রোহিঙ্গা সংকটের ৯ বছর/থামেনি বাংলাদেশে আসা, সহায়তা কমে বেড়েছে চাপ
স্ট্রিম ডেস্ক

মিয়ানমারের রাখাইনে সামরিক দমন-পীড়নের মুখে জীবন বাঁচাতে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ঢল নামার ৯ বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে কয়েক দিনে সাড়ে ৭ লাখের বেশি মুসলিম এই জনগোষ্ঠীর সদস্যরা বাংলাদেশে আশ্রয় নেন।
দুই দেশের দীর্ঘ আলোচনাতেও প্রত্যাবাসন শুরু হয়নি। উল্টো বিভিন্ন সময়ে নির্যাতনের মুখে নাফ নদী পার হয়ে বাংলাদেশে এসেছে রোহিঙ্গারা। ফলে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা এখন ১২ লাখ ছাড়িয়েছে।
বাংলাদেশ সরকার ও ইউএনএইচসিআরের সর্বশেষ যৌথ হিসাব অনুযায়ী, গত ৩০ জুন পর্যন্ত দেশে নিবন্ধিত ও শনাক্ত রোহিঙ্গা ১২ লাখ ১৭১ জন। এর মধ্যে কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে ১১ লাখ ৬৬ হাজার ৩৫২ এবং নোয়াখালীর ভাসানচরে ৩৩ হাজার ৮১৯ জন বসবাস করছেন।
৯ বছর আগে যে সংকট শুরু হয়েছিল, তা এখনো বাংলাদেশের জন্য বিশাল মানবিক ও অবকাঠামোগত চাপ হয়ে আছে। কক্সবাজারের ক্যাম্পগুলোতে ঘনবসতি, সীমিত জায়গা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, পুষ্টি ও নিরাপদ পানির মতো মৌলিক সেবার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই সংকটের প্রভাব স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর পড়েছে। সঙ্গে নতুন সংকট যুক্ত হয়েছে দাতাদের সহায়তায় কাটছাট।
২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে অভিযান শুরু করে দেশটির সামরিক বাহিনী। ওই অভিযানে ব্যাপক সহিংসতার পর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আসেন সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা। জাতিসংঘের হিসাবে, ওই সময় সাড়ে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আসেন।
সে সময়ের পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ। রাখাইনের বিভিন্ন গ্রামে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতার মুখে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ রোহিঙ্গারা প্রাণ বাঁচাতে সীমান্তের দিকে ছুটতে থাকেন। অনেকে দিনের পর দিন হেঁটে, নৌকায় কিংবা দুর্গম পথ পেরিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছান। এদের অনেকেই সঙ্গে করে কিছুই আনতে পারেননি।
সে সময় বড় ধরনের মানবিক সংকট ঠেকাতে বাংলাদেশ দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। উখিয়া ও টেকনাফে নতুন শিবির স্থাপন করা হয়। খাবার, পানি, আশ্রয়, চিকিৎসা, স্যানিটেশন ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে সরকার, স্থানীয় মানুষ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো একসঙ্গে কাজ শুরু করে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীও ত্রাণ এবং ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হয়।
এরপর ধীরে ধীরে কক্সবাজারে গড়ে ওঠে বিশ্বের অন্যতম বড় শরণার্থী বসতি। বর্তমানে কক্সবাজারের ৩৩টি ঘনবসতিপূর্ণ শিবিরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বসবাস করছেন। পাশাপাশি সরকারের ব্যবস্থাপনায় ভাসানচরে বিশাল পরিসরে রোহিঙ্গাদের বসবাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সম্প্রতি এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অর্থায়নের সংকট। চলতি বছর রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জরুরি প্রয়োজন মেটাতে জাতিসংঘ ও অংশীদার সংস্থাগুলো ৭১ কোটি ৫ লাখ ডলারের সহায়তা চেয়েছে। জাতিসংঘ বলছে, প্রায় এক দশক ধরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার কারণে প্রয়োজন বাড়ছে। অথচ আন্তর্জাতিক সহায়তা দিন দিন কমে আসছে।
৯ বছর পর এসে রোহিঙ্গা সংকট আর শুধু শরণার্থী সংকট নয়; এটি কক্সবাজারের জনসংখ্যা, পরিবেশ, স্থানীয় অবকাঠামো ও সরকারি সেবার ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি করা একটি বড় মানবিক সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
.png)




-78ae87-256x144.webp)

