স্ট্রিম সংবাদদাতা

দেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বাবা বাড়ি দিনাজপুর শহরের পৌর এলাকার বালুবাড়িতে। বাবা ইস্কান্দার মজুমদার ও মা তৈয়বা মজুমদারের পাঁচ সন্তানের মধ্যে তিনি তৃতীয়। তাঁর মায়ের নাম অনুযায়ী বাড়ির নাম ‘তৈয়বা ভিলা’। এই বাড়িতেই কেটেছে তাঁর শৈশব ও কৈশোরের দিনগুলো। বর্তমানে বাড়িটিতে তাঁর পরিবারের কেউ থাকেন না। তারপরও আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) তাঁর মৃত্যুর খবরে এই বাড়িতে ছুটে এসেছিলেন দলের নেতাকর্মী ও আশপাশের লোকজন।
খালেদা জিয়ার খালাতো ভাই আবু তাহের আবু বলেন, “তিনি (খালেদা জিয়া) ছিলেন আমাদের অভিভাবক। নিজের আত্মীয়-স্বজনের সাথে তিনি ছিলেন খুবই আন্তরিক। নিকট আত্মীয়দের তিনি ‘তুই’ করে বলতেন।” আবু তাহের জানান, সর্বশেষ ২০১২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর একবার দিনাজপুর গোর-এ-শহীদ ময়দানে এক জনসভায় এসেছিলেন খালেদা জিয়া। এর আগে ২০০৮ সালে মায়ের মৃত্যুর সময় একবার দিনাজপুরে এসেছিলেন তিনি।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তাঁর জন্ম জেলা দিনাজপুরে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। আজ সকাল থেকেই শহরের জেল রোডে অবস্থিত দলীয় কার্যালয়ে ছুটে আসেন নেতাকর্মীরা। দলীয় কার্যালয়ে ও বালুবাড়ির পৈতৃক নিবাসে আয়োজন করা হয় কোরআন তেলাওয়াতের। জেলার সর্বত্র চলছে নানা স্মৃতিচারণ ও আলোচনা।
পারিবারিক স্মৃতিচারণ করে আবু তাহের বলেন, “১৯৯১ সালের তিনি (খালেদা জিয়া) যখন প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দিনাজপুরে এলেন, এসে আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন– কিরে পটল কেমন আছিস? (তিনি আদর করে আমাকে ‘পটল’ বলে ডাকতেন)। আমার বিয়ের পর যখন আমি তাঁর ক্যান্টনমেন্টের বাসায় যাই, তখন সেখানে কাঁঠাল গাছে একটি বড় কাঁঠাল ঝুলছিল। সেটি দেখিয়ে তিনি আমাকে বলেন– দেখতো, কাঁঠালটা তোর সমান হয় কি না। তিনি বাসায় এলে সবার কথা শুনতেন।”

দিনাজপুরেই পাঁচ বছর বয়সে দিনাজপুর মিশন স্কুলে শিক্ষাজীবন শুরু হয় খালেদা জিয়ার। এরপর ১৯৬০ সালে ভর্তি হন দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে। সেখান থেকেই পাস করেন ম্যাট্রিকুলেশন। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক নাজমা ইয়াসমিন বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া দিনাজপুরের গর্ব, দেশের গর্ব। আমরা গর্ব করে বলি, তিনি এই বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেছেন। প্রথম নারী হিসেবে দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশ আজকে একজন অভিভাবক হারালো।’
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নিজের জন্মস্থান দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য (এমপি) প্রার্থী হয়েছিলেন খালেদা জিয়া। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য গত রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) জেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ দলীয় নেতাকর্মীরা তাঁর পক্ষে মনোনয়নপত্র জমাও দিয়েছিলেন। দলের চেয়ারপার্সন অংশগ্রহণের কথা শুনে সব বিভেদ ভুলে একাট্টা হয়েছিলেন নেতাকর্মীরা। নিজ নিজ জায়গা থেকে প্রিয় নেত্রীর পক্ষে প্রচারও চালিয়েছেন তাঁরা। দলীয় নেত্রীর মৃত্যুতে তাঁদের মধ্যে এখন শোকে ছাপ।
জেলা বিএনপির সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন দুলাল বলেন, ‘বাংলাদেশের অবিসংবাদিত আপসহীন নেত্রীকে হারিয়ে দেশ আজ একজন অভিভাবককে হারালো। এই শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়। তিনি অসুস্থ হওয়ার কয়েকদিন আগে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে সর্বশেষ প্রিয় নেত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেছি। বরাবরের মতোই তাঁর শিশুসুলভ আচরণ দেখেছি। দিনাজপুরের মানুষ তাঁকে প্রার্থী হিসেবে পেয়ে ভীষণ উচ্ছ্বসিত ছিলেন। জাতির বড় প্রয়োজনের সময় আমরা তাঁকে হারালাম। এই দেশ এই জাতির ইতিহাসে তিনি কিংবদন্তি।’
খালেদা জিয়ার মৃত্যু দল ও দিনাজপুরবাসীর জন্য অপূরণীয় ক্ষতি উল্লেখ করে জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মোকাররম হোসেন বলেন, ‘আমরা আমাদের অভিভাবককে হারিয়ে বাগরুদ্ধ হয়ে পড়েছি। দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী সবাই শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছে। জেলার সব এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা তাঁর জানাজায় শরিক হওয়ার জন্য রাজধানীর পথে রওয়ানা দিতে শুরু করেছে।’
খালেদা জিয়ার জন্ম ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট তৎকালীন দিনাজপুর জেলার জলপাইগুড়িতে। ছোটবেলায় তাঁর ডাক নাম ছিল খালেদা খানম পুতুল। ১৯৬০ সালে জিয়াউর রহমানকে বিয়ের পর থেকে খালেদা জিয়া নামে পরিচিতি লাভ করেন। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর ১৯৮৩ সালে বিএনপির নেতৃত্বভার গ্রহণ করেন তিনি। এরপর ১৯৯১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত তিনবার দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
চলতি বছরের ২৩ নভেম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল খালেদা জিয়াকে। টানা ৩৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টার দিকে মারা যান ‘গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী’ খ্যাত খালেদা জিয়া।

দেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বাবা বাড়ি দিনাজপুর শহরের পৌর এলাকার বালুবাড়িতে। বাবা ইস্কান্দার মজুমদার ও মা তৈয়বা মজুমদারের পাঁচ সন্তানের মধ্যে তিনি তৃতীয়। তাঁর মায়ের নাম অনুযায়ী বাড়ির নাম ‘তৈয়বা ভিলা’। এই বাড়িতেই কেটেছে তাঁর শৈশব ও কৈশোরের দিনগুলো। বর্তমানে বাড়িটিতে তাঁর পরিবারের কেউ থাকেন না। তারপরও আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) তাঁর মৃত্যুর খবরে এই বাড়িতে ছুটে এসেছিলেন দলের নেতাকর্মী ও আশপাশের লোকজন।
খালেদা জিয়ার খালাতো ভাই আবু তাহের আবু বলেন, “তিনি (খালেদা জিয়া) ছিলেন আমাদের অভিভাবক। নিজের আত্মীয়-স্বজনের সাথে তিনি ছিলেন খুবই আন্তরিক। নিকট আত্মীয়দের তিনি ‘তুই’ করে বলতেন।” আবু তাহের জানান, সর্বশেষ ২০১২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর একবার দিনাজপুর গোর-এ-শহীদ ময়দানে এক জনসভায় এসেছিলেন খালেদা জিয়া। এর আগে ২০০৮ সালে মায়ের মৃত্যুর সময় একবার দিনাজপুরে এসেছিলেন তিনি।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তাঁর জন্ম জেলা দিনাজপুরে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। আজ সকাল থেকেই শহরের জেল রোডে অবস্থিত দলীয় কার্যালয়ে ছুটে আসেন নেতাকর্মীরা। দলীয় কার্যালয়ে ও বালুবাড়ির পৈতৃক নিবাসে আয়োজন করা হয় কোরআন তেলাওয়াতের। জেলার সর্বত্র চলছে নানা স্মৃতিচারণ ও আলোচনা।
পারিবারিক স্মৃতিচারণ করে আবু তাহের বলেন, “১৯৯১ সালের তিনি (খালেদা জিয়া) যখন প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দিনাজপুরে এলেন, এসে আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন– কিরে পটল কেমন আছিস? (তিনি আদর করে আমাকে ‘পটল’ বলে ডাকতেন)। আমার বিয়ের পর যখন আমি তাঁর ক্যান্টনমেন্টের বাসায় যাই, তখন সেখানে কাঁঠাল গাছে একটি বড় কাঁঠাল ঝুলছিল। সেটি দেখিয়ে তিনি আমাকে বলেন– দেখতো, কাঁঠালটা তোর সমান হয় কি না। তিনি বাসায় এলে সবার কথা শুনতেন।”

দিনাজপুরেই পাঁচ বছর বয়সে দিনাজপুর মিশন স্কুলে শিক্ষাজীবন শুরু হয় খালেদা জিয়ার। এরপর ১৯৬০ সালে ভর্তি হন দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে। সেখান থেকেই পাস করেন ম্যাট্রিকুলেশন। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক নাজমা ইয়াসমিন বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া দিনাজপুরের গর্ব, দেশের গর্ব। আমরা গর্ব করে বলি, তিনি এই বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেছেন। প্রথম নারী হিসেবে দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশ আজকে একজন অভিভাবক হারালো।’
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নিজের জন্মস্থান দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য (এমপি) প্রার্থী হয়েছিলেন খালেদা জিয়া। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য গত রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) জেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ দলীয় নেতাকর্মীরা তাঁর পক্ষে মনোনয়নপত্র জমাও দিয়েছিলেন। দলের চেয়ারপার্সন অংশগ্রহণের কথা শুনে সব বিভেদ ভুলে একাট্টা হয়েছিলেন নেতাকর্মীরা। নিজ নিজ জায়গা থেকে প্রিয় নেত্রীর পক্ষে প্রচারও চালিয়েছেন তাঁরা। দলীয় নেত্রীর মৃত্যুতে তাঁদের মধ্যে এখন শোকে ছাপ।
জেলা বিএনপির সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন দুলাল বলেন, ‘বাংলাদেশের অবিসংবাদিত আপসহীন নেত্রীকে হারিয়ে দেশ আজ একজন অভিভাবককে হারালো। এই শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়। তিনি অসুস্থ হওয়ার কয়েকদিন আগে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে সর্বশেষ প্রিয় নেত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেছি। বরাবরের মতোই তাঁর শিশুসুলভ আচরণ দেখেছি। দিনাজপুরের মানুষ তাঁকে প্রার্থী হিসেবে পেয়ে ভীষণ উচ্ছ্বসিত ছিলেন। জাতির বড় প্রয়োজনের সময় আমরা তাঁকে হারালাম। এই দেশ এই জাতির ইতিহাসে তিনি কিংবদন্তি।’
খালেদা জিয়ার মৃত্যু দল ও দিনাজপুরবাসীর জন্য অপূরণীয় ক্ষতি উল্লেখ করে জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মোকাররম হোসেন বলেন, ‘আমরা আমাদের অভিভাবককে হারিয়ে বাগরুদ্ধ হয়ে পড়েছি। দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী সবাই শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছে। জেলার সব এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা তাঁর জানাজায় শরিক হওয়ার জন্য রাজধানীর পথে রওয়ানা দিতে শুরু করেছে।’
খালেদা জিয়ার জন্ম ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট তৎকালীন দিনাজপুর জেলার জলপাইগুড়িতে। ছোটবেলায় তাঁর ডাক নাম ছিল খালেদা খানম পুতুল। ১৯৬০ সালে জিয়াউর রহমানকে বিয়ের পর থেকে খালেদা জিয়া নামে পরিচিতি লাভ করেন। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর ১৯৮৩ সালে বিএনপির নেতৃত্বভার গ্রহণ করেন তিনি। এরপর ১৯৯১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত তিনবার দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
চলতি বছরের ২৩ নভেম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল খালেদা জিয়াকে। টানা ৩৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টার দিকে মারা যান ‘গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী’ খ্যাত খালেদা জিয়া।

সরকার ২০২৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ঘোষণা করেছে। এতে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের মর্যাদা পেয়েছে সাঁতাও। সেরা অভিনেতা আফরান নিশো এবং সেরা অভিনেত্রী হিসেবে আইনুন নাহার পুতুল জায়গা করে নিয়েছেন।
৩ ঘণ্টা আগে
দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে সাংবাদিক নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সহজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ডিজিটাল পদ্ধতিতে না গিয়ে কমিশন আগের মতো ম্যানুয়ালি নিবন্ধন করবে।
৩ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটের শরিক প্রার্থীদের সমর্থনে সাতটি আসনে নিজেদের দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রত্যাহারের আবেদন করেছিল জামায়াতে ইসলামী। তবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের পর প্রতীক প্রত্যাহারের কোনো সুযোগ নেই।
৪ ঘণ্টা আগে
গণভোটের বিষয়গুলো অনুমোদন পেলে রাজনৈতিক দলগুলো জনতার প্রশ্নের মুখে পড়বে এবং সংস্কারের সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ড. আলী রিয়াজ। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘পুরাতন বন্দোবস্তে ভাঙন, সংস্কার এবং গণতন্ত্রের পুনর্ভাবনা: ক্রান্তিকালে দুঃসহ পথচলা’
৪ ঘণ্টা আগে