ডারউইন থেকে মিরপুর: টেস্টে বাংলাদেশের সেরা ৫

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক

স্ট্রিম গ্রাফিক

খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, টেস্ট ক্রিকেটে সেরা জয়ের তালিকা তৈরি করা বাংলাদেশের জন্য খুব একটা কঠিন ছিল না। ২০১৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত টেস্টে ১৬ বছরের পথচলায় বাংলাদেশের জয় ছিল মাত্র সাতটি। কিন্তু পরের ১০ বছরে সেই সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ২৮।

২০০০ সালের নভেম্বরে দশম টেস্ট খেলুড়ে দেশ হিসেবে যাত্রা শুরু করা টাইগারদের ঝুলিতে এখন অনেক স্মরণীয় জয় রয়েছে। ১৬ আগস্ট ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পর বাংলাদেশের সেরা ৫ জয়ের তালিকা সাজিয়েছে ‘স্ট্রিম’।

শততম টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে স্মরণীয় জয় (পঞ্চম)

২০১৭ সালের মার্চে কলম্বোর পি সারা ওভালে নিজেদের শততম টেস্টে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে সাকিব আল হাসানের ১১৬ ও তামিম ইকবালের ৮২ রানের সুবাদে ভালো সূচনা পায় টাইগাররা। পরে ১৯১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৪ উইকেটের অবিস্মরণীয় জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।

র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা দলের বিরুদ্ধে তাঁদের মাটিতে এটিই ছিল বাংলাদেশের প্রথম ‘প্রকৃত’ জয়। ২০০৯ সালে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২-০ টেস্ট সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ। ওই সিরিজে বেতনসংক্রান্ত বিরোধে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম সারির ক্রিকেটাররা ধর্মঘটে থাকায় দ্বিতীয় সারির দলের বিরুদ্ধে খেলেছিল বাংলাদেশ।

মিরপুরে মিরাজ-সাকিবের স্পিনে ইংল্যান্ড-বধ (চতুর্থ)

২০১৬ সালের অক্টোবরে মিরপুরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের টেস্ট ইতিহাসের প্রথম জয় ছিনিয়ে নেয় বাংলাদেশ। ২৭৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে এক পর্যায়ে বিনা উইকেটে ১০০ রান তুলে সহজ জয়ের দিকে এগোচ্ছিল ইংল্যান্ড। তবে এরপরই স্পিন ঘূর্ণিতে ইংল্যান্ডের তরি ডুবান মেহেদী হাসান মিরাজ ও সাকিব আল হাসান। মিরাজের ৬ এবং সাকিবের ৪ উইকেটে মাত্র ১৬৪ রানে অলআউট হয়ে যায় ইংলিশরা।

২৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়েও পাকিস্তান সিরিজ জয় (তৃতীয়)

২০২৪ সালের আগস্টে রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে মাত্র ২৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন লিটন দাস। তাঁর ১৩৮ রানের ইনিংসে ভর করে ঘুরে দাঁড়ায় দল। পরে জয়ের জন্য ১৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমের অপরাজিত ইনিংসে ভর করে ৬ উইকেটে জয় পায় বাংলাদেশ।

ওই সিরিজের প্রথম টেস্টে ১০ উইকেটের জয় পেয়েছিল টাইগাররা। দ্বিতীয় টেস্টে জয় দিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তাদেরই মাঠে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশ।

মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে এবাদতের ‘ঝড়’ (দ্বিতীয়)

২০২২ সালের আগে কোনো ফরম্যাটেই নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ম্যাচ জেতার রেকর্ড ছিল না বাংলাদেশের। আগের পাঁচ সফরে টানা ৯ টেস্টে হারার অভিজ্ঞতা ছিল দলের। মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে সেই অধরা স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেয়।

প্রথম ইনিংসে নিউজিল্যান্ডের ৩২৮ রানের জবাবে বাংলাদেশ করে ৪৫৮ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে পেসার এবাদত হোসেনের বিধ্বংসী বোলিংয়ে (৬ উইকেট) মাত্র ১৬৯ রানে গুটিয়ে যায় কিউইরা। ৪০ রানের সহজ লক্ষ্য ৮ উইকেট হাতে রেখে পেরিয়ে যায় বাংলাদেশ।

২৩ বছরের অপেক্ষার পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম জয় (প্রথম)

২০০৩ সালের অস্ট্রেলিয়া সফরে দুটি টেস্টেই ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। ২৩ বছর পর ডারউইনে নাজমুল হোসেন শান্তর দল সেই ইতিহাস নতুন করে লিখল। ডারউইন টেস্টে স্বাগতিকদের ৯ উইকেটে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।

তানজিদ হাসান তামিমের অনবদ্য সেঞ্চুরি, প্রথম ইনিংসে হাসান মাহমুদের ৬ উইকেট এবং দ্বিতীয় ইনিংসে মেহেদী হাসান মিরাজের ৫ উইকেটে ম্যাচের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিল টাইগারদের। অজিদের দেওয়া ৫৭ রানের ছোট লক্ষ্য ১ উইকেট হারিয়েই টপকে যায় বাংলাদেশ।

অস্ট্রেলিয়ায় শ্রীলঙ্কা কখনো টেস্ট জিততে পারেনি এবং পাকিস্তান সেখানে সর্বশেষ জয় পেয়েছিল ৩১ বছর আগে। অধিনায়ক শান্ত ম্যাচ শেষে এ অর্জনকে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সর্বকালের সেরা জয় হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত

ডারউইন থেকে মিরপুর: টেস্টে বাংলাদেশের সেরা ৫