আরাকান আর্মির প্রধান তোয়ান ম্রাত নাইং-এর বিশেষ সাক্ষাৎকার
মিয়ানমারের অন্যতম আলোচিত সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)। গোষ্ঠীটির রাজনৈতিক শাখা ইউনাইটেড লিগ অব আরাকান (ইউএলএ)-২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর বর্তমানে তারা আরাকান অঞ্চলের প্রায় ৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। আরাকান আর্মির প্রধান তোয়ান ম্রাত নাইং প্রথমবারের মতো কোনো বিদেশি সাংবাদিককে (দ্য ডিপ্লোম্যাটের রাজীব ভট্টাচার্য) সরাসরি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। গত ২ মার্চ আরাকানের গহিন জঙ্গলে এই সাক্ষাৎকারটি অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকারে তিনি মিয়ানমারের জান্তা সরকারের সঙ্গে আলোচনা, বাংলাদেশ ও ভারতের সাথে সম্পর্ক, মানবিক করিডোর এমনকি রোহিঙ্গা ইস্যুতে পাকিস্তান ও তুরস্কের আগ্রহের বিষয়গুলো নিয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন। নীচে সাক্ষাৎকারটির বাংলা অনুবাদ তুলে ধরা হলো-
মুজাহিদুল ইসলাম

দ্য ডিপ্লোম্যাট: আপনার অতীত সম্পর্কে কিছু বলবেন? কীভাবে আপনি আরাকান আর্মির নেতা হলেন?
তোয়ান ম্রাত নাইং: আমি সিত্তওয়ের একটি ল স্কুলে (আইন কলেজ) পড়াশোনা করেছি, কিন্তু কোর্স শেষ করতে পারিনি। আমি ছাত্রনেতা হিসেবে সক্রিয় ছিলাম। একদিন, যখন আমি নবম শ্রেণিতে পড়ি, সামরিক বাহিনীর সঙ্গে আমার একটা সংঘর্ষ হয়। তবে গুরুতর কিছু ঘটেনি। সেটাই ছিল সামরিক বাহিনীর সঙ্গে আমার প্রথম মুখোমুখি হওয়া।
নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে আমি সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে শুরু করি। প্রথমবার যাই ১৯৯৮ সালে, 'অপারেশন লিচ'-এর সময় কিছু আরাকানি বিপ্লবীর মৃত্যুর পর। আরাকান লিবারেশন পার্টি এবং ন্যাশনাল ইউনাইটেড পার্টি অফ আরাকানের শুরু করা আন্দোলন থেকে আমরা অনেক কিছু শিখেছিলাম, কিন্তু দ্রুতই বুঝতে পারি যে এই গোষ্ঠীগুলো আমাদের ধারণার মতো এতটা শক্তিশালী নয়। আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে আমাদের মধ্যে ঐক্য প্রয়োজন। ২০০৬ সাল পর্যন্ত আমরা আশা করছিলাম যে সব রাখাইন গোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারব।
ওই বছরই আমি বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই ভারতে যাই। মণিপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে আমরা ইম্ফলে থাকি এবং এরপর আসামের গুয়াহাটিতে যাই। সেখানে ত্রিপুরার একজন নেতাসহ অনেক নেতার সঙ্গে আমাদের মতবিনিময় হয়। গুয়াহাটি থেকে আমরা ট্রেনে করে দিল্লি যাই। দিল্লিতে আমরা ২০ দিন ছিলাম এবং বিকাশপুরীতে আরাকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের প্রথম সভায় যোগ দিই। সেখানকার নেতারা ছোটখাটো বিষয় নিয়ে ঝগড়া করছিলেন। তখনই আমি নিশ্চিত হয়েছিলাম যে আমরা যে ঐক্য চাইছি, তা অর্জন করা অসম্ভব। আমি বুঝতে পারলাম, এদের পেছনে সময় নষ্ট করা ঠিক হবে না।
এরপর আমি কাচিন ইন্ডিপেনডেন্স আর্মি (কেআইএ) এবং মিয়ানমারের অন্যান্য অংশের সংগঠনগুলোর সাথে সম্পর্ক স্থাপনের কথা ভাবতে শুরু করি। ইয়াঙ্গুন বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুদের মাধ্যমে কারেন ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মির সঙ্গেও যোগাযোগ স্থাপনে আমরা সফল হই। সিত্তওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন কোর্সে ভর্তি হওয়ার পাশাপাশি আমি ট্যুরিস্ট গাইড হিসেবে কাজ শুরু করি এবং রত্ন বিক্রি করতে থাকি। এসবের ফলে জার্মানি, সুইজারল্যান্ড এবং অন্যান্য দেশের পর্যটকদের মাধ্যমে আমার নেটওয়ার্ক প্রসারিত হতে থাকে। আমার যোগাযোগ থাকা কয়েকজন আমেরিকান বন্ধু আমাকে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিল, কিন্তু আমার আগ্রহ ছিল মাঠপর্যায়ের কাজে।
২০০৫ সালে আমার বিয়ে হয়ে যায় এবং আমি আমার স্ত্রীকে আরাকান নিয়ে আমার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলাম। আমার বড় ভাই, যিনি আমাদের সংগঠনের তিন নম্বর ভাইস-চেয়ারম্যান, তিনি কেআইএ-র সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে সাহায্য করেছিলেন। কাচিন রাজ্যে যাওয়ার জন্য আমি আমার ওমেগা ঘড়িটি ৪০০ ডলারে বিক্রি করে দিই। ২০০৬ সালে কাচিনে আমার প্রথম সফরটি ছিল মূলত কেআইএ-র সাথে মতবিনিময় করা এবং সেখানে দুই সপ্তাহ ধরে তাদের প্রশিক্ষণ পর্যবেক্ষণ করা। কেআইএ-র সাথে বিশ্বাস অর্জন করতে আমাদের তিন বছর সময় লেগেছিল। কেআইএ তখন সরকারের সাথে যুদ্ধবিরতিতে ছিল, এবং সংগঠনটিকে সীমান্ত রক্ষী বাহিনীতে (বর্ডার গার্ড) রূপান্তরিত করার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। এই প্রস্তাব নিয়ে কেআইএ-র ভেতরেই মতভেদ ছিল। আমরা ২০০৮ সালে কেআইএ থেকে প্রশিক্ষণের সবুজ সংকেত পাই এবং এক বছর পর প্রশিক্ষণ শুরু হয়। আমরা আমাদের ৫০ জন সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা করলেও কেআইএ মাত্র ২৬ জন প্রশিক্ষণার্থী গ্রহণ করেছিল। কাচিন যাওয়ার পথে আমাদের কয়েকজন বন্ধু সামরিক গোয়েন্দাদের হাতে ধরা পড়েছিল।
আমরা ভেবেছিলাম দুই বছর পর ২০০টি রাইফেল নিয়ে কাচিন থেকে ফিরব। আমরা সামরিক বিষয়ে জ্ঞান লাভ করি। আমিও সামরিক কৌশল ও রণনীতি নিয়ে প্রচুর পড়াশোনা শুরু করি। ওই একই সময়ে, আমরা থাইল্যান্ড-মিয়ানমার সীমান্তে বিদেশে পড়াশোনা করা তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করি এবং প্রশিক্ষণের জন্য নতুন সদস্য খুঁজতে শুরু করি। কেআইএ কিছুটা উদ্বিগ্ন ছিল কারণ এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিগুলো গোপন রাখতে হতো (যেহেতু তারা মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর সাথে যুদ্ধবিরতিতে ছিল)। দুই বছরে আমরা প্রায় ৩০০ জন কর্মীকে প্রশিক্ষণ দিতে সক্ষম হই। মাঝে মাঝে আমাদের রেশন শেষ হয়ে যেত, এজন্য পরে আমরা সীমান্ত বরাবর জেড (মূল্যবান পাথর) ব্যবসার সাথে যুক্ত হই। আমাদের নেটওয়ার্ক বাড়ানোর জন্য ২০১৩ সালে আমরা ১৯ জনকে গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল এলাকায় এবং বাংলাদেশ সীমান্তে পাঠাই। শান রাজ্যের কোকাং এবং পালাউং গোষ্ঠীর সাথেও আমরা সুসম্পর্ক গড়ে তুলি। এসব এলাকা থেকে আমরা কিছু অস্ত্র সংগ্রহ করতে সক্ষম হই।
আরাকান আর্মির সঙ্গে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর প্রথম সংঘর্ষ হয় ২০১৫ সালের ২৮ মার্চ। বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে পালেতোয়াতে ঘটা সেই সংঘর্ষে আমরা মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর একজন ক্যাপ্টেনকে হত্যা করেছিলাম।
দ্য ডিপ্লোম্যাট: আপনার কোনো সামরিক বাহিনীতে কাজ করার অভিজ্ঞতা নেই, তবুও সামরিকভাবে আরাকান আর্মি যা অর্জন করেছে তা বিস্ময়কর। আপনার এই সাফল্যের পেছনে কোন বিষয়গুলো কাজ করেছে?
তোয়ান ম্রাত নাইং: কিছু বিষয় আছে যা আপনাকে বলতে হবে কিন্তু করতে হবে না। কিছু জিনিস আছে যা আপনি করেন কিন্তু বলেন না, আবার কিছু জিনিস আছে যা আপনি বলেন এবং করেন। রাখাইন রাজ্য একটি ছোট্ট ভূখণ্ড, কিন্তু আমরা আগে এতটা ছোট ছিলাম না। এক টুকরো ভূখণ্ড নিয়ে ঝগড়া করার পরিবর্তে আমাদের যা করা দরকার সেটাই করতে হবে। শুধু এলাকা দখলের আকাঙ্ক্ষার কথা বলার চেয়ে লক্ষ্যের প্রতি অবিচল থাকা অনেক বেশি ভালো।
আমাদের সাফল্যের পেছনে অনেক কারণ রয়েছে। তবে আমরা এখনও অসাধারণ কোনো সাফল্যের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারিনি। আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে, মনোযোগ ধরে রাখতে হবে এবং সীমিত সম্পদের মধ্যেই কাজ চালিয়ে নিতে হবে।
আমাদের সাফল্যের প্রধান কারণ হলো জনগণের সমর্থন। আমরা আরাকানের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন করে বিশ্বাস স্থাপন করতে পেরেছি। আগে অনেক অবিশ্বাস ছিল, বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়গুলোর সাথে; ২০১২ এবং ২০১৭ সালে তাদের সঙ্গে যা ঘটেছিল, সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশকে মিয়ানমার থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। স্বাভাবিক সময়ে তাদের কাছে পৌঁছানো অসম্ভব হতো। তারাও বন্ধু খুঁজছিল এবং আমরা তাদের কাছে আমাদের এজেন্ডা ব্যাখ্যা করেছিলাম, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল।
ভৌগোলিক অবস্থান বা ভূপ্রকৃতিও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। সামরিক বাহিনীর উন্নত অবকাঠামো ছিল। আমাদের সম্পদ সীমিত ছিল, কিন্তু আমরা সেগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার করেছি। আমি আমার সৈন্য এবং কর্মকর্তাদের নিয়ে অত্যন্ত গর্বিত, যারা যুদ্ধে চরম সাহসিকতা এবং দক্ষতা দেখিয়েছে। আমাদের সদর দপ্তর স্যাটেলাইট যোগাযোগসহ উপলব্ধ সব প্রযুক্তি কার্যকরভাবে ব্যবহার করেছে এবং সেগুলোকে একত্র করে একটি শক্তিশালী যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে।
পেছন ফিরে তাকালে, যখন আমি মূল্যায়ন করি, তখন দেখি যে আমার পুরো টিমে প্রচুর নিবেদিতপ্রাণ মানুষ রয়েছে। আমি তাদের সাথে দারুণ সমন্বয় রেখে কাজ করতে পেরেছি।
দ্য ডিপ্লোম্যাট: ২০২৫ সালটি ছিল এক অচলাবস্থার বছর। আরাকান আর্মি কিয়াউকফিউ এবং সিত্তওয়েতে আক্রমণ চালানো থেকে বিরত ছিল, কিন্তু তারা অন্যান্য প্রতিরোধ গোষ্ঠীর সঙ্গে জোট করে বার্মিজ মূল ভূখণ্ডে অভিযান চালিয়েছে। এটি কি কৌশলের কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়?
তোয়ান ম্রাত নাইং: কৌশলগত বিষয়ে বিস্তারিত বলার সময় এখনও আসেনি। এটা বলা খুব তড়িঘড়ি হয়ে যাবে।
দ্য ডিপ্লোম্যাট: এমন একটি জল্পনা রয়েছে যে আরাকান আর্মি সামরিক বাহিনীর কাছ থেকে আপস-মীমাংসার কোনো প্রস্তাবকে স্বাগত জানাতে পারে…
তোয়ান ম্রাত নাইং: রাজনৈতিক সংলাপ এবং স্থিতিশীলতা সবার স্বার্থেই প্রয়োজন। আমাদের রাজনৈতিকভাবে পরিপক্ব হতে হবে। আমি এটুকু বলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে চাই।
দ্য ডিপ্লোম্যাট: প্রায় এক মাস আগে আরাকানের এই অঞ্চলে ছয়টি বিমান হামলা হয়েছিল। পোন্নাগিউন টাউনশিপের একটি এলাকায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়। এখন নির্বাচন শেষ হওয়ায় আরও বিমান হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। এই বিপদ মোকাবিলায় আপনার পরিকল্পনা কী?
তোয়ান ম্রাত নাইং: বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তাই আমাদের অগ্রাধিকার। আমরা বেসামরিক জনগণের কার্যকর সুরক্ষার জন্য প্রতিটি বিকল্প খতিয়ে দেখছি। কাজটি বেশ কঠিন। এই বিমান হামলাগুলোর রেকর্ড রাখতে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করছি, কিন্তু সেগুলো খুব একটা কার্যকর হয়নি। এটি অত্যন্ত গুরুতর মানবিক উদ্বেগের বিষয়। আর এ কারণেই, যতদিন সামরিক বাহিনী বেসামরিক মানুষের ওপর বোমা হামলা চালাবে, ততদিন রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার কথা ভাবা আমাদের জন্য খুব কঠিন হবে। সামরিক সরকার নিজেদের শক্তির জায়গা থেকে কথা বলতে চায়। কিন্তু আমরা এ ধরনের চাপের কাছে মাথা নত করব না।
দ্য ডিপ্লোম্যাট: দুই বছর আগে চীনে মিয়ানমার জান্তার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আরাকান আর্মির আলোচনা হয়েছিল। তখন আপনারা জোর দিয়েছিলেন যে জান্তা বাহিনীকে আরাকানে মোতায়েন করা যাবে না, এবং সেই আলোচনা ভেস্তে যায়। আপনারা কি এখন আবারও সরকারের সঙ্গে এমন আলোচনায় বসতে ইচ্ছুক?
তোয়ান ম্রাত নাইং: আপনি ঠিক বলেছেন; আমরা সেটাই চেয়েছিলাম। সরকার চায় আমরা ২০২৩ সালের আগের অবস্থানে ফিরে যাই। সেক্ষেত্রে, আমরাও ১৭৮৪ সালের আগে ফিরে যেতে চাই (১৭৮৪ সালে স্বাধীন রাজ্য হিসেবে আরাকানের অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়)। অবাস্তব বিষয় দাবি করার পরিবর্তে, সরকারের উচিত বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং আন্তরিক আলোচনার দিকে মনোনিবেশ করা। আলোচনা কখনওই মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া উচিত নয়।
দ্য ডিপ্লোম্যাট: ২০২৩ সালে যখন আমি সাগাইং অঞ্চল এবং চিন রাজ্য পরিদর্শন করি, তখন বেশ কয়েকটি প্রতিরোধ গোষ্ঠীর নেতাদের সঙ্গে দেখা হয়েছিল। তাদের অধিকাংশই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন যে ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ সামরিক সরকারের পতন ঘটবে। কিন্তু তা হয়নি। উল্টো, কিছু অঞ্চলে সামরিক বাহিনী ফিরে এসেছে। আপনি বিষয়টিকে কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?
তোয়ান ম্রাত নাইং: ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট (এনইউজি) একটি গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ। আমরা তাদের সম্মান করি। এছাড়াও আরও কিছু পক্ষ আছে। আমরা চাই একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য সবাই একসাথে এগিয়ে আসুক। বর্তমান পরিস্থিতি এখনও বেশ অনিশ্চিত। সামরিক সরকার যে কৌশল অবলম্বন করেছে, তাতে সামনে আরও রক্তপাত হবে।
দ্য ডিপ্লোম্যাট: এবার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আপনাদের সম্পর্ক নিয়ে কিছু বলুন। আপনারা ইতিমধ্যে বাংলাদেশের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সাধারণ ধারণা হলো, বিএনপি সরকার চরমপন্থী অবস্থান নেওয়া এড়িয়ে চলবে এবং আরাকানের বিষয়ে দ্বৈত নীতি অনুসরণ করবে—রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নিতে আরাকান আর্মিকে চাপ দেবে, পাশাপাশি রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও) এবং আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা)-র মতো রোহিঙ্গা জঙ্গি সংগঠনগুলোকে অস্ত্র সরবরাহ করবে। নতুন সরকারের কাছে আপনাদের প্রত্যাশা কী?
তোয়ান ম্রাত নাইং: আমাদের প্রত্যাশা হলো, একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করার জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে একত্রে কাজ করতে সক্ষম হওয়া। প্রথমত, এই অঞ্চলের বিদ্যমান পক্ষগুলোর ওপর মিথ্যা অভিযোগ চাপানোর পরিবর্তে তাদের ক্ষমতায়ন করতে হবে। 'আরাকান পিপলস রেভল্যুশনারি গভর্নমেন্ট'-কে ক্ষমতায়ন করা ছাড়া অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করা খুব কঠিন হবে। আমরা শরণার্থীদের প্রত্যাবর্তনের জন্য একটি অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করতে চাই। জনগণের সমস্যাগুলো সমাধান করাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। কিন্তু জঙ্গি সংগঠনগুলোর কার্যকলাপ আরও সমস্যা সৃষ্টি করবে। তবে আমরা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত।
দ্য ডিপ্লোম্যাট: মিয়ানমার সামরিক বাহিনী রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র দিয়েছে। সামরিক বাহিনী এখন আরও আক্রমণাত্মক হতে পারে। বাংলাদেশ সীমান্তে মংডুর খুব কাছেই আরএসও এবং আরসা-এর ক্যাম্প রয়েছে। আরাকান আর্মিকে যে দুটি ফ্রন্টে যুদ্ধ করতে হতে পারে, সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
তোয়ান ম্রাত নাইং: আমরা সেই পরিস্থিতি এড়াতে সবকিছু করব, কারণ এতে আমাদের কোনো লাভ হবে না। এটি বাংলাদেশের স্বার্থের অনুকূলেও হবে না।
দ্য ডিপ্লোম্যাট: আপনারা কি চান বাংলাদেশের সঙ্গে অবিলম্বে বাণিজ্য আবার শুরু হোক?
তোয়ান ম্রাত নাইং: হ্যাঁ। সীমান্তের দুই পারের অনেক ব্যবসায়ী ও সংগঠন বাণিজ্য আবার শুরু হওয়ার অপেক্ষায় আছে। বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ এবং সীমান্ত এলাকায় অনেক মানুষ ও সম্প্রদায় রয়েছে, বিশেষ করে জেলেরা, যারা সীমান্ত বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল। মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা মেনে নেওয়া হলে এই সমস্যাগুলো সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে সমাধান করা সম্ভব। এটি হয়ে গেলে, আমরাও ইতিবাচক সাড়া দেব। আমরা জেলেদের অনুমতি দেব এবং তাদের কার্যক্রমগুলো নিয়ন্ত্রণ করব।
দ্য ডিপ্লোম্যাট: বাংলাদেশে 'মানবিক করিডোর' (হিউম্যানিটারিয়ান করিডোর) বিষয়টি কী ছিল? যুক্তরাষ্ট্র কি সত্যিই এতে যুক্ত হতে আগ্রহী ছিল?
তোয়ান ম্রাত নাইং: আমার মনে হয় না যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই আগ্রহী ছিল। কেবল কিছু এনজিও এবং ব্যক্তি এতে আগ্রহী ছিল, আর সম্ভবত অন্যান্য কিছু বৈশ্বিক পক্ষ এই প্রকল্পে আগ্রহ দেখিয়েছিল। এই পরিকল্পনা নিয়ে গণমাধ্যমে প্রচুর মাতামাতি হয়েছিল। কিন্তু এটি বাস্তবসম্মত নয়, কারণ রাখাইন রাজ্যে যুদ্ধ চলছে। যুদ্ধক্ষেত্রে শরণার্থীদের ঠেলে দেওয়া কোনোভাবেই মানবিক নয়। এমনকি যুদ্ধের পরও, শরণার্থীদের ফিরে আসার জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ থাকতে হবে।
দ্য ডিপ্লোম্যাট: পাকিস্তান ও তুরস্ক কেন রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সাথে যুক্ত হচ্ছে?
তোয়ান ম্রাত নাইং: এটি বেশ উদ্বেগজনক এবং (রোহিঙ্গাদের মধ্যে চরমপন্থা) উসকে দেওয়ার অন্যতম একটি কারণ। এটি বাংলাদেশ এবং আমাদের—উভয় পক্ষের জন্যই খারাপ। আমরা আশা করি যে বিএনপি সরকার সঠিক নীতি ও পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। মাঝে মাঝে নীতি সঠিক হলেও তার বাস্তবায়ন ভুল পথে চলে যায়।
দ্য ডিপ্লোম্যাট: আপনি কি মনে করেন পাকিস্তান ভারতকে লক্ষ্যবস্তু করতে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করতে পারে?
তোয়ান ম্রাত নাইং: শরণার্থীদের অপব্যবহার করা হতে পারে এবং আমাদের সেদিকে নজর রাখতে হবে। ভারতের সঙ্গে আমাদের অভিন্ন নিরাপত্তা উদ্বেগ রয়েছে। এই অঞ্চলে জঙ্গিবাদ ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং তা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। আমরা আমাদের প্রতিবেশীদের সঙ্গে সহযোগিতায় প্রস্তুত।
দ্য ডিপ্লোম্যাট: ভারত সরকারের কাছে আপনাদের প্রত্যাশা কী?
তোয়ান ম্রাত নাইং: ভারত এই অঞ্চলের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র। আমরা ভারতকে আরও উন্নত এবং সফল দেখতে চাই। আমরা ভারতের সঙ্গে আরও বেশি সহযোগিতা করার আশা রাখি। কালাদান প্রকল্পে সাহায্য করতেও আমরা প্রস্তুত।
দ্য ডিপ্লোম্যাট: যুদ্ধ থামানোর জন্য আরাকান আর্মি চীনের তরফ থেকে প্রবল চাপের মধ্যে রয়েছে। আপনারা কীভাবে এর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন?
তোয়ান ম্রাত নাইং: এটা চাপ নয়, তবে চীন একটি স্থিতিশীল মিয়ানমার দেখতে আগ্রহী। কেউ কেউ একে চাপ বলতে পারে। চীনকে তার নিজের স্বার্থ রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে, যা প্রতিটি দেশই করে থাকে।
দ্য ডিপ্লোম্যাট: আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে রোহিঙ্গা, খুমি এবং চিন গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে প্রায়ই অভিযোগ তোলা হয় যে, আরাকান আর্মি জোরপূর্বক বাহিনীতে নিয়োগ করছে। এ বিষয়ে আপনার কী বলার আছে?
তোয়ান ম্রাত নাইং: কিছু মানুষ মানবাধিকার আইনকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। আপনি যদি এই অভিযোগগুলোর উৎস খতিয়ে দেখেন, তবে দেখবেন কিছু নির্দিষ্ট গোষ্ঠী, বিশেষ করে প্রবাসী অ্যাক্টিভিস্টরা এই ধরনের অভিযোগ তুলছে, কারণ এই ধরনের বয়ান থেকে তারা লাভবান হয়। চিনের মানবাধিকার কর্মীরা পুরো চিন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করে না। চিন রাজ্যের বেশিরভাগ চিন সম্প্রদায়ের সাথেই আমাদের খুব ভালো সম্পর্ক রয়েছে। আমরা একে অপরকে সাহায্য করি এবং আগামী দিনগুলোতে মুসলিম (রোহিঙ্গা) সম্প্রদায়ের সঙ্গেও আমাদের আরও ভালো সহযোগিতা তৈরি হবে। আমরা বিশ্বাস তৈরি করছি, যার জন্য সময় প্রয়োজন। পূর্ববর্তী সরকারের ভুল নীতির কারণেই এই অভিযোগগুলো উঠেছিল। আর জোরপূর্বক সেনা নিয়োগের বিষয়ে যদি বলি, রাখাইন রাজ্য এখন একটি যুদ্ধ পরিস্থিতি পার করছে এবং সেখানে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। সেনা নিয়োগের ক্ষেত্রে আমরা অত্যন্ত সতর্ক থাকি এবং যাকে নিয়োগ দেওয়া হয়, তাকে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য ভালোভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
দ্য ডিপ্লোম্যাট: আপনি স্পষ্ট করেছেন যে আরাকান আর্মি মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত নয়। কিন্তু মাত্র তিন দিন আগেই রাখাইন রাজ্যের মংডুর এক ব্যক্তিকে ভারতের মিজোরাম রাজ্যে বিপুল পরিমাণ সিনথেটিক মাদকসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আপনি কি মনে করেন না যে এটি আরাকানের জন্য একটি উদীয়মান চ্যালেঞ্জ?
তোয়ান ম্রাত নাইং: এটি একটি জটিল পরিস্থিতি। সামরিক শাসনের সময়ের তুলনায় রাখাইন রাজ্যে এখন মাদকের সমস্যা অনেক কম। মূল ভূখণ্ড থেকে আসার অনেকগুলো পথ এখন অবরুদ্ধ। সেখানে প্রচুর চেকপয়েন্ট রয়েছে। (মিয়ানমারে) মাদকের উৎপাদন এখন শিল্পের পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত মাসে শান রাজ্যে সবচেয়ে বড় মাদকের চালান ধরা পড়েছে। জান্তা সরকার সেসময় কিছু অর্থহীন অভিযোগ তুলেছিল। পুরো কারখানা এলাকাটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। অথচ তারা দীর্ঘদিন ধরেই ওই কারখানাটির অস্তিত্বের কথা জানত।
আমরা এটা বলতে পারি না যে রাখাইন রাজ্য থেকে মাদকের সমস্যা পুরোপুরি নির্মূল হয়ে গেছে। এখানে এখনও মাদকাসক্ত এবং পাচারকারী রয়েছে। মাছ ধরার নৌকাগুলো ক্রমাগত যাতায়াত করছে, আর আমরা জানি না তারা কী বহন করছে। রেঙ্গুন থেকে জাহাজগুলো বাংলাদেশের কক্সবাজার এবং চট্টগ্রামে যাচ্ছে। এই সমস্যাটি পুরোপুরি নির্মূল করতে সময় লাগবে।
দ্য ডিপ্লোম্যাট: গত কয়েকদিনে আমি মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তের কিছু গ্রাম পরিদর্শন করেছি এবং কিছু বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলেছি। রোহিঙ্গা নয় এমন গ্রামগুলো এবং কিছু রোহিঙ্গা গ্রাম আরসার ভয়ে সবসময় তটস্থ থাকে। আপনাদের সরকার এখানে নিজেদের অবস্থান এখনও সুসংহত করতে পারেনি। এই এলাকাগুলো নিয়ে আপনাদের পরিকল্পনা কী?
তোয়ান ম্রাত নাইং: বিষয়টি এত সহজ নয়। আমরা এই অঞ্চলের প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে, বিশেষ করে ম্রো-অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে সহায়তা প্রদান করছি। তাদের একটি অংশ মাদক পাচারের সাথে জড়িত। আমরা এমন খবরও পাচ্ছি যে তাদের মধ্যে কেউ কেউ আরসার সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। অনেকেই অভ্যন্তরীণ সংঘাতে নিহত হয়েছে, যা খুব একটা আশ্চর্যজনক নয়। মংডু মুক্ত হওয়ার আগে, সামরিক বাহিনী এবং দিল মোহাম্মদের মতো মাদক সম্রাটরা মাদক পাচারে খুব সক্রিয় ছিল। আমরা এখন ওই অঞ্চলের দিকে মনোযোগ দিচ্ছি, যাতে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য আরও ভালো নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
দ্য ডিপ্লোম্যাট: সেখানে ডাক্তার ও ওষুধেরও তীব্র সংকট রয়েছে। অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের অবস্থা খুবই হতাশাজনক।
তোয়ান ম্রাত নাইং: আমরা এই সমস্যাগুলোর সমাধানে কাজ করছি এবং স্বাস্থ্যসেবাসহ অন্যান্য পরিষেবার উন্নতি করার চেষ্টা করছি। আমরা আরও সরঞ্জাম সংগ্রহ, ওষুধের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং আরও ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছি। আমরা রাখাইন রাজ্যে একটি মেডিকেল কলেজ ও নার্সিং একাডেমি খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং এই উদ্যোগগুলো নিয়ে আমরা খুবই উচ্ছ্বসিত। এ বছর ১২০ জন নার্সকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। বর্তমানে আমাদের ৫০-৬০ জন ডাক্তার আছেন এবং আশা করছি শিগগিরই আরও অনেকেই আমাদের সঙ্গে যোগ দেবেন। ডাক্তার এবং নার্সদের অতীত পটভূমি বা জাতিসত্তা নিয়ে আমরা ভাবি না। ভারতীয় ডাক্তারসহ যে কেউ আমাদের সঙ্গে যোগ দিতে চাইলে আমরা তাদের স্বাগত জানাব।
দ্য ডিপ্লোম্যাট: আগামী মাসগুলোতে ‘বসন্ত বিপ্লব’ থেকে আপনারা কী প্রত্যাশা করছেন?
তোয়ান ম্রাত নাইং: বসন্ত বিপ্লবের পরিণতি নির্ধারণে কেবল আরাকান আর্মির প্রত্যাশাই যথেষ্ট নয়। আমাদের বার্মিজ মূল ভূখণ্ডের জনগণ, তাদের সমস্যা এবং স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনায় নিতে হবে। আমরা তাদের পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণ সম্মান করি। তাদের সঙ্গে আমাদের আন্তরিক সম্পর্ক রয়েছে এবং আমরা সমমনা সংগঠনগুলোকেও সাহায্য করেছি।
দ্য ডিপ্লোম্যাট: আগামী দুই বছরে আরাকানের সার্বিক পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে বলে আপনার মনে হয়?
তোয়ান ম্রাত নাইং: আমি চাই মানুষের এই দুর্ভোগের যত দ্রুত সম্ভব অবসান হোক এবং একটি বাস্তবসম্মত ও স্থায়ী সমাধান খুঁজে পাওয়া যাক। মিয়ানমারের জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য আমাদের সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্যও প্রস্তুত থাকতে হবে।

মিয়ানমারের অন্যতম আলোচিত সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)। গোষ্ঠীটির রাজনৈতিক শাখা ইউনাইটেড লিগ অব আরাকান (ইউএলএ)-২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর বর্তমানে তারা আরাকান অঞ্চলের প্রায় ৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। আরাকান আর্মির প্রধান তোয়ান ম্রাত নাইং প্রথমবারের মতো কোনো বিদেশি সাংবাদিককে (দ্য ডিপ্লোম্যাটের রাজীব ভট্টাচার্য) সরাসরি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। গত ২ মার্চ আরাকানের গহিন জঙ্গলে এই সাক্ষাৎকারটি অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকারে তিনি মিয়ানমারের জান্তা সরকারের সঙ্গে আলোচনা, বাংলাদেশ ও ভারতের সাথে সম্পর্ক, মানবিক করিডোর এমনকি রোহিঙ্গা ইস্যুতে পাকিস্তান ও তুরস্কের আগ্রহের বিষয়গুলো নিয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন। নীচে সাক্ষাৎকারটির বাংলা অনুবাদ তুলে ধরা হলো-
দ্য ডিপ্লোম্যাট: আপনার অতীত সম্পর্কে কিছু বলবেন? কীভাবে আপনি আরাকান আর্মির নেতা হলেন?
তোয়ান ম্রাত নাইং: আমি সিত্তওয়ের একটি ল স্কুলে (আইন কলেজ) পড়াশোনা করেছি, কিন্তু কোর্স শেষ করতে পারিনি। আমি ছাত্রনেতা হিসেবে সক্রিয় ছিলাম। একদিন, যখন আমি নবম শ্রেণিতে পড়ি, সামরিক বাহিনীর সঙ্গে আমার একটা সংঘর্ষ হয়। তবে গুরুতর কিছু ঘটেনি। সেটাই ছিল সামরিক বাহিনীর সঙ্গে আমার প্রথম মুখোমুখি হওয়া।
নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে আমি সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে শুরু করি। প্রথমবার যাই ১৯৯৮ সালে, 'অপারেশন লিচ'-এর সময় কিছু আরাকানি বিপ্লবীর মৃত্যুর পর। আরাকান লিবারেশন পার্টি এবং ন্যাশনাল ইউনাইটেড পার্টি অফ আরাকানের শুরু করা আন্দোলন থেকে আমরা অনেক কিছু শিখেছিলাম, কিন্তু দ্রুতই বুঝতে পারি যে এই গোষ্ঠীগুলো আমাদের ধারণার মতো এতটা শক্তিশালী নয়। আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে আমাদের মধ্যে ঐক্য প্রয়োজন। ২০০৬ সাল পর্যন্ত আমরা আশা করছিলাম যে সব রাখাইন গোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারব।
ওই বছরই আমি বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই ভারতে যাই। মণিপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে আমরা ইম্ফলে থাকি এবং এরপর আসামের গুয়াহাটিতে যাই। সেখানে ত্রিপুরার একজন নেতাসহ অনেক নেতার সঙ্গে আমাদের মতবিনিময় হয়। গুয়াহাটি থেকে আমরা ট্রেনে করে দিল্লি যাই। দিল্লিতে আমরা ২০ দিন ছিলাম এবং বিকাশপুরীতে আরাকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের প্রথম সভায় যোগ দিই। সেখানকার নেতারা ছোটখাটো বিষয় নিয়ে ঝগড়া করছিলেন। তখনই আমি নিশ্চিত হয়েছিলাম যে আমরা যে ঐক্য চাইছি, তা অর্জন করা অসম্ভব। আমি বুঝতে পারলাম, এদের পেছনে সময় নষ্ট করা ঠিক হবে না।
এরপর আমি কাচিন ইন্ডিপেনডেন্স আর্মি (কেআইএ) এবং মিয়ানমারের অন্যান্য অংশের সংগঠনগুলোর সাথে সম্পর্ক স্থাপনের কথা ভাবতে শুরু করি। ইয়াঙ্গুন বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুদের মাধ্যমে কারেন ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মির সঙ্গেও যোগাযোগ স্থাপনে আমরা সফল হই। সিত্তওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন কোর্সে ভর্তি হওয়ার পাশাপাশি আমি ট্যুরিস্ট গাইড হিসেবে কাজ শুরু করি এবং রত্ন বিক্রি করতে থাকি। এসবের ফলে জার্মানি, সুইজারল্যান্ড এবং অন্যান্য দেশের পর্যটকদের মাধ্যমে আমার নেটওয়ার্ক প্রসারিত হতে থাকে। আমার যোগাযোগ থাকা কয়েকজন আমেরিকান বন্ধু আমাকে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিল, কিন্তু আমার আগ্রহ ছিল মাঠপর্যায়ের কাজে।
২০০৫ সালে আমার বিয়ে হয়ে যায় এবং আমি আমার স্ত্রীকে আরাকান নিয়ে আমার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলাম। আমার বড় ভাই, যিনি আমাদের সংগঠনের তিন নম্বর ভাইস-চেয়ারম্যান, তিনি কেআইএ-র সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে সাহায্য করেছিলেন। কাচিন রাজ্যে যাওয়ার জন্য আমি আমার ওমেগা ঘড়িটি ৪০০ ডলারে বিক্রি করে দিই। ২০০৬ সালে কাচিনে আমার প্রথম সফরটি ছিল মূলত কেআইএ-র সাথে মতবিনিময় করা এবং সেখানে দুই সপ্তাহ ধরে তাদের প্রশিক্ষণ পর্যবেক্ষণ করা। কেআইএ-র সাথে বিশ্বাস অর্জন করতে আমাদের তিন বছর সময় লেগেছিল। কেআইএ তখন সরকারের সাথে যুদ্ধবিরতিতে ছিল, এবং সংগঠনটিকে সীমান্ত রক্ষী বাহিনীতে (বর্ডার গার্ড) রূপান্তরিত করার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। এই প্রস্তাব নিয়ে কেআইএ-র ভেতরেই মতভেদ ছিল। আমরা ২০০৮ সালে কেআইএ থেকে প্রশিক্ষণের সবুজ সংকেত পাই এবং এক বছর পর প্রশিক্ষণ শুরু হয়। আমরা আমাদের ৫০ জন সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা করলেও কেআইএ মাত্র ২৬ জন প্রশিক্ষণার্থী গ্রহণ করেছিল। কাচিন যাওয়ার পথে আমাদের কয়েকজন বন্ধু সামরিক গোয়েন্দাদের হাতে ধরা পড়েছিল।
আমরা ভেবেছিলাম দুই বছর পর ২০০টি রাইফেল নিয়ে কাচিন থেকে ফিরব। আমরা সামরিক বিষয়ে জ্ঞান লাভ করি। আমিও সামরিক কৌশল ও রণনীতি নিয়ে প্রচুর পড়াশোনা শুরু করি। ওই একই সময়ে, আমরা থাইল্যান্ড-মিয়ানমার সীমান্তে বিদেশে পড়াশোনা করা তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করি এবং প্রশিক্ষণের জন্য নতুন সদস্য খুঁজতে শুরু করি। কেআইএ কিছুটা উদ্বিগ্ন ছিল কারণ এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিগুলো গোপন রাখতে হতো (যেহেতু তারা মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর সাথে যুদ্ধবিরতিতে ছিল)। দুই বছরে আমরা প্রায় ৩০০ জন কর্মীকে প্রশিক্ষণ দিতে সক্ষম হই। মাঝে মাঝে আমাদের রেশন শেষ হয়ে যেত, এজন্য পরে আমরা সীমান্ত বরাবর জেড (মূল্যবান পাথর) ব্যবসার সাথে যুক্ত হই। আমাদের নেটওয়ার্ক বাড়ানোর জন্য ২০১৩ সালে আমরা ১৯ জনকে গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল এলাকায় এবং বাংলাদেশ সীমান্তে পাঠাই। শান রাজ্যের কোকাং এবং পালাউং গোষ্ঠীর সাথেও আমরা সুসম্পর্ক গড়ে তুলি। এসব এলাকা থেকে আমরা কিছু অস্ত্র সংগ্রহ করতে সক্ষম হই।
আরাকান আর্মির সঙ্গে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর প্রথম সংঘর্ষ হয় ২০১৫ সালের ২৮ মার্চ। বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে পালেতোয়াতে ঘটা সেই সংঘর্ষে আমরা মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর একজন ক্যাপ্টেনকে হত্যা করেছিলাম।
দ্য ডিপ্লোম্যাট: আপনার কোনো সামরিক বাহিনীতে কাজ করার অভিজ্ঞতা নেই, তবুও সামরিকভাবে আরাকান আর্মি যা অর্জন করেছে তা বিস্ময়কর। আপনার এই সাফল্যের পেছনে কোন বিষয়গুলো কাজ করেছে?
তোয়ান ম্রাত নাইং: কিছু বিষয় আছে যা আপনাকে বলতে হবে কিন্তু করতে হবে না। কিছু জিনিস আছে যা আপনি করেন কিন্তু বলেন না, আবার কিছু জিনিস আছে যা আপনি বলেন এবং করেন। রাখাইন রাজ্য একটি ছোট্ট ভূখণ্ড, কিন্তু আমরা আগে এতটা ছোট ছিলাম না। এক টুকরো ভূখণ্ড নিয়ে ঝগড়া করার পরিবর্তে আমাদের যা করা দরকার সেটাই করতে হবে। শুধু এলাকা দখলের আকাঙ্ক্ষার কথা বলার চেয়ে লক্ষ্যের প্রতি অবিচল থাকা অনেক বেশি ভালো।
আমাদের সাফল্যের পেছনে অনেক কারণ রয়েছে। তবে আমরা এখনও অসাধারণ কোনো সাফল্যের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারিনি। আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে, মনোযোগ ধরে রাখতে হবে এবং সীমিত সম্পদের মধ্যেই কাজ চালিয়ে নিতে হবে।
আমাদের সাফল্যের প্রধান কারণ হলো জনগণের সমর্থন। আমরা আরাকানের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন করে বিশ্বাস স্থাপন করতে পেরেছি। আগে অনেক অবিশ্বাস ছিল, বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়গুলোর সাথে; ২০১২ এবং ২০১৭ সালে তাদের সঙ্গে যা ঘটেছিল, সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশকে মিয়ানমার থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। স্বাভাবিক সময়ে তাদের কাছে পৌঁছানো অসম্ভব হতো। তারাও বন্ধু খুঁজছিল এবং আমরা তাদের কাছে আমাদের এজেন্ডা ব্যাখ্যা করেছিলাম, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল।
ভৌগোলিক অবস্থান বা ভূপ্রকৃতিও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। সামরিক বাহিনীর উন্নত অবকাঠামো ছিল। আমাদের সম্পদ সীমিত ছিল, কিন্তু আমরা সেগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার করেছি। আমি আমার সৈন্য এবং কর্মকর্তাদের নিয়ে অত্যন্ত গর্বিত, যারা যুদ্ধে চরম সাহসিকতা এবং দক্ষতা দেখিয়েছে। আমাদের সদর দপ্তর স্যাটেলাইট যোগাযোগসহ উপলব্ধ সব প্রযুক্তি কার্যকরভাবে ব্যবহার করেছে এবং সেগুলোকে একত্র করে একটি শক্তিশালী যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে।
পেছন ফিরে তাকালে, যখন আমি মূল্যায়ন করি, তখন দেখি যে আমার পুরো টিমে প্রচুর নিবেদিতপ্রাণ মানুষ রয়েছে। আমি তাদের সাথে দারুণ সমন্বয় রেখে কাজ করতে পেরেছি।
দ্য ডিপ্লোম্যাট: ২০২৫ সালটি ছিল এক অচলাবস্থার বছর। আরাকান আর্মি কিয়াউকফিউ এবং সিত্তওয়েতে আক্রমণ চালানো থেকে বিরত ছিল, কিন্তু তারা অন্যান্য প্রতিরোধ গোষ্ঠীর সঙ্গে জোট করে বার্মিজ মূল ভূখণ্ডে অভিযান চালিয়েছে। এটি কি কৌশলের কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়?
তোয়ান ম্রাত নাইং: কৌশলগত বিষয়ে বিস্তারিত বলার সময় এখনও আসেনি। এটা বলা খুব তড়িঘড়ি হয়ে যাবে।
দ্য ডিপ্লোম্যাট: এমন একটি জল্পনা রয়েছে যে আরাকান আর্মি সামরিক বাহিনীর কাছ থেকে আপস-মীমাংসার কোনো প্রস্তাবকে স্বাগত জানাতে পারে…
তোয়ান ম্রাত নাইং: রাজনৈতিক সংলাপ এবং স্থিতিশীলতা সবার স্বার্থেই প্রয়োজন। আমাদের রাজনৈতিকভাবে পরিপক্ব হতে হবে। আমি এটুকু বলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে চাই।
দ্য ডিপ্লোম্যাট: প্রায় এক মাস আগে আরাকানের এই অঞ্চলে ছয়টি বিমান হামলা হয়েছিল। পোন্নাগিউন টাউনশিপের একটি এলাকায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়। এখন নির্বাচন শেষ হওয়ায় আরও বিমান হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। এই বিপদ মোকাবিলায় আপনার পরিকল্পনা কী?
তোয়ান ম্রাত নাইং: বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তাই আমাদের অগ্রাধিকার। আমরা বেসামরিক জনগণের কার্যকর সুরক্ষার জন্য প্রতিটি বিকল্প খতিয়ে দেখছি। কাজটি বেশ কঠিন। এই বিমান হামলাগুলোর রেকর্ড রাখতে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করছি, কিন্তু সেগুলো খুব একটা কার্যকর হয়নি। এটি অত্যন্ত গুরুতর মানবিক উদ্বেগের বিষয়। আর এ কারণেই, যতদিন সামরিক বাহিনী বেসামরিক মানুষের ওপর বোমা হামলা চালাবে, ততদিন রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার কথা ভাবা আমাদের জন্য খুব কঠিন হবে। সামরিক সরকার নিজেদের শক্তির জায়গা থেকে কথা বলতে চায়। কিন্তু আমরা এ ধরনের চাপের কাছে মাথা নত করব না।
দ্য ডিপ্লোম্যাট: দুই বছর আগে চীনে মিয়ানমার জান্তার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আরাকান আর্মির আলোচনা হয়েছিল। তখন আপনারা জোর দিয়েছিলেন যে জান্তা বাহিনীকে আরাকানে মোতায়েন করা যাবে না, এবং সেই আলোচনা ভেস্তে যায়। আপনারা কি এখন আবারও সরকারের সঙ্গে এমন আলোচনায় বসতে ইচ্ছুক?
তোয়ান ম্রাত নাইং: আপনি ঠিক বলেছেন; আমরা সেটাই চেয়েছিলাম। সরকার চায় আমরা ২০২৩ সালের আগের অবস্থানে ফিরে যাই। সেক্ষেত্রে, আমরাও ১৭৮৪ সালের আগে ফিরে যেতে চাই (১৭৮৪ সালে স্বাধীন রাজ্য হিসেবে আরাকানের অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়)। অবাস্তব বিষয় দাবি করার পরিবর্তে, সরকারের উচিত বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং আন্তরিক আলোচনার দিকে মনোনিবেশ করা। আলোচনা কখনওই মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া উচিত নয়।
দ্য ডিপ্লোম্যাট: ২০২৩ সালে যখন আমি সাগাইং অঞ্চল এবং চিন রাজ্য পরিদর্শন করি, তখন বেশ কয়েকটি প্রতিরোধ গোষ্ঠীর নেতাদের সঙ্গে দেখা হয়েছিল। তাদের অধিকাংশই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন যে ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ সামরিক সরকারের পতন ঘটবে। কিন্তু তা হয়নি। উল্টো, কিছু অঞ্চলে সামরিক বাহিনী ফিরে এসেছে। আপনি বিষয়টিকে কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?
তোয়ান ম্রাত নাইং: ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট (এনইউজি) একটি গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ। আমরা তাদের সম্মান করি। এছাড়াও আরও কিছু পক্ষ আছে। আমরা চাই একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য সবাই একসাথে এগিয়ে আসুক। বর্তমান পরিস্থিতি এখনও বেশ অনিশ্চিত। সামরিক সরকার যে কৌশল অবলম্বন করেছে, তাতে সামনে আরও রক্তপাত হবে।
দ্য ডিপ্লোম্যাট: এবার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আপনাদের সম্পর্ক নিয়ে কিছু বলুন। আপনারা ইতিমধ্যে বাংলাদেশের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সাধারণ ধারণা হলো, বিএনপি সরকার চরমপন্থী অবস্থান নেওয়া এড়িয়ে চলবে এবং আরাকানের বিষয়ে দ্বৈত নীতি অনুসরণ করবে—রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নিতে আরাকান আর্মিকে চাপ দেবে, পাশাপাশি রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও) এবং আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা)-র মতো রোহিঙ্গা জঙ্গি সংগঠনগুলোকে অস্ত্র সরবরাহ করবে। নতুন সরকারের কাছে আপনাদের প্রত্যাশা কী?
তোয়ান ম্রাত নাইং: আমাদের প্রত্যাশা হলো, একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করার জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে একত্রে কাজ করতে সক্ষম হওয়া। প্রথমত, এই অঞ্চলের বিদ্যমান পক্ষগুলোর ওপর মিথ্যা অভিযোগ চাপানোর পরিবর্তে তাদের ক্ষমতায়ন করতে হবে। 'আরাকান পিপলস রেভল্যুশনারি গভর্নমেন্ট'-কে ক্ষমতায়ন করা ছাড়া অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করা খুব কঠিন হবে। আমরা শরণার্থীদের প্রত্যাবর্তনের জন্য একটি অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করতে চাই। জনগণের সমস্যাগুলো সমাধান করাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। কিন্তু জঙ্গি সংগঠনগুলোর কার্যকলাপ আরও সমস্যা সৃষ্টি করবে। তবে আমরা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত।
দ্য ডিপ্লোম্যাট: মিয়ানমার সামরিক বাহিনী রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র দিয়েছে। সামরিক বাহিনী এখন আরও আক্রমণাত্মক হতে পারে। বাংলাদেশ সীমান্তে মংডুর খুব কাছেই আরএসও এবং আরসা-এর ক্যাম্প রয়েছে। আরাকান আর্মিকে যে দুটি ফ্রন্টে যুদ্ধ করতে হতে পারে, সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
তোয়ান ম্রাত নাইং: আমরা সেই পরিস্থিতি এড়াতে সবকিছু করব, কারণ এতে আমাদের কোনো লাভ হবে না। এটি বাংলাদেশের স্বার্থের অনুকূলেও হবে না।
দ্য ডিপ্লোম্যাট: আপনারা কি চান বাংলাদেশের সঙ্গে অবিলম্বে বাণিজ্য আবার শুরু হোক?
তোয়ান ম্রাত নাইং: হ্যাঁ। সীমান্তের দুই পারের অনেক ব্যবসায়ী ও সংগঠন বাণিজ্য আবার শুরু হওয়ার অপেক্ষায় আছে। বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ এবং সীমান্ত এলাকায় অনেক মানুষ ও সম্প্রদায় রয়েছে, বিশেষ করে জেলেরা, যারা সীমান্ত বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল। মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা মেনে নেওয়া হলে এই সমস্যাগুলো সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে সমাধান করা সম্ভব। এটি হয়ে গেলে, আমরাও ইতিবাচক সাড়া দেব। আমরা জেলেদের অনুমতি দেব এবং তাদের কার্যক্রমগুলো নিয়ন্ত্রণ করব।
দ্য ডিপ্লোম্যাট: বাংলাদেশে 'মানবিক করিডোর' (হিউম্যানিটারিয়ান করিডোর) বিষয়টি কী ছিল? যুক্তরাষ্ট্র কি সত্যিই এতে যুক্ত হতে আগ্রহী ছিল?
তোয়ান ম্রাত নাইং: আমার মনে হয় না যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই আগ্রহী ছিল। কেবল কিছু এনজিও এবং ব্যক্তি এতে আগ্রহী ছিল, আর সম্ভবত অন্যান্য কিছু বৈশ্বিক পক্ষ এই প্রকল্পে আগ্রহ দেখিয়েছিল। এই পরিকল্পনা নিয়ে গণমাধ্যমে প্রচুর মাতামাতি হয়েছিল। কিন্তু এটি বাস্তবসম্মত নয়, কারণ রাখাইন রাজ্যে যুদ্ধ চলছে। যুদ্ধক্ষেত্রে শরণার্থীদের ঠেলে দেওয়া কোনোভাবেই মানবিক নয়। এমনকি যুদ্ধের পরও, শরণার্থীদের ফিরে আসার জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ থাকতে হবে।
দ্য ডিপ্লোম্যাট: পাকিস্তান ও তুরস্ক কেন রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সাথে যুক্ত হচ্ছে?
তোয়ান ম্রাত নাইং: এটি বেশ উদ্বেগজনক এবং (রোহিঙ্গাদের মধ্যে চরমপন্থা) উসকে দেওয়ার অন্যতম একটি কারণ। এটি বাংলাদেশ এবং আমাদের—উভয় পক্ষের জন্যই খারাপ। আমরা আশা করি যে বিএনপি সরকার সঠিক নীতি ও পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। মাঝে মাঝে নীতি সঠিক হলেও তার বাস্তবায়ন ভুল পথে চলে যায়।
দ্য ডিপ্লোম্যাট: আপনি কি মনে করেন পাকিস্তান ভারতকে লক্ষ্যবস্তু করতে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করতে পারে?
তোয়ান ম্রাত নাইং: শরণার্থীদের অপব্যবহার করা হতে পারে এবং আমাদের সেদিকে নজর রাখতে হবে। ভারতের সঙ্গে আমাদের অভিন্ন নিরাপত্তা উদ্বেগ রয়েছে। এই অঞ্চলে জঙ্গিবাদ ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং তা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। আমরা আমাদের প্রতিবেশীদের সঙ্গে সহযোগিতায় প্রস্তুত।
দ্য ডিপ্লোম্যাট: ভারত সরকারের কাছে আপনাদের প্রত্যাশা কী?
তোয়ান ম্রাত নাইং: ভারত এই অঞ্চলের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র। আমরা ভারতকে আরও উন্নত এবং সফল দেখতে চাই। আমরা ভারতের সঙ্গে আরও বেশি সহযোগিতা করার আশা রাখি। কালাদান প্রকল্পে সাহায্য করতেও আমরা প্রস্তুত।
দ্য ডিপ্লোম্যাট: যুদ্ধ থামানোর জন্য আরাকান আর্মি চীনের তরফ থেকে প্রবল চাপের মধ্যে রয়েছে। আপনারা কীভাবে এর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন?
তোয়ান ম্রাত নাইং: এটা চাপ নয়, তবে চীন একটি স্থিতিশীল মিয়ানমার দেখতে আগ্রহী। কেউ কেউ একে চাপ বলতে পারে। চীনকে তার নিজের স্বার্থ রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে, যা প্রতিটি দেশই করে থাকে।
দ্য ডিপ্লোম্যাট: আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে রোহিঙ্গা, খুমি এবং চিন গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে প্রায়ই অভিযোগ তোলা হয় যে, আরাকান আর্মি জোরপূর্বক বাহিনীতে নিয়োগ করছে। এ বিষয়ে আপনার কী বলার আছে?
তোয়ান ম্রাত নাইং: কিছু মানুষ মানবাধিকার আইনকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। আপনি যদি এই অভিযোগগুলোর উৎস খতিয়ে দেখেন, তবে দেখবেন কিছু নির্দিষ্ট গোষ্ঠী, বিশেষ করে প্রবাসী অ্যাক্টিভিস্টরা এই ধরনের অভিযোগ তুলছে, কারণ এই ধরনের বয়ান থেকে তারা লাভবান হয়। চিনের মানবাধিকার কর্মীরা পুরো চিন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করে না। চিন রাজ্যের বেশিরভাগ চিন সম্প্রদায়ের সাথেই আমাদের খুব ভালো সম্পর্ক রয়েছে। আমরা একে অপরকে সাহায্য করি এবং আগামী দিনগুলোতে মুসলিম (রোহিঙ্গা) সম্প্রদায়ের সঙ্গেও আমাদের আরও ভালো সহযোগিতা তৈরি হবে। আমরা বিশ্বাস তৈরি করছি, যার জন্য সময় প্রয়োজন। পূর্ববর্তী সরকারের ভুল নীতির কারণেই এই অভিযোগগুলো উঠেছিল। আর জোরপূর্বক সেনা নিয়োগের বিষয়ে যদি বলি, রাখাইন রাজ্য এখন একটি যুদ্ধ পরিস্থিতি পার করছে এবং সেখানে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। সেনা নিয়োগের ক্ষেত্রে আমরা অত্যন্ত সতর্ক থাকি এবং যাকে নিয়োগ দেওয়া হয়, তাকে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য ভালোভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
দ্য ডিপ্লোম্যাট: আপনি স্পষ্ট করেছেন যে আরাকান আর্মি মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত নয়। কিন্তু মাত্র তিন দিন আগেই রাখাইন রাজ্যের মংডুর এক ব্যক্তিকে ভারতের মিজোরাম রাজ্যে বিপুল পরিমাণ সিনথেটিক মাদকসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আপনি কি মনে করেন না যে এটি আরাকানের জন্য একটি উদীয়মান চ্যালেঞ্জ?
তোয়ান ম্রাত নাইং: এটি একটি জটিল পরিস্থিতি। সামরিক শাসনের সময়ের তুলনায় রাখাইন রাজ্যে এখন মাদকের সমস্যা অনেক কম। মূল ভূখণ্ড থেকে আসার অনেকগুলো পথ এখন অবরুদ্ধ। সেখানে প্রচুর চেকপয়েন্ট রয়েছে। (মিয়ানমারে) মাদকের উৎপাদন এখন শিল্পের পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত মাসে শান রাজ্যে সবচেয়ে বড় মাদকের চালান ধরা পড়েছে। জান্তা সরকার সেসময় কিছু অর্থহীন অভিযোগ তুলেছিল। পুরো কারখানা এলাকাটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। অথচ তারা দীর্ঘদিন ধরেই ওই কারখানাটির অস্তিত্বের কথা জানত।
আমরা এটা বলতে পারি না যে রাখাইন রাজ্য থেকে মাদকের সমস্যা পুরোপুরি নির্মূল হয়ে গেছে। এখানে এখনও মাদকাসক্ত এবং পাচারকারী রয়েছে। মাছ ধরার নৌকাগুলো ক্রমাগত যাতায়াত করছে, আর আমরা জানি না তারা কী বহন করছে। রেঙ্গুন থেকে জাহাজগুলো বাংলাদেশের কক্সবাজার এবং চট্টগ্রামে যাচ্ছে। এই সমস্যাটি পুরোপুরি নির্মূল করতে সময় লাগবে।
দ্য ডিপ্লোম্যাট: গত কয়েকদিনে আমি মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তের কিছু গ্রাম পরিদর্শন করেছি এবং কিছু বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলেছি। রোহিঙ্গা নয় এমন গ্রামগুলো এবং কিছু রোহিঙ্গা গ্রাম আরসার ভয়ে সবসময় তটস্থ থাকে। আপনাদের সরকার এখানে নিজেদের অবস্থান এখনও সুসংহত করতে পারেনি। এই এলাকাগুলো নিয়ে আপনাদের পরিকল্পনা কী?
তোয়ান ম্রাত নাইং: বিষয়টি এত সহজ নয়। আমরা এই অঞ্চলের প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে, বিশেষ করে ম্রো-অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে সহায়তা প্রদান করছি। তাদের একটি অংশ মাদক পাচারের সাথে জড়িত। আমরা এমন খবরও পাচ্ছি যে তাদের মধ্যে কেউ কেউ আরসার সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। অনেকেই অভ্যন্তরীণ সংঘাতে নিহত হয়েছে, যা খুব একটা আশ্চর্যজনক নয়। মংডু মুক্ত হওয়ার আগে, সামরিক বাহিনী এবং দিল মোহাম্মদের মতো মাদক সম্রাটরা মাদক পাচারে খুব সক্রিয় ছিল। আমরা এখন ওই অঞ্চলের দিকে মনোযোগ দিচ্ছি, যাতে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য আরও ভালো নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
দ্য ডিপ্লোম্যাট: সেখানে ডাক্তার ও ওষুধেরও তীব্র সংকট রয়েছে। অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের অবস্থা খুবই হতাশাজনক।
তোয়ান ম্রাত নাইং: আমরা এই সমস্যাগুলোর সমাধানে কাজ করছি এবং স্বাস্থ্যসেবাসহ অন্যান্য পরিষেবার উন্নতি করার চেষ্টা করছি। আমরা আরও সরঞ্জাম সংগ্রহ, ওষুধের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং আরও ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছি। আমরা রাখাইন রাজ্যে একটি মেডিকেল কলেজ ও নার্সিং একাডেমি খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং এই উদ্যোগগুলো নিয়ে আমরা খুবই উচ্ছ্বসিত। এ বছর ১২০ জন নার্সকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। বর্তমানে আমাদের ৫০-৬০ জন ডাক্তার আছেন এবং আশা করছি শিগগিরই আরও অনেকেই আমাদের সঙ্গে যোগ দেবেন। ডাক্তার এবং নার্সদের অতীত পটভূমি বা জাতিসত্তা নিয়ে আমরা ভাবি না। ভারতীয় ডাক্তারসহ যে কেউ আমাদের সঙ্গে যোগ দিতে চাইলে আমরা তাদের স্বাগত জানাব।
দ্য ডিপ্লোম্যাট: আগামী মাসগুলোতে ‘বসন্ত বিপ্লব’ থেকে আপনারা কী প্রত্যাশা করছেন?
তোয়ান ম্রাত নাইং: বসন্ত বিপ্লবের পরিণতি নির্ধারণে কেবল আরাকান আর্মির প্রত্যাশাই যথেষ্ট নয়। আমাদের বার্মিজ মূল ভূখণ্ডের জনগণ, তাদের সমস্যা এবং স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনায় নিতে হবে। আমরা তাদের পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণ সম্মান করি। তাদের সঙ্গে আমাদের আন্তরিক সম্পর্ক রয়েছে এবং আমরা সমমনা সংগঠনগুলোকেও সাহায্য করেছি।
দ্য ডিপ্লোম্যাট: আগামী দুই বছরে আরাকানের সার্বিক পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে বলে আপনার মনে হয়?
তোয়ান ম্রাত নাইং: আমি চাই মানুষের এই দুর্ভোগের যত দ্রুত সম্ভব অবসান হোক এবং একটি বাস্তবসম্মত ও স্থায়ী সমাধান খুঁজে পাওয়া যাক। মিয়ানমারের জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য আমাদের সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্যও প্রস্তুত থাকতে হবে।

ইস্তাম্বুলে আয়োজিত সাহা এক্সপো ২০২৬ সামরিক প্রদর্শনীতে তুরস্ক তাদের প্রথম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল ‘ইলদিরিমহান’ উন্মোচনের মাধ্যমে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছে।
৩২ মিনিট আগে
ইতিহাসবিদদের একধরনের নিজস্ব প্রতিরক্ষা-ব্যবস্থা থাকে। তাই তারা জানেন, প্রতিটি ইতিহাসেরই আবার নিজস্ব ইতিহাস আছে। ফলে তারা সহজে বিস্মিত হন না। এবারের পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের ফলাফল ব্যাপকভাবে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) পক্ষে গেছে।
২ ঘণ্টা আগে
বর্তমানে ইটভাটার সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। এই সব ইটভাটায় কাজ করছে প্রায় ২৫ লাখ শ্রমিক। গত ৭ বছরে কাজ হারিয়েছে প্রায় ৬ লাখ শ্রমিক। সরকারকে বেকার শ্রমিকদের নিয়েও ভাবতে হবে। অবৈধ ইটভাটা বন্ধের সাথে সাথে শ্রমিকদের বিকল্প কর্মসংস্থান করা যায় কিনা তা সরকারকে নজরে আনতে হবে।
৬ ঘণ্টা আগে
গণজাগরণ মঞ্চ নামটা মূলত আন্দোলনের পরের দিকে এসেছে। শাহবাগের এই আন্দোলনের পেছনে একটি দীর্ঘ পটভূমি রয়েছে। অধিকাংশ মানুষ একে ১৯৯২ সালে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলনের সাথে রিলেট করেন। তবে ২০১৩-এর সেই জেনারেশনের প্রস্তুতির পটভূমিটি নতুন করে শুরু হয়েছিল মূলত ২০০১ সালে।
২১ ঘণ্টা আগে