নৌপরিবহন খাতে গত ১০ বছরে লোকসান প্রায় ৫৭ কোটি টাকা: মন্ত্রী শেখ রবিউল

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১: ১৬
নারায়ণগঞ্জ-ভোলা ফেরি সার্ভিসের উদ্বোধন করেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। স্ট্রিম ছবি
নারায়ণগঞ্জ-ভোলা ফেরি সার্ভিসের উদ্বোধন করেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। স্ট্রিম ছবি

নৌপরিবহন খাতে গত ১০ বছরে প্রায় ৫৭ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, বছরে গড়ে প্রায় ৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। এর অন্যতম কারণ যাত্রী সংকট।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর থেকে ভোলার ইলিশা নৌপথে ফেরি সার্ভিসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নৌপরিবহন মন্ত্রী এ তথ্য জানান। এর আগে কাঁচপুর ফেরিঘাটে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) ‘বেগম সুফিয়া কামাল’ ফেরি সার্ভিসের উদ্বোধন করেন মন্ত্রী।

নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, নৌপথকে যাত্রীবান্ধব ও দূষণমুক্ত করা গেলে এ খাতে মানুষের আগ্রহ বাড়বে। এজন্য নির্দিষ্ট সময়ে যাত্রা ও গন্তব্যে পৌঁছানোর নিশ্চয়তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ওয়াটার বাস থেকে নেমে যাত্রীদের স্থলপথে যাতায়াতের জন্য প্রয়োজনীয় রোড সার্ভিসসহ অন্যান্য সংযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করাও জরুরি।

মন্ত্রী শেখ রবিউল জানান, নৌপরিবহনে যাত্রীদের স্বচ্ছন্দ করতে ওয়াটার বাসসহ আধুনিক নৌযান চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি পর্যটন ও ওয়াটার বাস খাতে থাকা বেসরকারি উদ্যোক্তাদের প্রস্তাবও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

কাঁচপুর-ইলিশা ফেরি সার্ভিস প্রসঙ্গে সড়ক ও রেলপথ মন্ত্রী বলেন, ভোলার সঙ্গে ঢাকা ও দেশের মূল ভূখণ্ডের সরাসরি যোগাযোগ নিশ্চিত করতে স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রকল্প নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এর আগ পর্যন্ত ফেরি যোগাযোগকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ থাকবে।

বর্তমানে এই রুটে দুটি ফেরি চলছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিআরটিসির চেয়ারম্যানের সঙ্গেও ফেরির সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ফেরির সংখ্যা বাড়ানো এবং দ্রুত সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গত ২৭ আগস্ট থেকে কাঁচপুর-ইলিশা রুটে পরীক্ষামূলকভাবে সরাসরি ফেরি সার্ভিস চালু করা হয়। ফেরি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাঁচপুর-ইলিশা রুটে ফেরি বিরতিহীনভাবে চলাচল করবে। প্রতিটি ফেরির ধারণক্ষমতা প্রায় ২৮০ টন। প্রাথমিকভাবে নিয়মিত যাওয়া-আসা করবে ফেরিগুলো।

প্রতিদিন উভয় প্রান্ত থেকে একটি করে ফেরি ছেড়ে যাবে। কাঁচপুর থেকে ইলিশা যেতে এক ট্রিপে সময় লাগবে প্রায় ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা। তবে ফেরি চলাচলের নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বিআইডব্লিউটিসি বলছে, এতদিন ভোলা থেকে ঢাকা বা দেশের অন্যান্য অঞ্চলে যাতায়াতে যেখানে প্রায় ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা সময় লাগত, সরাসরি ফেরি সার্ভিসের মাধ্যমে তা কমে প্রায় ৭ থেকে ৮ ঘণ্টায় নেমে আসবে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত