মরক্কো থেকে স্পেনে যেতে মরিয়া ৫৭ অভিবাসীর মৃত্যু

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

মরক্কো থেকে স্পেনের ছিটমহল সেউতায় প্রবেশ করছেন অভিবাসীরা। ছবি: এপি
মরক্কো থেকে স্পেনের ছিটমহল সেউতায় প্রবেশ করছেন অভিবাসীরা। ছবি: এপি

মরক্কো থেকে সমুদ্রপথ এবং স্থলপথে সীমান্ত পার হয়ে স্পেনের ছিটমহল সেউতায় প্রবেশের সময় অন্তত ৫৭ অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) সেউতার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের অনেকেই পানিতে ডুবে মারা গেছেন।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ আজ সেউতা সফর করেন। তিনি বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাঁর সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি ও সক্ষমতা কাজে লাগাচ্ছে।

এই ঘটনাকে স্পেনের আঞ্চলিক অখণ্ডতার স্পষ্ট লঙ্ঘন অভিহিত করে দেশটির সানচেজ বলেন, ‘এর জন্য আমরা পূর্ণ তিরস্কার ও ধিক্কার পাওয়ার যোগ্য। স্পেনের সরকার সেউতার জনগণের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের সকল সম্পদ ও ব্যবস্থা ব্যবহার করবে।’

সেউতার স্বায়ত্তশাসিত সরকারের সভাপতি হুয়ান জেসাস ভিভাস জানিয়েছেন, এক দিনেই প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসী সীমান্ত পেরিয়ে সেউতায় প্রবেশ করেছেন। মানুষের স্রোতের মুখে সীমান্তরক্ষীরা একপ্রকার অসহায় হয়ে পড়েন।

স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের যত দ্রুত সম্ভব ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করবে। তবে সম্প্রতি স্পেনের সুপ্রিম কোর্ট সমুদ্রপথে আসা অভিবাসীদের সরাসরি ফেরত পাঠাতে বিধিনিষেধ আরোপ করায় আইনি জটিলতা দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সানচেজ বলেছেন, এই অনাকাঙ্ক্ষিত গণ-অনুপ্রবেশের সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের রুলিংয়ের যোগসূত্র রয়েছে।

সেউতা ও মেলিয়া—উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের দুটি স্বায়ত্তশাসিত ছিটমহল। এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আফ্রিকার একমাত্র স্থলসীমান্ত।

চলতি মাসের শুরুতে স্পেনের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেন, সেউতা বা মেলিয়ায় পৌঁছানোর উদ্দেশে সমুদ্রে আটক হওয়া অভিবাসীদের মরক্কোতে ফেরত পাঠানো যাবে না।

গার্দিয়া সিভিলের এক মুখপাত্র রয়টার্সকে বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর থেকে ধীরে ধীরে মানুষ আসছিল, কিন্তু আজ তা বিস্ফোরণের মতো বেড়ে গেছে।

এই ঘটনায় স্পেনের অভিবাসনবান্ধব সরকারের ওপর এখন তীব্র রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে।

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবাধ চলাচলের সুবিধা সংবলিত ‘শেনজেন চুক্তি’ থেকে স্পেনের সদস্যপদ স্থগিত করার আহ্বান জানান। সামাজিক মাধ্যমে মেলোনি বলেন, ‘সীমান্ত ও নাগরিকদের নিরাপত্তা রক্ষায় স্পেনের সঙ্গে শেনজেন এলাকা স্থগিত করার মতো পদক্ষেপ নিতেও আমরা প্রস্তুত। অবৈধ অভিবাসনের বিষয়ে আমরা এক ইঞ্চিও পিছু হটব না; সীমান্ত রক্ষা, মানবপাচারকারী আটক ও কার্যকর পাঠানোই আমাদের নীতি।’

ইতালির পাশাপাশি অন্যান্য ইইউ দেশগুলোও এ নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ জানিয়েছেন, তিনি স্প্যানিশ সীমান্তে অতিরিক্ত তল্লাশি ও তল্লাশিচৌকি বসানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন এক্সে লেখেন, ‘নিয়ম না মেনে কাউকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না।’

তথ্যসূত্র: সিএনএন

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত