জঙ্গল সলিমপুরের চারপাশ ঘিরে ফেলেছে যৌথবাহিনী, ৪ হাজার সদস্য নিয়ে অভিযান

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০২৬, ১১: ৫৫
জঙ্গল সলিমপুর এলাকা। সংগৃহীত ছবি
জঙ্গল সলিমপুর এলাকা। সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপ দমন ও অপরাধীদের ধরতে যৌথ বাহিনীর বড় ধরনের অভিযান শুরু হয়েছে। সোমবার (৯ মার্চ) সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে পুলিশ ও র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৪ হাজার সদস্য অংশ নিচ্ছেন।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) মো. রাসেল জানান, যৌথ বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে অভিযান পরিচালনা করছেন। তিনি বলেন, প্রায় ৪ হাজার সদস্য এই অভিযানে অংশ নিয়েছেন।

সকাল থেকে জঙ্গল সলিমপুর এলাকার চারপাশ ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রবেশ ও বের হওয়ার বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশিচৌকি বসানো হয়েছে, যাতে অভিযান শুরুর পর কেউ এলাকা থেকে পালিয়ে যেতে না পারে। অতীতে অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতা থাকায় এবারের অভিযানে কৌশলগতভাবে এগোচ্ছে বাহিনী।

পুলিশ জানায়, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ভেঙে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই এই সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযান শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

গত ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চালাতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত হন র‍্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক (নায়েব সুবেদার) মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া। ওই ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানায় একটি মামলা দায়ের করে র‍্যাব। মামলায় মোহাম্মদ ইয়াসিনকে প্রধান আসামি করে নুরুল হক ভান্ডারীসহ ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয় আরও প্রায় ২০০ জনকে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামি ধরতে গেলে ইয়াসিনের নির্দেশে রামদা, কিরিচ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় আটক এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং চার র‍্যাব সদস্যকে অপহরণ করা হয়। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় তাঁদের উদ্ধার করা হয়।

চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকা থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার পশ্চিমে লিংক রোডের উত্তর পাশে প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর এলাকায় জঙ্গল সলিমপুরের অবস্থান। প্রশাসনিকভাবে এটি সীতাকুণ্ড উপজেলার অংশ হলেও নগরের খুব কাছেই এই দুর্গম পাহাড়ি এলাকা। পূর্বে হাটহাজারী উপজেলা এবং দক্ষিণে বায়েজিদ বোস্তামী থানা এর সীমানা ঘেঁষে রয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে সরকারি পাহাড় কেটে এখানে গড়ে উঠেছে কয়েক হাজার অবৈধ বসতি। পাহাড় কেটে প্লট বাণিজ্য এবং দখলকে কেন্দ্র করে এলাকায় সশস্ত্র সন্ত্রাসী চক্র গড়ে উঠেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। এসব চক্রের সদস্যরা প্রায়ই পাহাড়ি এলাকাজুড়ে সশস্ত্র পাহারা দিয়ে থাকে।

পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এলাকাটিতে দুটি প্রভাবশালী সন্ত্রাসী পক্ষ সক্রিয় রয়েছে। একটি পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন মোহাম্মদ ইয়াসিন, অপর পক্ষের নেতৃত্বে রোকন উদ্দিন।

ইয়াসিন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সীতাকুণ্ডের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা এস এম আল মামুনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি নিজেকে বিএনপি নেতা এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য আসলাম চৌধুরীর অনুসারী বলে দাবি করছেন।

তবে র‍্যাব কর্মকর্তা নিহত হওয়ার ঘটনার পর দেওয়া এক বিবৃতিতে আসলাম চৌধুরী দাবি করেন, জঙ্গল সলিমপুরে তাঁর কোনো অনুসারী নেই এবং ওই ঘটনার সঙ্গে বিএনপির কেউ জড়িত নয়।

এর আগে গত বছরের অক্টোবরে জঙ্গল সলিমপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হন। পরদিন সেখানে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন দুই সাংবাদিক।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত