leadT1ad

সেন্টমার্টিন ভ্রমণে ১৯ ঘণ্টার ধকল, মাঝরাতে ফিরল পর্যটকবাহী জাহাজ

প্রকাশ : ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৪: ৩৪
শহরের নুনিয়ারছড়া ঘাটে ফিরে আসা পর্যটকদের চোখে-মুখে ছিল ক্লান্তির ছাপ। স্ট্রিম ছবি

সেন্টমার্টিন থেকে রাত ৮টায় যাত্রা করে প্রায় ৮ ঘণ্টা পর অবশেষে কক্সবাজার ফিরে এসেছে পর্যটকবাহী ৫টি জাহাজ। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) ভোররাত ৩টার দিকে শহরের নুনিয়ারছড়া ঘাটে ফিরে আসা পর্যটকদের চোখে-মুখে ছিল ক্লান্তির ছাপ। নির্ধারিত সময়ে ফিরতে না পারায় বিঘ্নিত হয়েছে অনেকের সড়কযাত্রা, পোহাতে হয়েছে চরম ভোগান্তি।

এর আগে রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) সকাল ৭টার দিকে ১ হাজার ৯০৫ জন যাত্রী নিয়ে জাহাজগুলো যাত্রা শুরু করে। সন্ধ্যা ৬টার দিকে সেগুলো সেন্টমার্টিন ঘাটে পৌঁছায় এবং মাত্র দেড় ঘণ্টা অবস্থানের পর আবারও কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক মুবিনুল আমিন জানান, ‘আমরা চার বন্ধু মিলে গতকাল (শনিবার) কর্ণফুলী এক্সপ্রেস জাহাজে সেন্টমার্টিন যাই। একই জাহাজে আমাদের ফেরার কথা ছিল আজ রাত ১০টার দিকে। সেই হিসেবে রাতের বাসের টিকিট কেটেছিলাম। কিন্তু জাহাজ দেরি করায় এখন সেটা মিস হয়েছে। কালকের অফিশিয়াল প্ল্যানগুলো নষ্ট হলো। এমন অবস্থা আসলে কষ্টদায়ক, কিছু করার নেই।’

ব্যবসায়িক কাজে কক্সবাজারে আসা সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা কেফায়েত খান জানান, ‘এশার ওয়াক্তের পর রওনা দিয়ে ৮ ঘণ্টা পর কক্সবাজার পৌঁছেছি, আরেকটু পরেই ফজর হবে। তীব্র শীতের মধ্যে সাগরে এত লম্বা জার্নি কষ্টের। টেকনাফ বা ইনানী থেকে জাহাজ গেলে সময় বাঁচত।’

পর্যটন ব্যবসায় প্রভাব
পর্যটকদের যাত্রা বিলম্বিত হওয়ার কারণে বিপাকে পড়েছেন সেন্টমার্টিনের পর্যটন ব্যবসায় সংশ্লিষ্টরাও। মোহাম্মদ নুর নামের এক হোটেল ব্যবসায়ী জানান, ‘আগে যেখানে মাত্র ৩ ঘণ্টা লাগত, এখন ১০-১২ ঘণ্টা লাগছে পর্যটক আসতে। এমনিতেও অনেক বিধিনিষেধ, তার ওপর জাহাজে যাওয়া-আসায় দেরি। জানি না ভবিষ্যতে কী অপেক্ষা করছে দ্বীপবাসীদের জন্য। এভাবে চলতে থাকলে এখানকার পর্যটন ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে।’

জাহাজ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাঁকখালী নদীতে নাব্য সংকট ও তীব্র কুয়াশার কারণে সকালে যাত্রা শুরুর মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যেই মোহনার কাছে আটকে পড়ে জাহাজগুলো। নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন থেকে চার ঘণ্টা পর ছাড়া পাওয়ায় এই বিলম্ব হয়েছে।

জাহাজ মালিকদের সংগঠন ‘স্কোয়াব’-এর সাধারণ সম্পাদক হোসাইন বাহাদুর ইসলাম জানান, ‘প্রকৃতির ওপর কারও হাত নেই। কুয়াশায় জাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ, আর ভাটায় চরে আটকে গেলে জাহাজ ছাড়তে বিলম্ব হয়। এই মৌসুমে মাত্র দুই মাস (৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত) জাহাজ চলবে। এই সময়কালে রাত্রিযাপনের সুযোগ থাকায় পর্যটকরা ভ্রমণ করছেন। কিন্তু কিছু বিধিনিষেধ ও দীর্ঘযাত্রাসহ অনেক কারণে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এগুলো নিরসনে সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের পর্যটন শিল্পের স্বার্থে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।’

নিরাপত্তা অন্যান্য প্রসঙ্গ
এদিকে, গত ২৭ ডিসেম্বর সকালে সেন্টমার্টিন যাত্রার আগেই ‘দি আটলান্টিক’ জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এক কর্মচারী মারা যান। সৌভাগ্যক্রমে রক্ষা পান ১৯৪ জন পর্যটক।

একই দিনে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানায় জেলা প্রশাসন। এর মধ্যে রয়েছে—অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও ফিটনেস ঠিক আছে কি না, তা ফের যাচাই করা। এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ জাহাজগুলোই কেবল সেন্টমার্টিন রুটে চলাচলের সুযোগ পাবে।

১ ডিসেম্বর চলাচল শুরুর পর ট্রাভেল পাস সংগ্রহ করে গত ২৮ দিনে প্রায় ৪৯ হাজার পর্যটক (প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার) সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত