স্ট্রিম ডেস্ক

ব্রিটেনের রাজনীতিতে অভূতপূর্ব পরিবর্তন ঘটছে। এককালের শ্বেতাঙ্গ অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে এখন জয়ধ্বনি উঠছে অভিবাসী নেতাদের। লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকার কথা ধরা যাক। একসময় এই এলাকা ছিল পুরোপুরি শ্বেতাঙ্গদের দখলে।
এখন সেখানে জনসংখ্যার ৪০ শতাংশই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুসলিম। এই এলাকাতেই সম্প্রতি লুৎফুর রহমান টানা তৃতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।
শুধু তিনিই নন, তাঁর দল 'অ্যাসপায়ার' কাউন্সিলের ৪৫ আসনের ৩৩টিতে জয়লাভ করেছে এবং জয়ী সবাই বাংলাদেশি মুসলিম। এই ঘটনা কেবল বিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক বিজয় নয়, বরং যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে ঘটে চলা পরিবর্তনের উদাহরণ।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ডানপন্থি দল রিফর্ম ইউকের কাছে পরাজয়ের পর লেবার পার্টির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে লড়াইয়ে নেমেছেন। গত সাধারণ নির্বাচনের পর থেকেই রিফর্ম পার্টি ব্রিটেনের রাজনীতিতে প্রবল ঝড়ের জন্ম দিয়েছে।
লেবার পার্টির বিপর্যয়ের পেছনে আরেকটি বড় কারণ দীর্ঘদিনের অনুগত পাকিস্তানি ও বাংলাদেশি ভোটারদের দলত্যাগ। এই ভোটারদের বড় অংশ এখন গ্রিন পার্টি বা অন্যান্য ছোট মুসলিম গোষ্ঠীগুলোর দিকে ঝুঁকছে।
টাওয়ার হ্যামলেটসে লুৎফুর রহমানের উত্থান চমকপ্রদ রাজনৈতিক আখ্যান। তিনি একসময় লেবার পার্টির সদস্য ছিলেন। দুর্নীতি ও বেআইনি নির্বাচনী চর্চার দায়ে ২০১৪ সালে তাঁকে মেয়রের পদ থেকে অপসারণ করা হয় এবং পাঁচ বছরের জন্য রাজনীতিতে নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু পাঁচ বছর পর নিজের দল 'অ্যাসপায়ার' গঠন করে আবারও মেয়রের চেয়ারে বসেন। স্থানীয় বাংলাদেশিরা লেবার পার্টির চেয়ে লুৎফুর রহমানকেই তাদের সমস্যা সমাধানের জন্য বিশ্বাসযোগ্য মনে করেছিলেন।
ম্যানচেস্টারের ওল্ডহ্যাম এলাকা ঐতিহাসিকভাবে লেবার পার্টির শক্ত ঘাঁটি ছিল। ওল্ডহ্যামের জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ মুসলিম, যাদের বেশিরভাগই পাকিস্তানি। দুই বছর আগে লেবার পার্টির কয়েকজন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত নেতা দল থেকে বেরিয়ে 'ওল্ডহ্যাম গ্রুপ' গঠন করেন। গাজা ইস্যুকে কেন্দ্র করে প্রচারণা চালিয়ে এই গ্রুপ কাউন্সিলে ১০ আসন জিতে নেয়। একই নির্বাচনে রিফর্ম ইউকে ১৬ এবং লেবার পার্টি ১৮ আসন লাভ করে।
শুধু ম্যানচেস্টারেই নয়, ফিলিস্তিনিদের ওপর চলা গণহত্যা এবং ব্রিটিশ সরকারের ইসরায়েল নীতি পুরো ব্রিটেনেই বড় নির্বাচনী ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতীয়সহ যুক্তরাজ্যের সব সম্প্রদায়ের মানুষ নিয়মিত এই ইস্যু সামনে এনেছেন। পাকিস্তানি ও বাংলাদেশি মুসলিমরা তাদের রাজনৈতিক ঐক্য কাজে লাগিয়ে ব্যালট বাক্সে এর প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়েছেন।
২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনে গাজা ইস্যুতে প্রচারণা চালিয়ে চারজন স্বতন্ত্র মুসলিম প্রার্থী লেবার দলের প্রার্থীদের পরাজিত করেন। লেবার পার্টির মুসলিম সদস্য ও অধিকারকর্মীদের জোরালো লবিংয়ের কারণেই ব্রিটিশ সরকার গত বছর ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়।
কাশ্মীর ইস্যুও ব্রিটিশ পাকিস্তানি ও মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর প্রচারণার অন্যতম প্রধান বিষয়। জেরেমি করবিনের নেতৃত্বে লেবার পার্টি ২০১৯ সালে জম্মু ও কাশ্মীরের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার দাবি করে প্রস্তাব পাস করেছিল।
এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন দলের ভারতীয় বংশোদ্ভূত সদস্যরা। চাপের মুখে দল শেষ পর্যন্ত নিরপেক্ষ অবস্থানে ফিরে আসতে বাধ্য হয়। তবে পাকিস্তানিরা এই ইস্যুতে তাদের প্রচারণা থামায়নি। গত এপ্রিলে গ্রিন পার্টির সম্মেলনেও তারা সফলভাবে এই ইস্যুটি সামনে নিয়ে আসে।
২০২১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী ব্রিটেনে মুসলিম জনসংখ্যা ৬ শতাংশ। এর মধ্যে পাকিস্তানি ও বাংলাদেশি মুসলিমদের হার ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। অন্যদিকে ভারতীয়দের হার ৩ দশমিক ১ শতাংশ, যাদের মধ্যে হিন্দু ২ শতাংশের কিছু কম। ভারতীয়দের তুলনায় পাকিস্তানি ও বাংলাদেশিরা অনেক বেশি সংঘবদ্ধভাবে ভোট দিয়েছেন।
২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনে লেবার দল যেসব আসনে জিতেছিল, তার মধ্যে দুই ডজনেরও বেশি আসনে গ্রিন পার্টি, ছোট মুসলিম গোষ্ঠী বা স্বতন্ত্র প্রার্থীরা দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন।
এই পরিস্থিতি লেবার সরকারের শীর্ষ নেতাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের মতো নেতারাও ঝুঁকিতে আছেন। এসব নেতার সংসদীয় আসনে পাকিস্তানি ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ভোটারের হার ২০ থেকে ৪৯ শতাংশের মধ্যে।
শুধু পাকিস্তানি ও বাংলাদেশিরাই তাদের রাজনৈতিক শক্তির ব্যবহার করছে, এমনটা ভাবা ভুল হবে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত শিখ ও হিন্দুরাও নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছেন। তবে তাদের সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় রাজনৈতিক ক্ষমতাও সীমিত। ভারতে কৃষক আন্দোলনের সময় শিখরা ব্রিটেনে এই ইস্যু সামনে আনেন। ভারতীয় সম্প্রদায় কাশ্মীর ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টাও করেছে। কিন্তু পাকিস্তানিদের মতো ভারতীয়রা ততটা সংঘবদ্ধ নয়। এমনকি তাদের অনেকেই নয়া দিল্লি সরকারের নীতির সমালোচক।
ব্রিটেনে ভারতীয় সম্প্রদায় পাকিস্তানি ও বাংলাদেশিদের তুলনায় রাজনৈতিকভাবে কম সক্রিয়। তাদের নিজস্ব কোনো হিন্দু বা শিখ রাজনৈতিক দল নেই। তবে মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে ভারতীয়দের ছোট ছোট গোষ্ঠী রয়েছে। রাজনৈতিক নেতারা ভারতীয় ভোটারদের আকর্ষণ করতে বিভিন্ন উৎসব ও উপাসনালয়ে যোগ দেন।
ব্রিটিশ ভারতীয়দের কাছে লেবার পার্টি ঐতিহাসিকভাবে প্রথম পছন্দ। কিন্তু বর্তমানে লেবার দলের প্রতি তাদের সমর্থন কমছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে অক্সফোর্ডভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক 'দ্য ১৯২৮ ইনস্টিটিউট' একটি গবেষণায় দেখা যায়, ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর ব্রিটিশ ভারতীয়দের মধ্যে উগ্র ডানপন্থি রিফর্ম পার্টির সমর্থন তিনগুণ বেড়েছে। একই সময়ে লেবার দলের প্রতি সমর্থন কমেছে ১৩ শতাংশ। কনজারভেটিভদের সমর্থন কমেছে ৩ শতাংশ এবং গ্রিন পার্টির সমর্থন বেড়েছে ৬০ শতাংশ।
চলতি মাসের নির্বাচনে ভারতীয় ভোটারদের আচরণের কোনো নির্দিষ্ট তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে ভোটের দিন অনেক ঐতিহ্যবাহী লেবার সমর্থক জানিয়েছিলেন যে তারা এবার রিফর্ম পার্টিকে ভোট দিয়েছেন।
অনেকেই আবার লেবার দলে থাকার বদলে গ্রিন পার্টিকে বেছে নিয়েছেন। মজার বিষয় হলো, অনেক ভারতীয় গত নির্বাচনে লেবারকে ভোট দিলেও এবার রিফর্মের বদলে কনজারভেটিভদের ভোট দিয়েছেন। কারণ রিফর্ম পার্টির অভিবাসনবিরোধী নীতি অনেক ভারতীয়র কাছে অগ্রহণযোগ্য।
যারা রিফর্ম পার্টিতে যোগ দিয়েছেন, তারা আশ্রয়প্রার্থী ও অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে দলটির কঠোর নীতিকে সমর্থন করেন। অনেকে দলটির মুসলিমবিরোধী নীতির সঙ্গে একমত হয়েও যোগ দিয়ে থাকতে পারেন।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি ও দ্য গার্ডিয়ান

ব্রিটেনের রাজনীতিতে অভূতপূর্ব পরিবর্তন ঘটছে। এককালের শ্বেতাঙ্গ অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে এখন জয়ধ্বনি উঠছে অভিবাসী নেতাদের। লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকার কথা ধরা যাক। একসময় এই এলাকা ছিল পুরোপুরি শ্বেতাঙ্গদের দখলে।
এখন সেখানে জনসংখ্যার ৪০ শতাংশই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুসলিম। এই এলাকাতেই সম্প্রতি লুৎফুর রহমান টানা তৃতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।
শুধু তিনিই নন, তাঁর দল 'অ্যাসপায়ার' কাউন্সিলের ৪৫ আসনের ৩৩টিতে জয়লাভ করেছে এবং জয়ী সবাই বাংলাদেশি মুসলিম। এই ঘটনা কেবল বিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক বিজয় নয়, বরং যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে ঘটে চলা পরিবর্তনের উদাহরণ।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ডানপন্থি দল রিফর্ম ইউকের কাছে পরাজয়ের পর লেবার পার্টির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে লড়াইয়ে নেমেছেন। গত সাধারণ নির্বাচনের পর থেকেই রিফর্ম পার্টি ব্রিটেনের রাজনীতিতে প্রবল ঝড়ের জন্ম দিয়েছে।
লেবার পার্টির বিপর্যয়ের পেছনে আরেকটি বড় কারণ দীর্ঘদিনের অনুগত পাকিস্তানি ও বাংলাদেশি ভোটারদের দলত্যাগ। এই ভোটারদের বড় অংশ এখন গ্রিন পার্টি বা অন্যান্য ছোট মুসলিম গোষ্ঠীগুলোর দিকে ঝুঁকছে।
টাওয়ার হ্যামলেটসে লুৎফুর রহমানের উত্থান চমকপ্রদ রাজনৈতিক আখ্যান। তিনি একসময় লেবার পার্টির সদস্য ছিলেন। দুর্নীতি ও বেআইনি নির্বাচনী চর্চার দায়ে ২০১৪ সালে তাঁকে মেয়রের পদ থেকে অপসারণ করা হয় এবং পাঁচ বছরের জন্য রাজনীতিতে নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু পাঁচ বছর পর নিজের দল 'অ্যাসপায়ার' গঠন করে আবারও মেয়রের চেয়ারে বসেন। স্থানীয় বাংলাদেশিরা লেবার পার্টির চেয়ে লুৎফুর রহমানকেই তাদের সমস্যা সমাধানের জন্য বিশ্বাসযোগ্য মনে করেছিলেন।
ম্যানচেস্টারের ওল্ডহ্যাম এলাকা ঐতিহাসিকভাবে লেবার পার্টির শক্ত ঘাঁটি ছিল। ওল্ডহ্যামের জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ মুসলিম, যাদের বেশিরভাগই পাকিস্তানি। দুই বছর আগে লেবার পার্টির কয়েকজন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত নেতা দল থেকে বেরিয়ে 'ওল্ডহ্যাম গ্রুপ' গঠন করেন। গাজা ইস্যুকে কেন্দ্র করে প্রচারণা চালিয়ে এই গ্রুপ কাউন্সিলে ১০ আসন জিতে নেয়। একই নির্বাচনে রিফর্ম ইউকে ১৬ এবং লেবার পার্টি ১৮ আসন লাভ করে।
শুধু ম্যানচেস্টারেই নয়, ফিলিস্তিনিদের ওপর চলা গণহত্যা এবং ব্রিটিশ সরকারের ইসরায়েল নীতি পুরো ব্রিটেনেই বড় নির্বাচনী ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতীয়সহ যুক্তরাজ্যের সব সম্প্রদায়ের মানুষ নিয়মিত এই ইস্যু সামনে এনেছেন। পাকিস্তানি ও বাংলাদেশি মুসলিমরা তাদের রাজনৈতিক ঐক্য কাজে লাগিয়ে ব্যালট বাক্সে এর প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়েছেন।
২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনে গাজা ইস্যুতে প্রচারণা চালিয়ে চারজন স্বতন্ত্র মুসলিম প্রার্থী লেবার দলের প্রার্থীদের পরাজিত করেন। লেবার পার্টির মুসলিম সদস্য ও অধিকারকর্মীদের জোরালো লবিংয়ের কারণেই ব্রিটিশ সরকার গত বছর ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়।
কাশ্মীর ইস্যুও ব্রিটিশ পাকিস্তানি ও মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর প্রচারণার অন্যতম প্রধান বিষয়। জেরেমি করবিনের নেতৃত্বে লেবার পার্টি ২০১৯ সালে জম্মু ও কাশ্মীরের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার দাবি করে প্রস্তাব পাস করেছিল।
এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন দলের ভারতীয় বংশোদ্ভূত সদস্যরা। চাপের মুখে দল শেষ পর্যন্ত নিরপেক্ষ অবস্থানে ফিরে আসতে বাধ্য হয়। তবে পাকিস্তানিরা এই ইস্যুতে তাদের প্রচারণা থামায়নি। গত এপ্রিলে গ্রিন পার্টির সম্মেলনেও তারা সফলভাবে এই ইস্যুটি সামনে নিয়ে আসে।
২০২১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী ব্রিটেনে মুসলিম জনসংখ্যা ৬ শতাংশ। এর মধ্যে পাকিস্তানি ও বাংলাদেশি মুসলিমদের হার ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। অন্যদিকে ভারতীয়দের হার ৩ দশমিক ১ শতাংশ, যাদের মধ্যে হিন্দু ২ শতাংশের কিছু কম। ভারতীয়দের তুলনায় পাকিস্তানি ও বাংলাদেশিরা অনেক বেশি সংঘবদ্ধভাবে ভোট দিয়েছেন।
২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনে লেবার দল যেসব আসনে জিতেছিল, তার মধ্যে দুই ডজনেরও বেশি আসনে গ্রিন পার্টি, ছোট মুসলিম গোষ্ঠী বা স্বতন্ত্র প্রার্থীরা দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন।
এই পরিস্থিতি লেবার সরকারের শীর্ষ নেতাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের মতো নেতারাও ঝুঁকিতে আছেন। এসব নেতার সংসদীয় আসনে পাকিস্তানি ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ভোটারের হার ২০ থেকে ৪৯ শতাংশের মধ্যে।
শুধু পাকিস্তানি ও বাংলাদেশিরাই তাদের রাজনৈতিক শক্তির ব্যবহার করছে, এমনটা ভাবা ভুল হবে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত শিখ ও হিন্দুরাও নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছেন। তবে তাদের সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় রাজনৈতিক ক্ষমতাও সীমিত। ভারতে কৃষক আন্দোলনের সময় শিখরা ব্রিটেনে এই ইস্যু সামনে আনেন। ভারতীয় সম্প্রদায় কাশ্মীর ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টাও করেছে। কিন্তু পাকিস্তানিদের মতো ভারতীয়রা ততটা সংঘবদ্ধ নয়। এমনকি তাদের অনেকেই নয়া দিল্লি সরকারের নীতির সমালোচক।
ব্রিটেনে ভারতীয় সম্প্রদায় পাকিস্তানি ও বাংলাদেশিদের তুলনায় রাজনৈতিকভাবে কম সক্রিয়। তাদের নিজস্ব কোনো হিন্দু বা শিখ রাজনৈতিক দল নেই। তবে মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে ভারতীয়দের ছোট ছোট গোষ্ঠী রয়েছে। রাজনৈতিক নেতারা ভারতীয় ভোটারদের আকর্ষণ করতে বিভিন্ন উৎসব ও উপাসনালয়ে যোগ দেন।
ব্রিটিশ ভারতীয়দের কাছে লেবার পার্টি ঐতিহাসিকভাবে প্রথম পছন্দ। কিন্তু বর্তমানে লেবার দলের প্রতি তাদের সমর্থন কমছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে অক্সফোর্ডভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক 'দ্য ১৯২৮ ইনস্টিটিউট' একটি গবেষণায় দেখা যায়, ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর ব্রিটিশ ভারতীয়দের মধ্যে উগ্র ডানপন্থি রিফর্ম পার্টির সমর্থন তিনগুণ বেড়েছে। একই সময়ে লেবার দলের প্রতি সমর্থন কমেছে ১৩ শতাংশ। কনজারভেটিভদের সমর্থন কমেছে ৩ শতাংশ এবং গ্রিন পার্টির সমর্থন বেড়েছে ৬০ শতাংশ।
চলতি মাসের নির্বাচনে ভারতীয় ভোটারদের আচরণের কোনো নির্দিষ্ট তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে ভোটের দিন অনেক ঐতিহ্যবাহী লেবার সমর্থক জানিয়েছিলেন যে তারা এবার রিফর্ম পার্টিকে ভোট দিয়েছেন।
অনেকেই আবার লেবার দলে থাকার বদলে গ্রিন পার্টিকে বেছে নিয়েছেন। মজার বিষয় হলো, অনেক ভারতীয় গত নির্বাচনে লেবারকে ভোট দিলেও এবার রিফর্মের বদলে কনজারভেটিভদের ভোট দিয়েছেন। কারণ রিফর্ম পার্টির অভিবাসনবিরোধী নীতি অনেক ভারতীয়র কাছে অগ্রহণযোগ্য।
যারা রিফর্ম পার্টিতে যোগ দিয়েছেন, তারা আশ্রয়প্রার্থী ও অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে দলটির কঠোর নীতিকে সমর্থন করেন। অনেকে দলটির মুসলিমবিরোধী নীতির সঙ্গে একমত হয়েও যোগ দিয়ে থাকতে পারেন।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি ও দ্য গার্ডিয়ান

একদিকে যেমন ‘মেধাপাচার’ বা ব্রেইন ড্রেইন হচ্ছিল, তেমনি দেশের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা চলে যাচ্ছিল বিদেশে। সরকার ও শিক্ষাবিদরা অনুধাবন করেন, রাষ্ট্রের একার পক্ষে উচ্চশিক্ষার এই বিপুল চাহিদা মেটানো আর সম্ভব নয়। প্রয়োজন বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ।
১৩ মিনিট আগে
আক্ষরিক অর্থে ‘কিচেন কেবিনেট’ বলতে রান্নাঘরের আলমারি বা ফার্নিচারকে বোঝায়। কিন্তু রাজনৈতিক অর্থে ‘কিচেন কেবিনেট’ বলতে বোঝায় এমন একটি অনানুষ্ঠানিক ও অনির্বাচিত উপদেষ্টা গোষ্ঠীকে, যারা সরকারের আনুষ্ঠানিক মন্ত্রিসভাকে পাশ কাটিয়ে পর্দার আড়াল থেকে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করে।
৩ দিন আগে
পাকিস্তানের বেলুচিস্তানের রাজধানী কোয়েটায় রোববার সেনাসদস্য বহনকারী একটি ট্রেনে আত্মঘাতী গাড়িবোমা বিস্ফোরণে অন্তত ২৪ জন নিহত এবং ৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
৪ দিন আগে
সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফলের পর তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক অবস্থান ও কৌশল নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ভূমিধস বিজয়ের পর তৃণমূলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন বিষয়ের সমীকরণ নতুনভাবে সামনে আসছে। তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাক নিয়েও তাই আলোচনা-সমালো
৬ দিন আগে