মে দিবসে উবার-পাঠাও চালকদের র্যালি, নীতিমালার দাবি
স্ট্রিম প্রতিবেদকঢাকা

মহান মে দিবস উপলক্ষে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার নিয়ে র্যালি করেছেন উবার-পাঠাও চালকেরা। আজ শুক্রবার (১ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ‘অ্যাপ-বেইজড ট্রান্সপোর্ট ইউনিয়ন’-এর ব্যানারে এই র্যালি শুরু করেন তাঁরা। এ সময় অ্যাপভিত্তিক উবার-পাঠাও চালকদের জন্য একটি সুস্পষ্ট নীতিমালার দাবি জানান তাঁরা।
র্যালি চলাকালে পল্টন মোড়ে অ্যাপ-বেইজড ট্রান্সপোর্ট ইউনিয়নের সভাপতি বেলাল আহমেদ বলেন, ‘আমাদের কাজকে রাইড শেয়ারিং বলা হয়। কিন্তু আমরা যা করি, তা আদৌ রাইড শেয়ারিং নয়। এটি একবিংশ শতাব্দীর একটি ডাহা মিথ্যা কথা। রাইড শেয়ারিং হবে সেটি, যেখানে আমি নিজের প্রয়োজনে কোথাও যাচ্ছি এবং পথে অন্য কাউকে আমার খালি আসনটি শেয়ার দিচ্ছি বা যাত্রা ভাগাভাগি করছি। রাইড শেয়ারিংয়ের নাম দিয়ে আমাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। মূলত আমরা সবাই শ্রমিক এবং আমরা আমাদের শ্রম, বাহন, জ্বালানিসহ সবকিছুই ব্যয় করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মোটরসাইকেলের জ্বালানির দাম বাড়ল, কিন্তু অ্যাপে আমাদের ভাড়া দিন দিন কমছে। গত পাঁচ বছরে আমাদের ভাড়া কমে অর্ধেকের নিচে চলে এসেছে। এর ফলে বাইকগুলো এখন অ্যাপের বাইরে চলে যাচ্ছে। প্রাইভেট কারের সংখ্যা ৮৫ হাজার থেকে ৫ হাজারে নেমে এসেছে। ফলশ্রুতিতে পিক আওয়ারে মানুষ এখন আর গাড়ি খুঁজে পায় না।’
দাবি জানিয়ে এই শ্রমিক নেতা বলেন, ‘আমরা আমাদের ন্যায্য পারিশ্রমিক চাচ্ছি। আমরা চাই একটি শোভন কর্মপরিবেশ। এখানে কোনো শোভন কর্মপরিবেশ নেই। একটি বাহন ১৪ ঘণ্টা রাস্তায় থাকে, কিন্তু চালক মলমূত্র ত্যাগের জায়গা পান না। একজন চালক সকালে নাশতা করবেন, সেই জায়গাটুকুও নেই। আবার শহরের দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা এখনো খানাখন্দে ভরা। সেই খানাখন্দের ভেতরে আমাদের গাড়িগুলো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আমরা এর জন্য একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা চাই, যা আমাদের শ্রমিক হিসেবে বিবেচনা করে আমাদের ন্যায্যতা নিশ্চিত করবে।’
র্যালির বিষয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, র্যালি উপলক্ষে সকাল ৮টা থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে গাড়ি ও মোটরসাইকেল নিয়ে জড়ো হতে শুরু করেন চালকেরা। পরে সকাল সাড়ে ১০টায় সেখান থেকে র্যালি শুরু করে প্রেসক্লাব হয়ে পল্টন মোড়ে আসেন তাঁরা। এখান থেকে হাইকোর্ট হয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে গিয়ে মে দিবসের এই র্যালি শেষ হবে।
বিষয়:
মে দিবস.png)






