স্ট্রিম প্রতিবেদক

নির্বাহী বিভাগ থেকে স্বাধীন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিচারকদের দায়বদ্ধতা বেড়ে গেল বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিচারকরা এখন শুধু আইন, সংবিধান ও নিজের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ। কোনো রাজনীতিক, আমলা বা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তারা দায়বদ্ধ নন।
সোমবার (১ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, প্রশাসনিক শৃঙ্খল মুক্তির অর্থ হলো বিচারকদের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা বেড়ে যাওয়া। স্বাধীনতা মানে যা ইচ্ছা করা নয়; যা করা উচিত তা করার স্বাধীনতাই প্রকৃত স্বাধীনতা।
গতকাল রোববার (৩০ নভেম্বর) বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য একটি পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিধান রেখে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ-২০২৫’ জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির নির্দেশে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ জারি করে।
অধ্যাদেশকে জাতির বিচারিক ইতিহাসে সোনালি সংযোজন আখ্যা দিয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, সুপ্রিম কোর্টকে কেন্দ্র করে একটি সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, যার আওতায় পুরো বিচারব্যবস্থা একীভূত হবে। অন্তর্বর্তী সরকার শেষ পর্যন্ত কাজটি করেছে। আমরা মনে করি, এটি জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং দেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে একটা সোনালী সংযোজন।
তিনি বলেন, অধ্যাদেশ জারি হলেও কিছু আনুষঙ্গিক কাজ এখনো বাকি। অধ্যাদেশের সেকশন ১–এ বলা হয়েছে, সেকশন ৭–এর বিধানাবলী আলাদা একটি গেজেটের মাধ্যমে প্রকাশ করতে হবে। এটি কেবল সময়ের ব্যাপার। আশা করছি, শিগগির সে প্রক্রিয়াও শেষ হবে।
বিগত বছরগুলোতে উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগ ও তাদের আচরণের ক্ষেত্রে দলীয় আনুগত্যের নগ্ন প্রদর্শনী দেখা গেছে, যা বিচার বিভাগের ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলেছিল। অনেক বিচারক প্রকাশ্যে নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় দিতে কুণ্ঠাবোধ করতেন না। নতুন কাঠামোতে এমন দলীয়করণের সুযোগ থাকবে না জানিয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘যারা দলীয় তোষণে মেতে উঠেছিলেন এবং নিজেদের শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদ পরিচয় দিতে কুণ্ঠাবোধ করেননি, নতুন বাংলাদেশে তাদের কোনো স্থান হবে না।’
অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ এখন সুপ্রিম কোর্টের হাতে এবং উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের হাতে ন্যস্ত হয়েছে। ফলে বিচার বিভাগ স্বাধীন হলেও নিয়ন্ত্রণহীন হওয়ার সুযোগ নেই বলে মনে করেন তাজুল ইসলাম। তবে বিচারিক স্বৈরশাসনের শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্সের ব্যবস্থা সংবিধানেই রাখা আছে। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল উচ্চ আদালতের বিচারকদের দেখবে; অধস্তন আদালতের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট নিজেই তদারকি করবে। তাই বিচারিক স্বৈরশাসনের কোনো সুযোগ নেই।’
নতুন অধ্যাদেশে বিচারক নিয়োগ বা প্রশাসনিক বিভিন্ন কমিটিতে আইন মন্ত্রণালয় ও অ্যাটর্নি জেনারেলের উপস্থিতি রাখা হয়েছে। অনেক আইনজীবী একে স্বাধীনতার পথে বাধা মনে করলেও, রাষ্ট্রযন্ত্রের আন্তঃসম্পর্কের বাস্তবতায় এটিকে যৌক্তিক মনে করছেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, রাষ্ট্রযন্ত্র একটি সমন্বিত কাঠামো। সুপ্রিম কোর্ট কোনো বিচ্ছিন্ন দ্বীপ নয়। প্রশাসনিক সমন্বয়ের জন্য সরকারের অন্যান্য অঙ্গের সঙ্গে কাজ করতেই হয়। এটি বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় কোনো হস্তক্ষেপ সৃষ্টি করবে না।
তাজুল ইসলাম স্বীকার করেন, যেকোনো ভালো আইন বা কাঠামোর সুফল শেষ পর্যন্ত নির্ভর করে তা প্রয়োগকারীদের মানসিকতার ওপর। নোট শিটের সংস্কৃতি বন্ধ হলেও রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব থাকলে স্বাধীনতার সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে না। ভেতরের মানুষটা বিবেক দ্বারা তাড়িত না হলে আইন যতই উন্নত হোক, সুফল আসবে না।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ যে নতুন ধরনের রাষ্ট্র সংস্কারের পথে এগোচ্ছে, তাতে আমরা আশাবাদী, রাজনীতিবিদরাও আগের ভুল থেকে সরে এসে নতুন ভাবনায় রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন।

নির্বাহী বিভাগ থেকে স্বাধীন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিচারকদের দায়বদ্ধতা বেড়ে গেল বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিচারকরা এখন শুধু আইন, সংবিধান ও নিজের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ। কোনো রাজনীতিক, আমলা বা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তারা দায়বদ্ধ নন।
সোমবার (১ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, প্রশাসনিক শৃঙ্খল মুক্তির অর্থ হলো বিচারকদের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা বেড়ে যাওয়া। স্বাধীনতা মানে যা ইচ্ছা করা নয়; যা করা উচিত তা করার স্বাধীনতাই প্রকৃত স্বাধীনতা।
গতকাল রোববার (৩০ নভেম্বর) বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য একটি পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিধান রেখে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ-২০২৫’ জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির নির্দেশে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ জারি করে।
অধ্যাদেশকে জাতির বিচারিক ইতিহাসে সোনালি সংযোজন আখ্যা দিয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, সুপ্রিম কোর্টকে কেন্দ্র করে একটি সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, যার আওতায় পুরো বিচারব্যবস্থা একীভূত হবে। অন্তর্বর্তী সরকার শেষ পর্যন্ত কাজটি করেছে। আমরা মনে করি, এটি জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং দেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে একটা সোনালী সংযোজন।
তিনি বলেন, অধ্যাদেশ জারি হলেও কিছু আনুষঙ্গিক কাজ এখনো বাকি। অধ্যাদেশের সেকশন ১–এ বলা হয়েছে, সেকশন ৭–এর বিধানাবলী আলাদা একটি গেজেটের মাধ্যমে প্রকাশ করতে হবে। এটি কেবল সময়ের ব্যাপার। আশা করছি, শিগগির সে প্রক্রিয়াও শেষ হবে।
বিগত বছরগুলোতে উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগ ও তাদের আচরণের ক্ষেত্রে দলীয় আনুগত্যের নগ্ন প্রদর্শনী দেখা গেছে, যা বিচার বিভাগের ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলেছিল। অনেক বিচারক প্রকাশ্যে নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় দিতে কুণ্ঠাবোধ করতেন না। নতুন কাঠামোতে এমন দলীয়করণের সুযোগ থাকবে না জানিয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘যারা দলীয় তোষণে মেতে উঠেছিলেন এবং নিজেদের শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদ পরিচয় দিতে কুণ্ঠাবোধ করেননি, নতুন বাংলাদেশে তাদের কোনো স্থান হবে না।’
অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ এখন সুপ্রিম কোর্টের হাতে এবং উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের হাতে ন্যস্ত হয়েছে। ফলে বিচার বিভাগ স্বাধীন হলেও নিয়ন্ত্রণহীন হওয়ার সুযোগ নেই বলে মনে করেন তাজুল ইসলাম। তবে বিচারিক স্বৈরশাসনের শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্সের ব্যবস্থা সংবিধানেই রাখা আছে। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল উচ্চ আদালতের বিচারকদের দেখবে; অধস্তন আদালতের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট নিজেই তদারকি করবে। তাই বিচারিক স্বৈরশাসনের কোনো সুযোগ নেই।’
নতুন অধ্যাদেশে বিচারক নিয়োগ বা প্রশাসনিক বিভিন্ন কমিটিতে আইন মন্ত্রণালয় ও অ্যাটর্নি জেনারেলের উপস্থিতি রাখা হয়েছে। অনেক আইনজীবী একে স্বাধীনতার পথে বাধা মনে করলেও, রাষ্ট্রযন্ত্রের আন্তঃসম্পর্কের বাস্তবতায় এটিকে যৌক্তিক মনে করছেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, রাষ্ট্রযন্ত্র একটি সমন্বিত কাঠামো। সুপ্রিম কোর্ট কোনো বিচ্ছিন্ন দ্বীপ নয়। প্রশাসনিক সমন্বয়ের জন্য সরকারের অন্যান্য অঙ্গের সঙ্গে কাজ করতেই হয়। এটি বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় কোনো হস্তক্ষেপ সৃষ্টি করবে না।
তাজুল ইসলাম স্বীকার করেন, যেকোনো ভালো আইন বা কাঠামোর সুফল শেষ পর্যন্ত নির্ভর করে তা প্রয়োগকারীদের মানসিকতার ওপর। নোট শিটের সংস্কৃতি বন্ধ হলেও রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব থাকলে স্বাধীনতার সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে না। ভেতরের মানুষটা বিবেক দ্বারা তাড়িত না হলে আইন যতই উন্নত হোক, সুফল আসবে না।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ যে নতুন ধরনের রাষ্ট্র সংস্কারের পথে এগোচ্ছে, তাতে আমরা আশাবাদী, রাজনীতিবিদরাও আগের ভুল থেকে সরে এসে নতুন ভাবনায় রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন।
.png)

চীনের দালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) প্ল্যানারি সেশনে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার চীনের স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে 'বিস্তৃত পরিসরে উদ্ভাবন' শীর্ষক এই সেশন শুরু হয়।
২৩ মিনিট আগে
শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় নাভানা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাজেদুল ইসলাম শুভ্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৪ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর বনানীর একটি বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা থেকে সকালেই তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
২৮ মিনিট আগে
নওগাঁর সাপাহার সীমান্ত দিয়ে এবার নারী-শিশুসহ ৯ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা (পুশইন) করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বাধায় তারা ঢুকতে পারেনি। বিএসএফও না নেওয়ায় দলটি সীমান্তে শূন্যরেখায় অবস্থান করছে।
২ ঘণ্টা আগে
বর্তমানে নওগাঁর বাজারে স্বর্ণা-৫ ধান বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ১ হাজার ২০০ টাকা দামে। তুলসিরামপুর গ্রামের কৃষক হামিদুর রহমান বলেন, ‘২২ মণ ধান বিক্রি করে পেয়েছি ২৬ হাজার ৬২০ টাকা। কিন্তু বিঘাপ্রতি উৎপাদন খরচ পড়েছে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা। এত অল্প লাভে কিভাবে সংসার চালাবো, কিভাবে ফের আবাদ করবো?'
২ ঘণ্টা আগে