বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণ, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কারাগারে
স্ট্রিম সংবাদদাতাহিলি (দিনাজপুর)

দিনাজপুরের হাকিমপুরে ধর্ষণের মামলায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শফিউল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। শনিবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় দিনাজপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুস্তানসির রহমান এ আদেশ দেন।
হাকিমপুর থানার ওসি জাকির হোসেন জানান, শুক্রবার সকালে নিজ কার্যালয়ে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে শফিউল ইসলামের বিরুদ্ধে। পরে বিকেলে ওই নারী হাকিমপুর থানায় মামলা করলে রাতে হিলি বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে শফিউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। সন্ধ্যায় তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
শফিউল ইসলাম রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার জারুল্যা গ্রামের আতিয়ার রহমানের ছেলে। বর্তমানে তিনি হাকিমপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে ভেটেরিনারি সার্জন হিসেবে কর্মরত।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, তাঁর স্বামী ওহেদুল ইসলাম অসুস্থ থাকায় চিকিৎসার সূত্রে অভিযুক্ত কর্মকর্তার সঙ্গে পরিচয় হয়। চিকিৎসার একপর্যায়ে হোয়াটসঅ্যাপ ও ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে তাদের মধ্যকার সম্পর্ক গভীর হয়।
এজাহারে বলা হয়, শফিউল ইসলাম বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন সময়ে নিজের সরকারি কোয়ার্টারে ডেকে নিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করেছেন। পরে তাঁকে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের জন্যও দেন। একপর্যায়ে গত বছরের ৫ অক্টোবর স্বামীকে তালাক দেন তিনি। এরপর অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে গত ১৮ জানুয়ারি ভুক্তভোগীকে গর্ভপাত করানোর জন্য চাপ দেন শফিউল। তালাক দিলে ওইদিনই শফিউল তাঁকে বিয়ে করেন। কিন্তু গত ১৬ ফেব্রুয়ারি পোস্ট অফিসের মাধ্যমে আসা নোটিশে জানতে পারেন– শফিউল ইসলাম ১০ ফেব্রুয়ারি তাঁকে তালাক দিয়েছেন।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার উদ্দেশে হিলি থেকে বিরামপুর যাওয়ার পথে হাকিমপুর পৌরসভার চারমাথা মোড়ে শফিউল ফোন করে নারীকে অফিসে আসতে বলেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস ও পশু হাসপাতাল এলাকায় গেলে তিনি অফিস কক্ষে নিয়ে পুনরায় বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
হাকিমপুর থানার ওসি জানান, ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ভুক্তভোগীকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাললে পাঠানো হয়েছে।
.png)






