বেলজিয়ামের অবিশ্বাস্য কামব্যাক, বিতর্কিত পেনাল্টিতে সেনেগালের বিদায়
স্ট্রিম প্রতিবেদকঢাকা

সিয়াটল স্টেডিয়ামে ম্যাচের ঘড়ি যখন ১২০ মিনিট ছুঁয়েছে, তখনও ২-২ গোলে সমতা। টাইব্রেকার অপেক্ষা করছে। কিন্তু ভাগ্য যেন বিরূপ হলো সেনেগালের ওপর। যোগ করা সময়ে ফাউলের অভিযোগ নিষ্পত্তিতে ভিএআরের সাহায্য নিলেন রেফারি। বাজল পেনাল্টির বাঁশি।
সেই পেনাল্টিতেই সেনেগালের হৃদয় ভাঙলেন বেলজিয়ান ফরোয়ার্ড টিলেমান্স। তাঁর নিখুঁত কিকে বল জালে জড়াতেই নিশ্চিত হলো শেষ ষোলোয় যাচ্ছে বেলজিয়াম। আর ‘তীরে এসে তরী ডোবায়’ কান্নায় ভেঙে পড়লেন সেনেগালের খেলোয়াড়-সমর্থকরা।
অথচ ম্যাচের বেশিরভাগ সময় গল্পটা ছিল সম্পূর্ণ উল্টো।
২৪ মিনিটে সাদিও মানের ক্রস থেকে সারের লাগে হেড পোস্টে। তবে ফিরতি বল পেয়ে হাবিব দিয়ারা গোল করে সেনেগালকে এগিয়ে নেন। বিরতিতে পিছিয়ে থেকে বেলজিয়ামের কোচ টেডেসকো মাঠে নামালেন লুকাকুকে। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ৫১ মিনিটে আবার আঘাত হানে সেনেগাল। নিয়াখাতের লম্বা পাস বুকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দুর্দান্ত শটে গোল করেন সার। ২-০। বেলজিয়ামের বিদায় তখন সময়ের অপেক্ষামাত্র।
কিন্তু ফুটবল মাঝে মাঝে রূপকথা লেখে।
৮৬ মিনিটে মুনিয়েরের ক্রস থেকে লুকাকু ব্যবধান কমালেন। মাত্র তিন মিনিট পর ত্রোসারের ক্রসে হেডে সমতা ফেরালেন টিলেমান্স। দুই গোলে পিছিয়ে থেকে মাত্র তিন মিনিটে সমতায় ফেরা— চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম অবিশ্বাস্য মুহূর্ত।
অতিরিক্ত সময়ে সেনেগাল আর নিজেদের খুঁজে পেল না। আক্রমণের ধার কমে গেল। বেলজিয়াম বরং বেশি সুযোগ তৈরি করল। এরপর এল সেই বিতর্কিত মুহূর্ত— ১১৯ মিনিটে বক্সে টিলেমান্সের পায়ের সঙ্গে কামারার সামান্য ধাক্কা লাগল। পেনাল্টির দাবি করলেন বেলজিয়ামের খেলোয়াড়রা। রেফারি ভিএআর চেক করলেন, পেনাল্টি। সেনেগালের খেলোয়াড়রা প্রতিবাদ করলেন, কিন্তু সিদ্ধান্ত বদলাল না।
প্রচণ্ড চাপেও এক মুহূর্ত দ্বিধা করলেন না টিলেমান্স। শট নিলেন জালের উপরের কর্নারে। বল জালে জড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে, বেলজিয়ামের তরী চলতি বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় ভিড়ল।
শেষ ষোলোয় বেলজিয়ামের প্রতিপক্ষ হবে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র।
.png)






-3c3626-256x144.webp)