৬৬ আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের ঘোষণা ট্রাম্পের

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘের সহযোগী সংস্থাসহ আন্তর্জাতিক অন্তত ৬৬টি সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় বুধবার (৭ জানুয়ার) মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই ঘোষণা দেন।

ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কয়েক ডজন আন্তর্জাতিক এবং জাতিসংঘের সংস্থা থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ জলবায়ু চুক্তি এবং লিঙ্গ সমতা ও নারীর ক্ষমতায়নকে উৎসাহিত করে জাতিসংঘের এমন একটি সংস্থাও রয়েছে। কারণ সংস্থাগুলো ‘যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী’ কাজ করে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার সন্ধ্যায় ট্রাম্পের দেওয়া এক স্মারকে জাতিসংঘের বাইরের ৩৫টি এবং জাতিসংঘের ৩১টি সংস্থার নাম রয়েছে। এর মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনও (ইউএনএফসিসিসি) রয়েছে। এই সংস্থাটিকে অনেকে ‘বেডস্টক’ জলবায়ু চুক্তি হিসেবে বর্ণনা করেন এবং এটি ২০১৫ সালে প্যারিস হওয়া জলবায়ু সমঝোতার মূল চুক্তি।

ট্রাম্প বলেন, এই পরিবর্তনের ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সংস্থাগুলোতে অংশগ্রহণ বন্ধ করে দেবে এবং সংস্থাগুলিকে সমস্ত তহবিলও বন্ধ করে দেবে।

এর আগে, গত বছর তিন দশকের মধ্যে প্রথমবার জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলনে অংশ নেয়নি যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা ন্যাচারাল রিসোর্চ ডিফেন্স কাউন্সিলের (এনআরডিসি) সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মনিশ বাপনা বলেন, ইউএনএফসিসিসি থেকে সরে যাওয়া প্রথম দেশ হবে যুক্তরাষ্ট্র। অন্য প্রতিটি দেশিই এর সদস্য, কারণ তারা স্বীকার করে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা নৈতিক বাধ্যবাধকতার বাইরেও, এই সংক্রান্ত আলোচনার টেবিলে আসন মানে গুরুত্বপূর্ণ নীতি এবং সুযোগ গঠনের সক্ষমতাকে প্রতিনিধিত্ব করে।

ইউএন উইমেন থেকেও সরে যাবে যুক্তরাষ্ট্র। এই সংস্থাটি লিঙ্গ বৈষম্য এবং নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে কাজ করে। এছাড়া জাতিসংঘের পপুলেশন ফান্ড (ইউএনএফপিএ) পরিবার পরিকল্পনার পাশাপাশি মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য নিয়ে দেড়শোর বেশি দেশে কাজ করে। গত বছর এই সংস্থার তহবিল বরাদ্দও বন্ধ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, জাতিসংঘের সংস্থাগুলির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এ প্রত্যাহারের অর্থ হল আইন অনুমোদিত উপায়ে সেই সংস্থাগুলিতে অংশগ্রহণ বা তহবিল বন্ধ করা। ট্রাম্প ইতোমধ্যেই জাতিসংঘের অধিকাংশ সংস্থাকে সহায়তামূলক তহবিল দেওয়া ব্যাপকভাবে কমিয়ে দিয়েছেন।

ট্রাম্পের এ উদ্যোগের ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত