জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

বগুড়ায় বোনকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদের জেরে ছাত্রদল নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
বগুড়া

প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫: ২৩
বগুড়ায় ছুরিকাঘাতে নিহত যুবক ফাহিম হোসেন। সংগৃহীত ছবি

বগুড়া সদরে ছোট বোনকে উত্ত্যক্তের (ইভটিজিং) প্রতিবাদ কেন্দ্র করে তৈরি পূর্ব বিরোধে ফাহিম হোসেন (১৯) নামে একজন ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন। শহরের মাটিডালী বিমানমোড় এলাকায় আজ শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে তাঁকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা পৌনে ১২টার দিকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান।

নিহত ফাহিম হোসেন বগুড়া সদরের নওদাপাড়া গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি কারখানায় কাজ করতেন। ২০২৫ সালে করা শহরের ১৭ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের একটি কমিটিতে সদস্য হিসেবে তার নাম আছে। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান এ তথ্য নিশ্ছিত করে ফাহিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

অভিযুক্ত যুবক তনয় সদরের মাটিডালী গ্রামের আব্দুল হান্নানের ছেলে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর থেকে তিনি গা-ঢাকা দিয়েছেন। ঘটনার পর তাঁর ও তাঁর বাবার সঙ্গে মোবাইল ফোনেও যোগাযোগের চেষ্টা করেও বন্ধ পাওয়া গেছে।

নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তনয় নামের এক যুবক ফাহিমের ছোট বোনকে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করছিলেন। এ নিয়ে একাধিকবার প্রতিবাদও করেছেন ফাহিম। দেড় বছর আগে ছোট বোনকে সেতু নামে একজনের সঙ্গে বিয়ে হয়। এ নিয়ে তিন মাস আগে সেতুকে ছুরিকাঘাত করেন তনয়। এই ঘটনায় থানায় অভিযোগ করে ফাহিমের পরিবার। বিষয়টি পরে মীমাংসা হয়েছে বলে জানান স্বজনরা।

এদিকে শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মাটিডালী এলাকায় যাওয়ার পথে বিমানমোড় এলাকায় ফাহিমের পথরোধ করে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান তনয়। আশপাশের লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় ফাহিমকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় টিএম এস এস হাসপাতালে নেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সেখান থেকে সদরের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা পৌনে ১২টার দিকে মারা যান ফাহিম।

ফাহিম নিহতের ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান তাঁর ভাই শাহীন। ভগ্নিপতি সেতু বলেন, ছোট বোনকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদের ঘটনার জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তাঁকেও মাস তিনেক আগে ছুরিকাঘাত করেন তনয়। বিয়ের আগেও ফাহিমের বোনকে বিরক্ত করতেন তিনি, বিয়ের পরেও তাঁকে বিরক্ত করতেন। তিনি হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করেন।

এর আগেও ভগ্নিপতিকে ছুরিকাঘাতের তথ্য জানিয়ে সাবেক পৌর কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন রাজু আজ ফাহিম নিহতের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অভিযুক্ত তনয়ের শাস্তি দাবি করেন।

বগুড়া সদর থানার ইন্সপেক্টর মাহফুজ আলম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে বোনকে উত্ত্যক্ত করার জেরেই হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে তনয়ের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁকে আটকের জন্য পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।’

Ad 300x250

সম্পর্কিত