জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে নবীন শিক্ষার্থীদের র্যাগিংয়ের অভিযোগ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শহীদ সালাম-বরকত হলে সিনিয়রদের বিরুদ্ধে প্রথম বর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের র্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় হলের বি-ব্লকের ১৫১ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে হল প্রশাসন বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।
এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন গণিত বিভাগের ৫৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী হাশিবুর রহমান, নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৫৪ ব্যাচের রাকিব এবং আইন ও বিচার বিভাগের ৫৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী আরাফাত হোসেন মিলন। মিলন জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগে ৫৪ ব্যাচের ছাত্র ছিলেন। তিনি পুনরায় ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে আইন ও বিচার বিভাগে ৫৫ ব্যাচে ভর্তি হন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, তাঁদের যৌন অসদারচরণ, অশ্লীল শব্দ প্রয়োগ, অপসংস্কৃতি ও শারিরীকভাবে হেনস্তা করা হয়।
গণিত বিভাগের ৫৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী হাশিবুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ঘটনার সময় আমি নিজ রুমে পড়ছিলাম। পরে রুমের বাইরে বের হলে ৫৫ ব্যাচের এক জুনিয়রের সঙ্গে কথা হয়। পরে পাশের ১৫০ ও ১৫১ নম্বর রুমে থাকা ৫৪ ব্যাচের জুনিয়রদের সঙ্গে হলের ওয়াইফাই নিয়ে আলোচনা করি। এরপর সবাই নিজ নিজ রুমে ফিরে যাই। অভিযোগে বর্ণিত কোনো র্যাগিং বা অসদাচরণের ঘটনায় আমি জড়িত ছিলাম না।
আইন ও বিচার বিভাগের ৫৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী আরাফাত হোসেনও বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, আমি র্যাগের সঙ্গে জড়িত না। আমি রুমের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলাম। তখন রুম থেকে আওয়াজ শুনতে পাই। কি হচ্ছে দেখতে আমি ভিতরে যাই। একটু পরই হল প্রশাসন রুমে আসে। আমি কোন ফাপড় বা র্যাগ দেইনি।
আরেক অভিযুক্ত নৃবিজ্ঞান বিভাগের রাকিবের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
সার্বিক বিষয়ে শহীদ সালাম-বরকত হলের প্রভোস্ট মোহাম্মদ আব্দুল হালিম স্ট্রিমকে বলেন, খবর পেয়ে আমরা সেই রুমে যাই। প্রথম বর্ষের পাঁচ-ছয়জন শিক্ষার্থীকে কিছুটা আতঙ্কিত অবস্থায় দেখতে পাই। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, এটা হলের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। তাই হল প্রশাসনই তদন্ত কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা নিবে।
.png)






