রংপুরে চার খুনের প্রতিবাদে ঢাকায় মানববন্ধন, সুষ্ঠু তদন্তের দাবি

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ২১: ৪৪
রংপুরে চার খুনের প্রতিবাদে ঢাকায় মানববন্ধন ও শোক র‌্যালি। ছবি: সংগৃহীত
রংপুরে চার খুনের প্রতিবাদে ঢাকায় মানববন্ধন ও শোক র‌্যালি। ছবি: সংগৃহীত

রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্য হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের শাস্তির দাবিতে ঢাকায় মানববন্ধন ও শোক র‍্যালি হয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে রংপুর জিলা স্কুল এক্স-স্টুডেন্টস ক্লাবের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে স্কুলটির শতাধিক সাবেক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

সকাল ১১টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কে শোক র‍্যালি প্রদক্ষিণ করে পুলিশ বক্সের সামনে সমাবেশ হয়। সমাবেশে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে কৃষিবিদ আবদুল বারী, সাবেক অতিরিক্ত সচিব শওকত আলী, ড. আরেফিন অমল বাগচী ও রাকিকুজ্জামান বক্তব্য দেন।

এই হত্যাকাণ্ড রংপুরবাসীর মধ্যে ভীতি ও নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি করেছে বলে জানান বক্তারা। ঘটনার সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত হত্যাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, হত্যাকাণ্ডের তদন্তের নামে কোনো ধরনের তালবাহানা মেনে নেওয়া হবে না। রংপুরবাসী ন্যায়বিচারের দাবি আদায় করতে জানে। প্রয়োজনে এ দাবিতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

মানববন্ধনে বক্তারা হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে তারা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাদের মরদেহ বাড়ির বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে ময়নাতদন্তে উঠে এসেছে।

এ ঘটনায় মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় পরিচয় ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় ওই দুই তরুণ পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা করে। পরে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নিতে ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করে ডাকাতির নাটক সাজানোর চেষ্টা করে।

তবে পুলিশের এ বক্তব্য নিয়ে নিহত পরিবারের স্বজন ও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। এ অবস্থায় মামলাটির তদন্তভার কোতোয়ালি থানা থেকে রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়েছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত