বৃষ্টি উপেক্ষা করে কমলাপুরে ঘরমুখো মানুষের ঢল

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

সন্ধ্যার বৃষ্টি উপেক্ষা করে ভিজতে ভিজতেই ট্রেন ধরতে রেল স্টেশনে রওনা করেন অনেক যাত্রী। ছবি: ফোকাস বাংলা

রাজধানীর সন্ধ্যার বৃষ্টি উপেক্ষা করে ভিজতে ভিজতেই ট্রেন ধরছেন হাজারো ঘরমুখো যাত্রী। রোববার অফিস শেষ করে কমলাপুর রেলস্টেশনে মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সোমবার থেকে সাত দিনের সরকারি ছুটি শুরু হওয়ায় প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ উদ্‌যাপনে গ্রামের পথে ছুটছেন তাঁরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঈদযাত্রার চিরচেনা ভোগান্তির মাঝেও ঘরমুখো মানুষের মুখে ছিল স্বস্তির হাসি। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে দূর-দূরান্তের যাত্রীরা ট্রেনে বাড়ি ফিরছেন। যাত্রীদের কেউ যাচ্ছেন উত্তরাঞ্চলে, কেউ দক্ষিণ কিংবা চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে। অভিভাবকদের সঙ্গে থাকা শিশুদের মধ্যেও দেখা গেছে বাড়ি ফেরার আনন্দ।

কমলাপুর রেলস্টেশনে সন্ধ্যায় কথা হয় ময়মনসিংহগামী যাত্রী আব্দুর রহিমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘অফিস শেষ করেই রওনা দিয়েছি। পথে বৃষ্টিতে ভিজে গেছি। তবে ট্রেন ধরতে পেরেছি, এটাই আনন্দ। বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদ্‌যাপন করতে চাই।’

স্কুল ছুটি হওয়ায় আগেই পরিবারকে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন চট্টগ্রামের শহীদ উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আজ নিজে যাচ্ছি। বৃষ্টির মধ্যেও বাড়ি ফেরার আনন্দটা আলাদা। বাবা-মায়ের কাছে যাচ্ছি, এটা ভাবতেই ভালো লাগছে।’

দুই সন্তানকে নিয়ে শিমুল আখতার নামের এক নারী রাজশাহীতে যাবেন। তিনি বলেন, ‘বাড়িতে যাচ্ছি, এটা আনন্দের। বৃষ্টিতেও কিছুটা ভিজে গেছি। কিন্তু তাতে কিছু যায় আসে না। আগামীকাল যাত্রীদের ভিড় আরও বাড়তে পারে। তাই একদিন আগেই যাচ্ছি।’

তবে আগের বছরগুলোর মতো এবার ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে ওঠার প্রবণতা কম দেখা গেছে। বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকেও যাত্রীরা ঢাকায় ঈদ করতে আসছেন, সেই সংখ্যাটাও নেহাত কম নয়। বৃষ্টির মধ্যেও স্টেশনের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে দায়িত্বরত রেলওয়ে কর্মীদের ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা যায়। যাত্রীদের নিরাপদে ট্রেনে ওঠানামা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঈদ উপলক্ষে এবার ১০টি বিশেষ যাত্রীবাহী ট্রেন চালানো হবে। এই ট্রেনগুলোর মধ্যে ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ রুটে ‘তিস্তা স্পেশাল’ এবং চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটে ‘চাঁদপুর স্পেশাল’ চলবে। এই দুটি ট্রেন ২৫ মে থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত এবং ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকে পরবর্তী তিন দিন চলাচল করবে। এ ছাড়া ঈদের আগে ২৪ থেকে ২৬ মে পর্যন্ত তিন দিন এবং ঈদের পর আরও তিন দিন জয়দেবপুর-পার্বতীপুর রুটে ‘পার্বতীপুর স্পেশাল’ চলবে। অন্য চারটি বিশেষ ট্রেন শুধু ঈদের দিন চলবে। এসব ট্রেন ভৈরব ও ময়মনসিংহ থেকে শোলাকিয়ার ঈদগাহের উদ্দেশে যাত্রী পরিবহন করবে।

কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার কবীর উদ্দিন বলেন, ‘ঈদযাত্রা ঘিরে পুরো স্টেশন এলাকায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিনা টিকিটে ভ্রমণ ও ট্রেনের ছাদে যাত্রী ওঠা ঠেকাতে কঠোর নজরদারি করা হয়েছে। আশা করি, এবারও মানুষের রেলযাত্রা নিরাপদ ও আরামদায়ক হবে।’

এদিকে ঈদুল আজহা উপলক্ষে ট্রেনে ঘরমুখী যাত্রীর চাপ বেড়েছে। তবে বড় ধরনের সময়সূচি বিপর্যয়ের কোনো শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন সড়ক, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, পুরোনো রেললাইন ও লোকোমোটিভ দিয়েই সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে ঈদযাত্রার ট্রেন পরিচালনা করা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, ঈদে ট্রেনের যাত্রীর চাপ অনেক বেশি থাকে। ঢাকার বাইরে যেতে মানুষের কাছে ট্রেনযাত্রার আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। তবে যাত্রীচাহিদার তুলনায় ট্রেনের সংখ্যা ও সক্ষমতা এখনো পর্যাপ্ত নয়। তিনি জানান, সাধারণ সময়ে ঢাকা থেকে আন্তঃনগর ট্রেনে প্রতিদিন প্রায় ৩২ হাজার যাত্রী পরিবহন করা হয়। ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ টিকিট ছাড়ায় বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজার যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। তবে ঈদের সময়ে প্রতিদিন প্রায় এক লাখ যাত্রীর ট্রেনে ভ্রমণের চাহিদা থাকে।

সম্পর্কিত