আর্থিক খাতে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না: অর্থমন্ত্রী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১২ মে ২০২৬, ১৮: ৪০
সংসদে বক্তব্য দিচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সংগৃহীত ছবি

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আর্থিক খাতসহ সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না। সরকারের কোনো রাজনৈতিক নিয়োগ বা প্রভাব এখানে কাজ করবে না এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে শতভাগ পেশাদার কাঠামোর আওতায় পরিচালিত করা হবে।

আজ মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লু ঢাকায় আয়োজিত ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি’ (বিএসআইসি)-র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এই কোম্পানি যে মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে, ভবিষ্যতে তা আরও বাড়ানো হবে। এটি শুধু একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান নয়, বরং দেশের সামগ্রিক স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে কার্যকর করার একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। তিনি বলেন, দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রধান দুটি সমস্যা হলো তহবিলের অভাব এবং জামানত দেওয়ার অক্ষমতা। নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে সেই বাধাগুলো দূর করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘এখানে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া হবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, দক্ষ ও পেশাদার। কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বা হস্তক্ষেপ থাকবে না।’ তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগ সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডকে কাজে লাগিয়ে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। বিশেষ করে সৃজনশীল অর্থনীতির মাধ্যমে শহর ও গ্রামের তরুণদের অর্থনীতির মূলধারায় যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আর্থিক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশ বর্তমানে একটি কঠিন সময় পার করছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার পুঁজিবাজার সংস্কার এবং ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণের (ডিরেগুলেশন) পথে এগোচ্ছে। তিনি জানান, বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার খাতে দক্ষ ব্যক্তিদের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বড় বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা সরকারের সাথে কাজ করছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের ব্যাংকিং ও বেসরকারি খাতের মূলধন সংকট দূর করতেও সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই কোম্পানি শুধু ব্যাংকভিত্তিক বিনিয়োগেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং আন্তর্জাতিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানগুলোকেও বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে।

তাঁর ভাষায়, ‘অর্থ মন্ত্রণালয় এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে সব ধরনের নীতিগত সহায়তা দেবে। দেশের একাধিক ব্যাংক একসাথে এই ভেঞ্চার ক্যাপিটাল উদ্যোগ নিয়েছে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিে নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।’

বিএসআইসির চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার।

সম্পর্কিত