রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক বিক্রির কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। রোববার (১২ জুলাই) সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সানজিদা ইয়াসমিনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি।
তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী জানান, টেলিটকের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও সেবার মান বাড়াতে অর্থায়নের চেষ্টা চলছে। প্রতিষ্ঠানকে উন্নত করতে দেশজুড়ে আরও টাওয়ার স্থাপন প্রয়োজন, যার জন্য সরকারি অর্থায়ন দরকার। এ ছাড়া বিদেশি বিভিন্ন উৎস থেকেও প্রয়োজনীয় অর্থায়ন আনার চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার।
তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে টেলিটক, গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংক—এই চার মোবাইল অপারেটর তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘টেলিটক বাজারে না থাকলে বেসরকারি অপারেটরগুলো ইচ্ছেমতো সেবার মূল্য বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই টেলিটককে সরকারি নিয়ন্ত্রণে বাজারে রাখতেই হবে।’
অব্যবহৃত ডেটা ও কলড্রপ নিয়ে উদ্বেগ
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠানের (পাপন) প্রশ্নের জবাবে তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী জানান, সাত বা ১৫ দিনের ইন্টারনেট প্যাকেজের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অব্যবহৃত ডেটা এবং ব্যালেন্স বাতিল হওয়ার বিষয়টি সরকারও গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
নাদিয়া পাঠান তাঁর প্রশ্নে বলেন, ব্যাংকে জমা রাখা টাকা থেকে নির্ধারিত চার্জ কাটা হলেও গ্রাহকেরা যেকোনো সময় বাকি অর্থ তুলতে পারেন। কিন্তু মোবাইল অপারেটরদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে অব্যবহৃত ডেটা বা রিচার্জের টাকা গ্রাহকেরা আর ব্যবহার করতে পারেন না। এ অবস্থায় গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের পদক্ষেপ জানতে চান তিনি।
বিষয়টিকে বাস্তব সমস্যা স্বীকার করে মন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) মাধ্যমে মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে একাধিক আলোচনা হয়েছে। তবে অপারেটররা তাদের ব্যবসায়িক নীতির কথা বলে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরছে।
কলড্রপের বিষয়েও অপারেটরদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, গ্রাহকদের স্বার্থ সুরক্ষায় সরকার তাদের ওপর চাপ অব্যাহত রাখবে।
.png)






