থাকলেও বাস্তবায়নের ধরন, ক্ষেত্র ও গতিপথ নিয়ে স্পষ্ট মতভেদ রয়েছে রাজনৈতিক দল, আইনজীবী এবং আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে।
একদিকে বিচারসেবাকে জনগণের কাছে পৌঁছানোর স্বপ্ন, অন্যদিকে ইতিহাস থেকে নেওয়া সতর্কবার্তা—এই দুইয়ের ভারসাম্য বজায় রেখে সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে একই ভুলের পুনরাবৃত্তি হতে পারে।

শপথ গ্রহণের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠন করায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ভেঙে গেছে।
১ ঘণ্টা আগে
সাবেক সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপসচিব মোহাম্মদ রফিকুল হকের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে
ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিস্রি বাংলাদেশের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের ফাঁকে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
১০ ঘণ্টা আগে
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ব্যস্ত দিন কাটাবেন তারেক রহমান। এ দিন তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুস্পস্তবক অর্পণ, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত, মন্ত্রিসভার বৈঠক ও সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।
১০ ঘণ্টা আগে