কুড়িগ্রামে সার সংকট, কৃষকদের ক্ষোভ-অবরোধ
স্ট্রিম সংবাদদাতাকুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রামে সার সংকটে আমন চাষে বিপাকে পড়া কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। সংকট ও বিতরণে অনিয়মের প্রতিবাদে জেলার বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে।
জেলার ফুলবাড়ী, নাগেশ্বরী, ভূরুঙ্গামারী ও রৌমারী উপজেলার বিভিন্ন ডিলারের পয়েন্টে প্রয়োজনীয় সার না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকেরা। ডিলার পয়েন্টগুলোতে কৃষকের ভিড় ও বিশৃঙ্খলা সামলাতে পুলিশ ও প্রশাসনের সদস্যদের হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে।
প্রশাসনের দাবি, জেলায় সারের প্রকৃত সংকট নেই। তবে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের অভিযোগ, বিভিন্ন ডিলার পয়েন্টে ঘুরেও সার পাওয়া যাচ্ছে না।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে ভূরুঙ্গামারীর বঙ্গ সোনাহাট ইউনিয়নের ব্রিজের পাড় এলাকায় সারের স্লিপ বিতরণ নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। গনাইরকুটি গ্রামে বিএডিসি ডিলার মেসার্স আফি সার ঘরের আওতায় ২৩৫ বস্তা ডিএপি ও ৯৫ বস্তা টিএসপি সার বিতরণের সময় বিশৃঙ্খলা হয়। প্রতিবাদে বাঁশ ফেলে ও রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে ভূরুঙ্গামারী-সোনাহাট স্থলবন্দর সড়ক অবরোধ করেন কৃষকেরা। পরে ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি মো. আজিম উদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে দ্রুত সার সরবরাহের আশ্বাস দিলে কৃষকেরা অবরোধ তুলে নেন। এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেব নাথ ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল হক তারেক ঘটনাস্থলে গিয়ে নিয়ম মেনে সার বিতরণের প্রতিশ্রুতি দেন।

এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর ভূরুঙ্গামারীর বলদিয়া ইউনিয়নের মিলনবাজারে এবং ২ সেপ্টেম্বর সোনাহাট স্থলবন্দর সড়কেও সার না পেয়ে সড়ক অবরোধ করেন কৃষকেরা। গত ৬ সেপ্টেম্বর নাগেশ্বরীর কচাকাটা বাজারে ‘কাশেম ট্রেডার্স’ নামের ডিলার পয়েন্টে সার বিতরণে বিলম্ব হওয়ায় হট্টগোল ও গুদামের টিনের বেড়া ভাঙচুর করা হয়।
গত ২৩ আগস্ট শিলখুড়ি ইউনিয়নের ‘মেসার্স শাহ আমানত ট্রেডার্স’ ডিলার পয়েন্টে সার না পেয়ে ক্ষুব্ধ কৃষকেরা গুদামের তালা ভেঙে প্রায় ১৯৭ বস্তা ইউরিয়া সার নিয়ে যান।
এই ঘটনায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল হক তারেককে প্রধান এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল জব্বারকে সদস্যসচিব করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে ডিলারের গুদামে সময়মতো সার না দেওয়া এবং ক্যাশমেমোতে অসংগতি পাওয়ায় ওই ডিলারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
অন্যদিকে সারের অবৈধ মজুত ও কালোবাজারি রোধে ভূরুঙ্গামারী ও ফুলবাড়ীতে একাধিক অভিযান চালিয়েছে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন। গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে চরভূরুঙ্গামারীর ইসলামপুর এলাকায় মো. বেলাল মিয়া ও মো. মানিক উদ্দিনের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। গোয়ালঘর, খড়ের মাচা ও ধানের গোলা থেকে ৪২ বস্তায় ১ হাজার ৫০০ কেজি ইউরিয়া ও ৬৫০ কেজি ডিএপি সার উদ্ধারসহ দুইজনকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
গত ১ সেপ্টেম্বর রাতে পাইকেরছড়ার ‘মেসার্স খোকন ব্রিকস’ থেকে ২৩ বস্তা এবং ‘মেসার্স রফিক ট্রেডার্স’ থেকে ৯ বস্তা এমওপি সার উদ্ধার করে প্রশাসন।এই ঘটনায় প্রতিষ্ঠান দুটির মালিক শফিকুল ইসলাম খোকনকে ৪ লাখ এবং রফিকুল ইসলামকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ ছাড়া গত রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ফুলবাড়ীর বালারহাট বাজারে ‘মেসার্স সৈকত ট্রেডার্স’ থেকে বেআইনিভাবে ২০ বস্তা সার নিয়ে যাওয়ার সময় আজিমুল ইসলামকে আটক করে পুলিশ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেব নাথ জানান, জব্দ সার সরকারি মূল্যে কৃষকদের কাছে বিক্রির ব্যবস্থা হচ্ছে এবং সার মজুত বা কৃত্রিম সংকট তৈরিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম সার জব্দ ও আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সহকারী পুলিশ সুপার (ভূরুঙ্গামারী সার্কেল) মুনতাসির মামুন মুন বলেন, ‘কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে কেউ যাতে অবৈধ সুবিধা নিতে না পারে, সে জন্য পুলিশ ও প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
.png)






