
ভারত সরকারকে ‘হাসিনা কার্ড’ না খেলার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, দণ্ডিত পলাতক আসামি শেখ হাসিনাকে নিজ ভূখণ্ডে বসে রাজনৈতিক অপতৎপরতার সুযোগ দেওয়া হবে; আবার বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাওয়া হবে— ভারতের এই অবস্থান বিপরীতমুখী।
শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী সাদা দল ও ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব) যৌথভাবে আলোচনা সভার আয়োজক।
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, ভারত সরকার বিষয়টি অনুধাবন করবে এবং 'হাসিনা কার্ড' খেলা বন্ধ করবে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক হবে পারস্পরিক মর্যাদা, সম্মান ও সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার রাজনীতির মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়। আর দাফন হয়েছে দিল্লিতে। চেতনা বিক্রির রাজনীতি দিয়ে মানুষকে আর বিভ্রান্ত করা যাবে না।
রাষ্ট্রকাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কারের রূপরেখা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকার যেন স্বৈরাচারী হতে না পারে, সেজন্য সংবিধানে প্রধানমন্ত্রী পদ সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে সীমাবদ্ধ করা হবে। পাশাপাশি সংসদের উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য (চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স) নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বলেন, ১৭ বছরের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও শত-সহস্র শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বিজয় একক গোষ্ঠীর চেতনা বিক্রির হাতিয়ার হতে পারে না। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও ইস্পাতকঠিন জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
শিক্ষার্থী ও তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, রাজনৈতিক অপরিপক্কতার পরিচয় দিয়ে কোনো উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া যাবে না। বুয়েটসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদের ফাঁদে ফেলার অপচেষ্টা চলছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সবাইকে ধৈর্য ও গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানান।
সভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ, শহীদ ওয়াসিম আকরামের বাবা শফিউল আলম, শহীদ আবু সাঈদের ভাই আবু হোসেন এবং শহীদ একরামুল হক সাজিদের মা নাজমা খাতুন লিপি।
পরে সভায় শহীদদের স্বজনের বিশেষ সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণে আলোকচিত্র ঘুরে দেখেন। সভায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
.png)




-78ae87-256x144.webp)

