কাতারের গ্যাসক্ষেত্রে বিস্ফোরণ, ১৩ শ্রমিকের মৃত্যু
স্ট্রিম ডেস্ক

কাতারের রাস লাফান গ্যাস টার্মিনালে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে ১৩ শ্রমিক নিহত এবং ৬৬ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (২২ জুন) বিকেলে দোহায় সংবাদ সম্মেলনে কাতার এনার্জির প্রধান নির্বাহী এবং দেশটির জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী সাদ শেরিদা আল-কাবি এই তথ্য জানান।
তিনি জানান, স্থানীয় সময় রোববার (২১ জুন) রাতে রাস লাফানের ‘বারজান’ গ্যাস সরবরাহ কেন্দ্রে এই দুর্ঘটনা ঘটে। আল-কাবি বলেন, ‘এই বিস্ফোরণ নিছক দুর্ঘটনা। কোনো নাশকতামূলক কাজ বা শত্রুতামূলক হামলা নয়। কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে।’
আল-কাবি জানান, নিহত শ্রমিকরা ভারত ও পাকিস্তানের নাগরিক। এছাড়া আহত ৬৬ জন বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাদের কেউই জীবনশঙ্কায় নেই।
ভুক্তভোগীদের পরিবার ও সহকর্মীদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, কাতার এনার্জির বিভিন্ন টিম বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্তদের সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে।
আল-কাবি নিশ্চিত করেছেন, এই দুর্ঘটনার ফলে কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানি কোনোভাবেই ব্যাহত হবে না। তিনি বলেন, ‘কাতার এনার্জির এলএনজি সুবিধা, রাস লাফান বন্দর এবং অন্যান্য লজিস্টিক কার্যক্রম এই বিস্ফোরণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি এবং এটি আমাদের রপ্তানি সক্ষমতায় কোনো প্রভাব ফেলবে না।’
রোববার রাতের এই বিস্ফোরণ এতটাই তীব্র ছিল যে এর ধাক্কায় রাজধানী দোহা কেঁপে ওঠে। প্রতিবেশী দেশ বাহরাইনেও এর কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের শুরুর দিকে রাস লাফান প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রে হামলা হয়েছিল। যুদ্ধবিরতি আলোচনা শুরু হওয়ার পর কাতার এনার্জি পুনরায় তাদের রপ্তানি টার্মিনাল সচল করার কাজ শুরু করে। মাত্র দুই দিন আগে বারজান কেন্দ্র পুনরায় চালু করা হয়েছিল। রাস লাফান এলএনজি কমপ্লেক্সের বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা ৭৭ মিলিয়ন মেট্রিক টন, যা অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং দেশের পানি শোধন প্ল্যান্ট সচল রাখতে ব্যবহার হয়।
.png)




-7bb02b-256x144.webp)

