গাবতলীতে ৩০০ টাকার বাসভাড়া ১০০০, অসহায় যাত্রী
স্ট্রিম প্রতিবেদকঢাকা

রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালে পরিবহন কর্মীরা নিয়মের তোয়াক্কা করছে না। তারা যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে প্রায় তিন থেকে চারগুণ ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।
টার্মিনালের ঘরমুখী যাত্রীদের অভিযোগ, ঢাকা থেকে রাজশাহী রুটে চলাচলকারী ‘যমুনা লাইন’ বাসের নিয়মিত ভাড়া ৩০০ টাকা। ঈদের জন্য এখন জনপ্রতি ১ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। একই চিত্র নাটোরগামী ‘অনিক’ পরিবহনের।
অনিক পরিবহনের যাত্রী শিহাবুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা ৩০০ টাকা ভাড়ায় লোকাল বাসে নাটোরে যাই। এখন এক হাজার টাকার নিচে টিকিট দিচ্ছে না। লোকালেই যদি দূরপাল্লার সরাসরি বাসের চেয়ে বেশি ভাড়া দিতে হয়, সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়?’
অভিযোগের বিষয়ে যমুনা লাইনের কাউন্টার মাস্টার শাহীন অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কথা স্বীকার করে বলেন, যখন লোকাল হিসেবে চলে, ২০০-৩০০ টাকাতেই যাত্রী বহন করা হয়। এখন যা নেওয়া হচ্ছে, মালিকপক্ষের নির্দেশে। এই নির্দেশ অমান্য করার ক্ষমতা আমাদের নেই।
পাবনাগামী যাত্রী আমিন অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, ‘আগে দুই সিটেও এত টাকা লাগতো না। আমরা তো গরিব। এত টাকা দিয়ে কীভাবে বাড়ি যাব? দেখার যেন কেউ নেই।’ বগুড়াগামী যাত্রী কুলসুম বেগম বলেন, ‘লোকাল বাসে তো নিম্ন আয়ের মানুষ যাতায়াত করে। এখন যেভাবে গলা কাটছে বাসগুলো, বাড়ি যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রশাসনের উচিত এসব কাউন্টারে অভিযান চালানো।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গাবতলী বাস টার্মিনালের এক পরিবহন কর্মী জানান, সড়কে গাড়ির সংকট। ঈদে যাত্রীর অতিরিক্ত চাপ। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাসমালিক ও বুকিং সহকারীরা পকেট ভরছেন।
যাত্রীদের অভিযোগ, টার্মিনালে প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় পরিবহন সংশ্লিষ্টরা ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করছে। টার্মিনালে দায়িত্বরত র্যাব সদস্য মো. আহাদ জানান, তাদের কাছে ৩০০ টাকার ভাড়া ১ হাজার নেওয়ার অভিযোগ কেউ করেনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
.png)






